kalerkantho

সোমবার। ২৭ মে ২০১৯। ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ২১ রমজান ১৪৪০

মেয়ে হত্যার বিচার চাওয়ায় বাদী একঘরে!

হবিগঞ্জ ও বানিয়াচং প্রতিনিধি   

১৯ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মেয়ে হত্যার বিচার চাওয়ায় বাদী একঘরে!

স্কুলপড়ুয়া মেয়েকে হত্যার অভিযোগে মামলা করেছিলেন ফাতেমা বেগম। মাসখানেক আগে মূল আসামি জামিনে মুক্ত হয়ে মীমাংসার জন্য তাঁকে চাপ দিচ্ছিল। কিন্তু তিনি রাজি হননি। এ ‘অপরাধে’ ফাতেমা ও তাঁর পরিবারকে গ্রামে একঘরে করা হয়েছে। তাঁদের সঙ্গে কেউ কথা বললে ১০ হাজার টাকা জরিমানারও ‘রায়’ দিয়েছেন পঞ্চায়েত নেতা। ঘটনাটি হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ের দোকানটুলা গ্রামের। এ ব্যাপারে গতকাল বৃহস্পতিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, জমি নিয়ে দোকানটুলার ফাতেমার সঙ্গে একই গ্রামের মতিন মিয়ার বিরোধ চলে আসছে। এর জের ধরে ২০১৭ সালের ১৮ মে ফাতেমার চতুর্থ শ্রেণিপড়ুয়া মেয়ে মারজিনা আক্তারকে হত্যা করে মতিনের লোকজন। এ ঘটনায় মতিনকে প্রধান আসামি করে তার দুই ছেলে জুুয়েল ও রাসেল, দুই ভাই মোতাব্বির ও দুদু মিয়া, মোতাব্বিরের স্ত্রী পাকিরা বেগম ও দুদুর স্ত্রী পারুল বেগমের বিরুদ্ধে মামলা করেন ফাতেমা। মামলার পর পরই জুয়েল ও তার চাচা দুদু সৌদি আরবে পালিয়ে যায়। এক মাস আগে জামিনে বেরিয়ে আসে মতিন। এর তিন থেকে চার মাস আগে আলাদা দিনে জামিনে বেরিয়ে আসে অন্য আসামিরা।

জামিনে বেরিয়ে আসার পর থেকেই মতিন মীমাংসার জন্য দোকানটুলা পঞ্চায়েত কমিটির নেতা বাচ্চু মিয়ার মাধ্যমে ফাতেমাকে চাপ দিচ্ছিল। কিন্তু ফাতেমা ও তাঁর পরিবার তাতে রাজি না হওয়ায় গত মঙ্গলবার তাঁদের একঘরে করেন পঞ্চায়েতের নেতা বাচ্চু। এ সময় এও ঘোষণা করা হয়, গ্রামের কেউ ফাতেমাদের সঙ্গে কথা বললে কিংবা ফাতেমারা কেউ গ্রামের কারো সঙ্গে কথা বললে ১০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হবে। তাছাড়া গ্রামের রাস্তাঘাট ও পুকুর ব্যবহার নিয়ে ফাতেমাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ফাতেমার আরেক মেয়ে সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী তানজিয়া আক্তারের পড়ালেখা বিঘ্নিত হচ্ছে।

ভুক্তভোগী ফাতেমা বলেন, ‘আমি খুবই অসহায়, গরিব। মেয়ে খুন হওয়ার পর থেকে আমার স্বামীও (মোতালিম মিয়া) অসুস্থ হয়ে পড়েছে।’ তিনি অভিযোগ করেন, ‘সরদাররা (পঞ্চায়েতের নেতারা) জোর করেই মামলা আপস-মীমাংসা করতে চাচ্ছে। তাদের অন্যায় কথা না শোনার কারণে আমাকে আর আমার পরিবারকে একঘরে করে রাখা হয়েছে। আমাদের পুকুরে যেতে দেয় না, রাস্তাঘাটেও চলতে দেয় না। আমি এর বিচার চাই।’

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত মতিন বলেন, ‘আমি কাউকে চাপ বা প্ররোচনা দিইনি। পঞ্চায়েতেও আমি উপস্থিত ছিলাম না।’

পঞ্চায়েতের নেতা বাচ্চু বলেন, ‘এ রায় আমি একা দিইনি। মহল্লাবাসীকে নিয়ে আমি রায় দিয়েছি।’

অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে ইউএনও মো. মামুন খন্দকার বলেন, ‘আইনগতভাবে কাউকে সমাজচ্যুত করার কোনো বিধান নেই। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ অন্যদিকে বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের উপজেলা সাধারণ সম্পাদক আশিকুল ইসলাম বলেন, ‘ব্যক্তিগত অধিকার ও স্বাধীনতা সাংবিধানিক অধিকার। এর (একঘরে করে রাখার ঘটনার) উপযুক্ত বিচার হওয়া উচিত।’

 

 

মন্তব্য