kalerkantho

রবিবার । ২৬ মে ২০১৯। ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ২০ রমজান ১৪৪০

ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি করার তোড়জোড়

► দু-তিন দিনের মধ্যে ‘প্রার্থী’দের নাম জমা দেওয়ার নির্দেশ ► সাবেক-বর্তমান নেতাদের পছন্দের সমন্বয়েই কমিটি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৯ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি করার তোড়জোড়

আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের তোড়জোড় চলছে। ছাত্রলীগের বর্তমান সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী কমিটি পূর্ণাঙ্গ করতে ব্যর্থ হওয়ায় আওয়ামী লীগ নেতাদের হস্তক্ষেপে ওই তোড়জোড় শুরু হয়েছে। দলীয় সভাপতির নির্দেশে ছাত্রলীগের কমিটি পূর্ণাঙ্গ করতে আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে পদপ্রত্যাশী ‘প্রার্থী’দের নাম চেয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতারা।

ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে বৈঠকে আওয়ামী লীগের কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা ওই বিষয়ে নির্দেশনা দেন।

বৈঠকে ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আব্দুর রহমান; সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক ও আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম এবং কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য এস এম কামাল হোসেন। ঘণ্টাব্যাপী রুদ্ধদ্বার ওই বৈঠকে ছাত্রলীগ নেতাদের আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কঠোর বার্তার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে শিগগিরই কমিটির তালিকা চূড়ান্ত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানান, কমিটি গঠনে ব্যর্থতা এবং দলীয় সভাপতির বার্তা ছাত্রলীগের দুই নেতার কাছে পৌঁছে দিয়ে আগামী দু-তিন দিনের মধ্যে পদপ্রত্যাশী ও পছন্দের প্রার্থীদের নাম চাওয়া হয়েছে। সাবেক নেতাদের কাছ থেকেও নাম নিয়ে সমন্বয় করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হবে।

একাধিক সূত্রে জানা যায়, বৈঠকে দুই নেতার প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০ জন করে মোট ১০০ জনের নাম চাওয়া হয়েছে। আগামী দু-তিন দিনের মধ্যেই তাঁরা পদপ্রত্যাশীদের নাম জমা দেবেন। আর এক সপ্তাহের মধ্যেই পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠিত হতে পারে। আওয়ামী লীগের ওই নেতারা গত মঙ্গলবার ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেনের সঙ্গে বৈঠক করে ছাত্রলীগে সক্রিয় ছিলেন এমন নেতাদের নাম চান।

সূত্র মতে, ছাত্রলীগের বর্তমান ও সাবেক নেতাদের পছন্দের বা প্রস্তাবিত নামের সঙ্গে সমন্বয় করে ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি করা হবে। এ ক্ষেত্রে রাজনীতিতে সক্রিয়তা, পারিবারিক অবস্থা ও সংগঠনে আগে পদ ছিল কি না সেসব বিবেচনায় নেওয়া হবে। মাদকাসক্ত, অপরাধে সম্পৃক্ত বা কোনো কারণে বিতর্কিত কারো কমিটিতে ঠাঁই হচ্ছে না। পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির অধিকারীরাই কমিটিতে স্থান পাচ্ছেন।

ছাত্রলীগের সম্মেলন হয়েছিল ২০১৮ সালের ১১ ও ১২ মে। ভোটের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের বিধান থাকলেও তা এবার হয়নি। সমঝোতার ভিত্তিতে ২০১৮ সালের ৩১ জুলাই সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক দিয়ে আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল।

এদিকে কমিটি করতে ব্যর্থ হলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চৈত্রসংক্রান্তি ও বর্ষবরণের কনসার্ট অনুষ্ঠানে নিজেদের ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে দ্বন্দ্বে জড়ান ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সঞ্জিত চন্দ্র দাস ও সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসাইন। বর্ষবরণ উপলক্ষে বড় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হলেও শোভনকে না জানানোর অভিযোগ তুলে গত শুক্রবার রাতে কনসার্টস্থলে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, ওই ঘটনার পর সোমবার রাতে আওয়ামী লীগের কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে দেখা করতে যান। ওই সময় প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ছাত্রলীগের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড ও নেতৃত্বের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

ছাত্রলীগে পদপ্রত্যাশী একাধিক কর্মী জানান, আংশিক কমিটির মেয়াদ সাড়ে আট মাস পার হলেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়নি। এ বিষয়ে কোনো অগ্রগতিও নেই। কবে কমিটি হবে সে বিষয়েও কোনো দিকনির্দেশনা পাচ্ছেন না তাঁরা। ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় কমিটি হবে ৩০১ সদস্যের।

ছাত্রলীগের বর্তমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে ফোন করা হলেও তাঁরা ফোন ধরেননি। তাঁদের অনুসারী কয়েকজন কর্মীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে যান দুই ছাত্রনেতা। পরে দুজন একসঙ্গে গাড়িতে করে বেরিয়ে যান।

ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দেশরত্ন শেখ হাসিনার ভ্যানগার্ড হিসেবে বর্তমান নেতাদের সহযোগিতা করতে আমরা সব সময় প্রস্তুত। তাঁরা আমাদের পরামর্শ চাইলেও আমরা দেব, যেন দ্রুত কমিটি পূর্ণাঙ্গ করা হয়।’

 

মন্তব্য