kalerkantho

শুক্রবার । ২৪ মে ২০১৯। ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৮ রমজান ১৪৪০

‘রঙ্গের দুনিয়া’ ছেড়ে বহু দূরে অমর পাল

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২১ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘রঙ্গের দুনিয়া’ ছেড়ে বহু দূরে অমর পাল

থেমে গেল কিংবদন্তি শিল্পী অমর পালের কণ্ঠ। ‘কতই রঙ্গ দেখি দুনিয়ায়/ও ভাইরে ও ভাই/কতই রঙ্গ দেখি দুনিয়ায়/আমি যেই দিকেতে চাই/দেখে অবাক বনে যাই’—গানটি আজও শহর, গ্রাম সবখানেই মানুষের মুখে মুখে ঘোরে। সত্যজিৎ রায়ের ‘হীরক রাজার দেশে’ ছবিতে গাওয়া অমরের এ গান তাঁকে চিরস্মরণীয় করেছে।

গতকাল সকালেও ছাত্র-ছাত্রীদের গানের ক্লাস করিয়েছেন অমর। দুপুরে বাড়িতে সেরিব্রাল অ্যাটাক হয় এই সুরকারের। নিয়ে যাওয়া হয় কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে। অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়। স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ৫০ মিনিট নাগাদ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। প্রবাদপ্রতিম এই সংগীতশিল্পীর বয়স হয়েছিল ৯৭ বছর। তাঁর প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে।

শিল্পী অমর পাল ১৯২২ সালের ১৯ মে বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। মা দুর্গাসুন্দরী দেবীর কাছে লোকসংগীতে হাতেখড়ি তাঁর। ১০ বছর বয়সে বাবাকে হারিয়ে সংসারের দায়ভার কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন। আট বছর উচ্চাঙ্গসংগীতের তালিম নেন ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর ছোট ভাই আয়েত আলী খাঁর কাছে। দেশভাগের পর ১৯৪৮ সালে তিনি কলকাতায় চলে যান। ব্রাহ্মণবাড়িয়া, তিতাসের পার ছেড়ে গেলেও তিনি এখানকার মেঠো সুর ভোলেননি। কলাকাতায় গিয়ে সুরেন চক্রবর্তী, মণি চক্রবর্তী ও ননীগোপাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো বিখ্যাত লোকসংগীত শিল্পীর কাছে শিক্ষালাভ করেন অমর। নিজে বহু লোকসংগীত রচনা করলেও বাউল, টুসু, মনসা থেকে ভাটিয়ালির কথা ও সুরকে ভোলেননি তিনি।

অমরের কণ্ঠে অনেক গানের রেকর্ড প্রকাশিত হয়েছে। বহু চলচ্চিত্রে কণ্ঠ দেন তিনি। সত্যজিৎ রায়, দেবকী কুমার বসু থেকে ঋতুপর্ণ ঘোষ—বাংলা ছবির সেকাল থেকে একাল পর্যন্ত বিচ্ছুরণ ঘটেছে তাঁর প্রতিভার। প্রভাতী সংগীত, ভাটিয়ালি গান গেয়েও তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। এ ছাড়া বাংলা থিয়েটারের সঙ্গেও ছিল তাঁর নিবিড় যোগাযোগ।

অমর পালের গাওয়া জনপ্রিয় গানের মধ্যে আছে ‘প্রভাত সময়ে’, ‘জাগো হে এ নগরবাসী’, ‘প্রভাতে গোবিন্দ নাম’, ‘রাই জাগো গো’, ‘ভারতী গৌরাঙ্গ লইয়া’, ‘হরি দিন তো গেল’, ‘মন রাধে রাধে’, ‘বৃন্দাবন বিলাসিনী’, ‘জাগিয়া লহো কৃষ্ণ নাম’, ‘আমার গৌর কেনে’, ‘আমি কোথায় গেলে’ ইত্যাদি।

অমর পাল ভারত সরকারের সংগীত-নাটক আকাদেমি পুরস্কার, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের লালন পুরস্কার ও সংগীত মহাসম্মান অর্জন করেছেন। বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্মানিক ডি-লিট উপাধিও পেয়েছেন এই গুণী শিল্পী। এ ছাড়া দেশ-বিদেশের বহু সম্মানে ভূষিত হয়েছেন তিনি।

মন্তব্য