kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৩ মে ২০১৯। ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৭ রমজান ১৪৪০

সেবা নয়, বাণিজ্যে ব্যস্ত কেডিএ

আন্দোলনে ‘সম্মিলিত নাগরিক সমাজ’

খুলনা অফিস   

২১ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সেবা নয়, বাণিজ্যে ব্যস্ত কেডিএ

খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কেডিএ) বিরুদ্ধে দুর্নীতিসহ নানা ধরনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীরা বলছেন, সেবার নামে প্রতিষ্ঠানটি মানুষকে প্রতিনিয়ত হয়রানি করছে। এদিকে এসব অভিযোগে কেডিএ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেমেছে নগরীর একাধিক সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠন। গতকাল শনিবারও ‘সম্মিলিত নাগরিক সমাজ’ এর ব্যানারে মানববন্ধন ও সমাবেশ হয়েছে শহরে।

সম্মিলিত নাগরিক সমাজ খুলনার আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, সরকার নিয়ন্ত্রণাধীন সেবাধর্মী এ প্রতিষ্ঠানটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। প্লট বরাদ্দ, হস্তান্তর ফি ও ফরমের মূল্য বৃদ্ধি করে প্রতিনিয়ত মানুষকে হয়রানি করছে তারা।

কেডিএ কর্তৃপক্ষ বলছে, তারা অন্যায়ভাবে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ কিংবা বাস্তবায়ন করছে না। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে কিছু ফি ও ভ্যাট বাড়ানো হয়েছে এবং অন্যান্য এলাকার চেয়ে তা তুলনামূলক কম। কিন্তু নাগরিক সংগঠনের নেতারা বলছেন, নকশা অনুমোদনের ক্ষেত্রে কেডিএ নিত্যনতুন আইন প্রণয়নসহ বিভিন্ন ফি বাড়ানোয় মানুষ ভোগান্তিতে পড়ছে।

অ্যাডভোকেট মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, গত কয়েক মাস ধরে সংস্থাটি ২০ ফুট রাস্তা না থাকলে বাড়ি তৈরির নকশার অনুমোদন দিচ্ছে না। হঠাৎ করে ১২ ফুটের জায়গা থেকে ২০ ফুট করায় সাধারণ মানুষ বিপাকে পড়েছে। বর্তমানে নকশা অনুমোদনের শত শত ফাইল কেডিএতে আটকা রয়েছে। অন্যদিকে প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা মাত্র সোয়া তিন মিটার প্রশস্ত সড়ক থাকলেও বাড়ির অনুমোদন দিচ্ছেন।

অভিযোগকারীরা বলছেন, শুধু নকশা অনুমোদন নিয়েই জটিলতা নয়। প্লট হস্তান্তরের ক্ষেত্রেও মানুষ বিপাকে পড়েছে। আগে যেখানে সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকার প্রথম ও দ্বিতীয় ফেজে কেডিএর প্লট হস্তান্তর করতে ব্যয় হতো দুই লাখ ৬৫ হাজার টাকা। সেখানে বর্তমানে ধরা হয়েছে ২৫ লাখ টাকা। একইভাবে নিরালা ও এমএ বারী সড়কে আড়াই লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছে ২০ থেকে ৩৫ লাখ টাকা।

এ ছাড়া কেডিএ ২০০৯ সালে নতুন সেবা ফি চালু করে। আবাসিক এলাকায় পাঁচ-ছয় কাঠা জমির ফরমের মূল্যের সঙ্গে ১৫ শতাংশ ভ্যাট, বাণিজ্যিক এলাকায় পাঁচ-ছয় কাঠা জমির ফরমের সঙ্গে ১৫ শতাংশ, ক্ষুদ্র শিল্প এলাকায় পাঁচ-ছয় কাঠা জমির ফরমের সঙ্গে ১৫ শতাংশ এবং বৃহৎ শিল্প এলাকায় পাঁচ-ছয় কাঠা জমির ফরমের মূল্যের সঙ্গে ১৫ শতাংশ ভ্যাট যোগ করা হয়েছে। অন্যদিকে নিউ মার্কেট দোকান মালিকদের সঙ্গে চুক্তি শেষ হওয়ার আগেই কেডিএ দুই থেকে তিন গুণ ভাড়া বাড়ানোর নোটিশ দিয়েছে।

জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আইয়ুব আলী বলেন, সেবা বলতে খুলনার মানুষ কেডিএর কাছ থেকে কিছুই পাচ্ছে না। এই প্রতিষ্ঠানের অধীনে থাকা খুলনার কোনো সড়কই চলাচলের যোগ্য নয়। তাই মানুষ তাদের হাত থেকে বাঁচতে চায়।

এদিকে গতকালের কর্মসূচি সম্পর্কে অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা আমাদের দাবি নিয়ে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন করছি। কেডিএকে সেবামূলক ও জনবান্ধব প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখতে চাই। পাশাপাশি এসব অনিয়ম বন্ধ করতে হবে। আগামী ২৭ এপ্রিল জনসভার মধ্য দিয়ে নতুন কর্মসূচি দেওয়া হবে।’

এদিকে নাগরিক সমাজের অভিযোগ প্রসঙ্গে কেডিএ সম্প্রতি পত্রিকায় একটি ব্যাখ্যা পাঠিয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ জনসাধারণ, জনপ্রতিনিধি ও কেসিসিসহ উন্নয়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত সব দপ্তরকে নিয়ে খুলনা শহরকে আধুনিক বাসযোগ্য শহরে রূপান্তরের জন্য নিরলসভাবে কাজ করছে। এ ছাড়া নিয়মতান্ত্রিকভাবে বিভিন্ন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে, যা দেশের অন্যান্য স্থানের তুলনায় কম।

 

 

মন্তব্য