kalerkantho

শুক্রবার । ২৪ মে ২০১৯। ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৮ রমজান ১৪৪০

জাহালমের কারাভোগ

আদালত জানতে চেয়েছেন—‘হু ইজ রেসপনসিবল’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৮ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আদালত জানতে চেয়েছেন—‘হু ইজ রেসপনসিবল’

ব্যাংকের ঋণসংক্রান্ত মামলায় ভুল আসামি জাহালমকে আটক রাখার জন্য কে বা কারা দায়ী সে সংক্রান্ত তদন্ত প্রতিবেদন অত্যন্ত জরুরি বলে উল্লেখ করেছেন হাইকোর্ট। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবীকে উদ্দেশ করে আদালত জানতে চেয়েছেন—‘হু ইজ রেসপনসিবল?’

বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল আহসানের বেঞ্চ গতকাল বুধবার দুদকের আইনজীবীকে এ প্রশ্ন করেন। এরপর আগামী ২ মে পর্যন্ত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সময় দেন আদালত।

জাহালমকে আটকের বিষয়ে করা রিট আবেদনের ওপর শুনানি ছিল গতকাল। জাহালম আদালতে উপস্থিত ছিলেন। সরকারপক্ষে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার। অপর পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট অমিত দাশ গুপ্ত। দুদকের পক্ষে ছিলেন খুরশীদ আলম খান।

গত ৬ মার্চ শুনানির দিন জাহালম প্রশ্নে ব্যাংক ঋণ জালিয়াতির ৩৩ মামলার এজাহার, চার্জশিট, সম্পূরক চার্জশিট এবং সব ব্যাংকের এসংক্রান্ত নথিপত্র দাখিল করতে দুদককে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। ১০ এপ্রিলের মধ্যে এসব নথিপত্র দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়। এদিন দুদকের পক্ষে অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান সময় চান। এরপর আদালত জাহালমকে আদালতে হাজির থাকতে নির্দেশ দিয়ে গতকাল দিন ধার্য করেন।

এরই ধারাবাহিকতায় মামলাটি গতকাল শুনানির জন্য উঠলে দেখা যায় প্রয়োজনীয় নথিপত্র আদালতে দাখিল করা হয়নি। এ সময় দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান এসংক্রান্ত দুদকের ৩৩টি মামলার নথি দাখিল করতে সময় চান। একপর্যায়ে আদালত জানতে চান, এ ঘটনায় দুদকের করা তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন কি তৈরি হয়েছে? জবাবে খুরশীদ আলম খান বলেন, না। আদালত বলেন, এই প্রতিবেদন তৈরি হলে দাখিল করবেন। আমরা দেখব, এটার জন্য ‘হু ইজ রেসপনসিবল।’ আদালত বলেন, প্রতিবেদনটি অনেক জরুরি। ৩৩ মামলার নথির সঙ্গে দাখিল করবেন। এরপর আদালত তারিখ ধার্য করেন।

দুদকের তদন্তের বিষয়ে আইনজীবী খুরশীদ আলম খান সাংবাদিকদের বলেন, ‘একটা ইন্টারনাল তদন্ত হচ্ছে। একজন তদন্ত করছেন। তাঁকে ২০ দিনের সময় দেওয়া হয়েছিল। সেই সময় শেষ হওয়ার আগে আরো সাত দিন সময় চেয়েছেন। কোর্ট ওই প্রতিবেদন দেখতে চাচ্ছেন। দেখতে চাচ্ছেন দায়টা কার?’

প্রসঙ্গত, আবু সালেক নামে একজনের বিরুদ্ধে সোনালী ব্যাংকের প্রায় সাড়ে ১৮ কোটি টাকা জালিয়াতির ৩৩টি মামলা রয়েছে। কিন্তু আবু সালেকের বদলে টাঙ্গাইলের পাটকল শ্রমিক জাহালমকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁকে তিন বছর জেল খাটতে হয়।

মন্তব্য