kalerkantho

রবিবার । ২৬ মে ২০১৯। ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ২০ রমজান ১৪৪০

স্বাগতিকদের জয়ে শুরু বঙ্গমাতা গোল্ড কাপ

ক্রীড়া প্রতিবেদক   

২৩ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



স্বাগতিকদের জয়ে শুরু বঙ্গমাতা গোল্ড কাপ

বাংলাদেশের মেয়েদের এ উৎসব স্বপ্নার গোলের পর। শেষ পর্যন্ত আমিরাতকে ২-০ গোলে হারিয়েছে স্বাগতিকরা। ছবি : মীর ফরিদ

গোলের হুল্লোড় তুলে শুরুটা হয়নি বলেই যা একটু আক্ষেপ। নইলে বাংলাদেশের মেয়েদের পায়ে বঙ্গমাতা গোল্ড কাপের শুরুটা হয়েছে জয়ে। অনূর্ধ্ব-১৯ আন্তর্জাতিক ফুটবলের উদ্বোধনী ম্যাচে স্বাগিতক দল ২-০ গোলে আরব আমিরাতকে হারিয়ে ফেভারিটের মতোই শুরু করেছে। গোলের জায়গায় হিসাব না মিললেও মাঠের খেলায়, আধিপত্যে তারা অতুলনীয়।

বাংলাদেশ কোচ গোলাম রব্বানী ছোটনও জয়ে খুশি, খেলায় খুশি কিন্তু গোলের সংখ্যায় নয়। তিনি বুঝতে পারছেন গোলটা বড় কম হয়ে গেছে। কোচ এটিকে ফরোয়ার্ড লাইনের দুর্বলতা হিসেবেই ব্যাখ্যা করেছেন, ‘ফিনিশিং নিয়ে আরো কাজ করতে হবে। তারা যতটা ওপেন করেছে, তার চেয়ে গোলসংখ্যা অনেক কম।’ আসলে গোলসংখ্যায় চেনা যায়নি স্বাগতিকদের। বয়সভিত্তিক ফুটবলে তাদের ট্রেডমার্কই গোল উৎসবে। কাল বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের হাজার পাঁচেক দর্শককে সে রকম উৎসবে  রাঙাতে পারেননি মনিকা-মৌসুমীরা। একচেটিয়া খেলেও তাঁরা অ্যাটাকিং থার্ডে গিয়ে পারেননি নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে। তাঁদের বাঁদিকটা ছিল দারুণ ধারালো, শামসুন্নাহার ও কৃষ্ণা মিলে সব সময় আতঙ্কে রেখেছিলেন আরব আমিরাতকে। দুজন মিলে এতবার ডিফেন্সে হানা দিয়ে গোলের সুযোগ তৈরি করেও কাজের কাজটি করতে পারেননি। দুই গোল করলেও যেন গোলের জায়গাতেই একটু খামতি। এর পরও তাঁদের ড্রিবলিং ও পাসিং ফুটবলে স্বাগতিক দর্শকদের চোখ রাঙিয়েছে। আসলে এসব কারিকুরিতে মৌসুমীরা অনেকখানি এগিয়ে।

খেলা শুরু হতে না হতেই অফসাইডের হিড়িক লেগে যায়। বারবার বাংলাদেশের অগ্রগতি আটকে যাচ্ছে অফসাইডের ফাঁদে। স্বপ্না খুবই ক্ষিপ্রগতির, তাঁর সঙ্গে টাইমিং হচ্ছিল না সতীর্থদের। তাতে ১১ মিনিটের মধ্যে তিন-তিনবার অফসাইডের ফাঁদে আটকে থামতে হয় এই বাংলাদেশি ফরোয়ার্ডকে। ১২ মিনিটে রক্ষণ থেকে পাঠানো আঁখির লং বলে আর ভুল করেননি। সময়মতো লাইন থেকে বেরিয়ে স্বপ্না বাঁ পায়ে গোলরক্ষকের পাশ দিয়ে বল আরব আমিরাতের জালে পৌঁছে দিয়ে এগিয়ে নেন বাংলাদেশকে। দুই মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুযোগটি নষ্ট করেন কৃষ্ণা। ডান দিক থেকে মৌসুমীর স্কয়ার বলে তিনি পা ছোঁয়াতে পারেননি। কয়েক মিনিট বাদে স্বপ্নাও বল তুলে দেন সোজা গোলরক্ষকের হাতে। শেষ পর্যন্ত মনিকার কর্নার কিকে ৩০ মিনিটে কৃষ্ণার চমৎকার হেড স্বাগতিকদের এগিয়ে দেয় ২-০ গোলে।

দুর্ভাগ্য হলো, এই স্কোরলাইন ম্যাচে বাংলাদেশের একাধিপত্যের কথা বলছে না। খেলায় যথেষ্ট এগিয়ে স্বপ্না-মনিকারা। মাঝমাঠ থেকে গুছিয়ে আক্রমণে উঠতে জানেন তাঁরা। বাড়ানো থ্রু বলে গোলমুখ খুলতে পারেন। দুই প্রান্ত থেকে বল পাঠিয়েও কাঁপিয়ে দিতে পারেন রক্ষণ। পারেন না শুধু সেই সুন্দর আক্রমণকে গোলে রূপ দিতে। ৪৭ মিনিটে যেমন কৃষ্ণার দুর্দান্ত থ্রু বলে হাতছানি ছিল তৃতীয় গোলের, কিন্তু স্বপ্না বল নিয়ে এগিয়ে গিয়েও নিরীহ শটে বল তুলে দিয়েছেন আমিরাত গোলরক্ষকের হাতে। হয় ফরোয়ার্ডের প্লেসিংয়ে সুন্দর ফিনিশ হবে নয়তো জোরালো শটে বার কাঁপিয়ে দেবে। গোলার মতো শট দেখা গেছে ৭৩ মিনিটে মার্জিয়ার পায়ে, তাতেই কঠিন চ্যালেঞ্জে পড়েছিলেন আমিরাত গোলরক্ষক। তাঁর কৃতিত্ব দ্বিতীয়ার্ধে পোস্ট অক্ষত রাখতে পারায়। বয়সভিত্তিক পর্যায়ে এর আগে তিন ম্যাচে ১৭ গোল করলেও এই ম্যাচে মাত্র দুই গোল খাওয়াটাকে তাঁদের কোচও উন্নতি হিসেবে ভাবছেন। বাংলাদেশের কোচিং স্টাফের চোখে এটা ঠিক অবনতি নয়, একটু ‘ফাইন টিউনিং’-এর দরকার আছে শুধু। সেটি হলেই স্বপ্না-কৃষ্ণা-মার্জিয়াদের পায়ে গোলের মিছিল শুরু হবে। আর বাংলাদেশ ফিরে পাবে তাদের গোলের ‘ট্রেডমার্ক।’

বাংলাদেশ দল : রূপনা চাকমা, শিউলি আজিম, শামসুন্নাহার, নার্গিস খাতুন, মনিকা চাকমা, সানজিদা আক্তার (মার্জিয়া), মিশরাত জাহান মৌসুমী, সিরাত জাহান স্বপ্না (সাজেদা খাতুন), কৃষ্ণা সরকার, মারিয়া মান্ডা, (সিরাত জাহান রত্না), আঁখি খাতুন।

 

মন্তব্য