kalerkantho

রবিবার । ২৬ মে ২০১৯। ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ২০ রমজান ১৪৪০

সাক্ষাৎকার

নগরের সমস্যা সমাধানে দ্রুত উদ্যোগ নেব

ইকরামুল হক টিট, মেয়র, ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ   

১৯ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নগরের সমস্যা সমাধানে দ্রুত উদ্যোগ নেব

নবগঠিত ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের ইকরামুল হক টিটু। এই সিটির প্রথম মেয়র হিসেবে তাঁর কাছে নগরবাসীর প্রত্যাশাও অনেক। কালের কণ্ঠ’র সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন নগর নিয়ে তাঁর পরিকল্পনার কথা।

শহরের অন্যতম প্রধান সমস্যা যানজটের সমাধানে কী পরিকল্পনা নেবেন—এ প্রশ্নের জবাবে মেয়র টিটু বলেন, যানজট নিরসনে সড়ক প্রশস্ত করা এবং নতুন সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা থাকবে। এ ছাড়া পুলিশ প্রশাসন, জেলা প্রশাসন, যানবাহন মালিক, শ্রমিক ও নাগরিকদের নিয়ে সমন্বিত একটি কর্ম পরিকল্পনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। নগরের ফুটপাতগুলো দখলমুক্ত ও পরিচ্ছন্ন করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

নগরের জলাবদ্ধতা দূরীকরণ বিষয়ে তিনি বলেন, ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও সংস্কার করা হবে। বর্তমানে এ সমস্যা সমাধানে বেশ কয়েকটি প্রকল্প চলছে। এগুলো সমাপ্ত করতে হবে। শহরতলীর খালগুলো খনন করা হবে।

অপরিকল্পিত নগরায়ণ ঠেকানোর প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, ‘সুপ্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী ময়মনসিংহ নগর। অপরিকল্পিত নগরায়ণকে ঠেকাতে হবে আমাদের সবার মঙ্গলের জন্যই। তবে এ ব্যাপারে নাগরিকদের সহযোগিতা প্রয়োজন হবে। তাদের সচেতন হতে হবে।’ ঝুঁকিপূর্ণ ভবন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সমন্বিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের আওতায় কিছু কাজ এ নগরে হয়েছে। এ বিষয়ে আরো অনেক কাজ চলমান। তবে এ বিষয়টি বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ এবং আলোচিত একটি ইস্যু। এ বিষয়টি আমরা অবশ্যই গুরুত্ব দেব। নির্ধারিত প্ল্যানের মধ্যেই ভবন করতে হবে। শহরের পুকুরগুলো রক্ষায় জেলা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

ব্রহ্মপুত্র নদের পূর্ব পারে শম্ভুগঞ্জ সেতুর পর ময়লা কান্দার ময়লা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ স্থানে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের একটি পরিকল্পনা আছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কিছু অগ্রগতিও আছে। এ ছাড়া এখানের বর্জ্য পরিশোধন করে সার তৈরির চিন্তাও আছে। সব মিলিয়ে এ সমস্যাটি অদূর ভবিষ্যতে আর থাকবে না। ময়মনসিংহ শহরে একটি সংস্কৃতি পল্লী গড়ে তোলার বিষয়ে তিনি বলেন, দ্রুতই এ নগরে একটি সংস্কৃতি পল্লী গড়ে তোলা হবে।

নগরে খাদ্যে ভেজালবিরোধী অভিযান কবে থেকে শুরু হবে—এ প্রশ্নের জবাবে নবনির্বাচিত মেয়র বলেন, সিটি করপোরশনের জনবল কাঠামোতে এ ব্যাপারে পর্যাপ্ত জনবল চাওয়া হয়েছে। চাওয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি। এগুলো যুক্ত হলে ঢাকার মতো এ শহরেও খাদ্যে ভেজালবিরোধী অভিযান চলবে।

নগরের স্বাস্থ্যব্যবস্থার উন্নয়নে কী ব্যবস্থা নেবেন—এর উত্তরে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে হেলথ কার্ড চালু আছে। ভবিষ্যতে এ উদ্যোগটি আরো বিস্তৃত আকারে দেওয়া হবে। অন্তত প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিচর্যার ক্ষেত্রে আমরা ভালো ভূমিকা রাখার চেষ্টা করব।’

নগরে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইকগুলোকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বিআরটিএ এবং ট্রাফিক বিভাগকে সঙ্গে নিয়ে আমি এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেব।’ শহরের মশা, কুকুর ও গরুর উৎপাত বন্ধে উদ্যোগ নেবেন কী—এ প্রশ্নের জবাবে মেয়র বলেন, দায়িত্ব নিয়ে প্রথমেই এ সমস্যাগুলো সমাধানে নজর দেব।

কাচারিঘাট এলাকা দিয়ে ব্রহ্মপুত্র নদে একটি সেতু নির্মাণের দাবি আছে চর এলাকার বাসিন্দাদের। এ বিষয়ে কী পরিকল্পনা—এ প্রশ্নের উত্তরে মেয়র টিটু বলেন, ‘এখানে একটি সেতু নির্মাণের জন্য আমার আপ্রাণ চেষ্টা থাকবে।’

মাদক নির্মূলের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এটা আমাদের সবার সমস্যা। এ সমস্যা থেকে বের হয়ে আসতেই হবে। প্রশাসন, নাগরিক সমাজসহ সবার পরামর্শ নিয়ে এ ব্যাপারে আমি করণীয় নির্ধারণ করব।’

 

মন্তব্য