kalerkantho

বুধবার । ২২ মে ২০১৯। ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৬ রমজান ১৪৪০

সরকার গঠিত কমিটির সুপারিশ

ঋণখেলাপিদের প্রতিষ্ঠান বিক্রির ক্ষমতা পাচ্ছে অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কম্পানি

সজীব হোম রায়   

২১ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ঋণখেলাপিদের প্রতিষ্ঠান বিক্রির ক্ষমতা পাচ্ছে অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কম্পানি

খেলাপি ঋণের অর্থ আদায়ে অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কম্পানিকে বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে। ঋণখেলাপির সম্পদ ক্রোক, প্রয়োজনে ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানের পর্ষদ পরিবর্তন করতে পারবে তারা। খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনতে অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কম্পানি করতে সরকার গঠিত কমিটি এসব সুপারিশ করে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের কাছে প্রতিবেদন পাঠিয়েছে। কমিটি এ জন্য ‘সিকিউরিজেশন অব নন-পারফরমিং লোন’ নামে পৃথক একটি আইন করার প্রস্তাব করেছে।

প্রস্তাবিত আইনে অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কম্পানিকে এসব ক্ষমতা দেওয়ার কথা বলা রয়েছে। এশিয়ার বিভিন্ন দেশের অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কম্পানি গঠন এবং তাদের কাজের পরিধি বিশ্লেষণ করে এই সুপারিশ করেছে কমিটি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

কমিটির প্রধান এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের যুগ্ম সচিব মু. শুকুর আলী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনতে অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কম্পানি গঠনে আমরা একটি প্রতিবেদন ইতিমধ্যে জমা দিয়েছি। প্রতিবেদনে প্রয়োজন অনুসারে বিভিন্ন সুপারিশ করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কম্পানি কিভাবে গঠন করা হয় তা পর্যালোচনা করেছি। বিশেষ করে এ ক্ষেত্রে এশিয়ার দেশগুলোকে প্রাধান্য দিয়েছি। সে আলোকেই কম্পানি করার সুপারিশ করা হয়েছে। আশা করছি, এই কম্পানি গঠিত হলে খেলাপি ঋণে বিশাল পরিবর্তন আসবে।’

অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কম্পানি করতে গত মাসে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের যুগ্ম সচিব শুকুর আলীকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন একই বিভাগের উপসচিব সাঈদ কুতুব এবং অগ্রণী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের একজন ডিএমডি।

কমিটি এশিয়ার দেশগুলো পর্যালোচনা করে অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কম্পানি করার প্রস্তাব করেছে। বিশেষ করে ভারত, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার প্রেক্ষাপটের সঙ্গে আমাদের দেশের মিল খুঁজে পেয়েছে কমিটি। তবে ভারত ও থাইল্যান্ডের কম্পানি গঠনপ্রক্রিয়াকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে কমিটি। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল দেশে ফিরলে কমিটির প্রতিবেদনটি অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।

সূত্র জানায়, খেলাপি ঋণ আদায়ে সাধারণত অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কম্পানি ব্যাংকের সঙ্গে একটি চুক্তি করে। এর জন্য ব্যাংকের কাছ থেকে কোনো টাকা নেয় না কম্পানি। চুক্তি অনুযায়ী, আদায় করা খেলাপি ঋণের ২০ থেকে ৩০ বা ৫০ শতাংশ অর্থ নিয়ে নেয় তারা। ভারতে নেয় আদায় করা খেলাপি ঋণের ২০ শতাংশ। কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও ভারতের আদলে আদায় করা খেলাপি ঋণের ২০ শতাংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কম্পানি।

ভারতে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের দুই ধরনের কম্পানি খেলাপি ঋণ আদায়ে কাজ করে। মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডে শুধু সরকারি কম্পানি এ ধরনের কাজের সুযোগ পায়। এ দুই দেশে বেসরকারি খাতের কোনো কম্পানি এ ধরনের কাজ করার সুযোগ পায় না। বাংলাদেশের জন্য সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে কম্পানি করার কথা বলেছে কমিটি।

কমিটির প্রতিবেদনে ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পত্তি বিক্রিসহ প্রতিষ্ঠানের পর্ষদ পরিবর্তন করার ক্ষমতা দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। কম্পানি যদি মনে করে ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানের পর্ষদ পরিবর্তন করলে তা আবার সচল হবে এবং ঋণ পরিশোধ করতে পারবে, তাহলে সে ক্ষমতাও তাদের দেওয়া হবে। আর কম্পানি যদি মনে করে পর্ষদ পরিবর্তন করেও লাভ হবে না, সে ক্ষেত্রে সম্পদ বিক্রির জন্য নিলামে তুলতে পারবে।

বর্তমানে দেশের অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কম্পানিগুলোর এ ধরনের ক্ষমতা নেই। ক্ষমতা দিতে পৃথক আইন করার কথা বলেছে কমিটি। প্রাথমিকভাবে ‘সিকিউরিজেশন অব নন-পারফরমিং লোন’ নামে আইন করার কথা সুপারিশ করা হয়েছে।

অর্থঋণ আদালত বা দেউলিয়া আইনে যেসব ক্ষমতা দেওয়া নেই, এ আইনে খেলাপি ঋণ আদায়ে সে ক্ষমতার উল্লেখ থাকবে। এতে বলা হয়েছে, ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানের জমি, কারখানা ম্যাজিস্ট্রেটের সহায়তায় দখলে নিয়ে নিতে পারবে ব্যাংক।

 

মন্তব্য