kalerkantho

সোমবার। ২৭ মে ২০১৯। ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ২১ রমজান ১৪৪০

শেয়ারবাজারে অস্থিরতায় বিক্ষোভ অব্যাহত

প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চান ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৮ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চান ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা

শেয়ার কেনার চাপ বাড়ায় আগের দিনের চেয়ে পুঁজিবাজারের সূচক ও লেনদেন উত্থানে ফিরেছে। দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচকের উত্থানের পাশাপাশি বেশির ভাগ কম্পানির শেয়ারের দামও বেড়েছে। তবে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সূচকের পতন অব্যাহত থাকলেও লেনদেনে সামান্য উত্থান হয়েছে।

এদিকে পুঁজিবাজারে দরপতনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ অব্যাহত রেখেছেন বিনিয়োগকারীরা। গতকাল বুধবার ডিএসইতে সূচক ও লেনদেন বাড়লেও এর আগে টানা পতনের ঘটনায় বিক্ষোভ হয়েছে। দুপুরে মতিঝিলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সামনে বিক্ষোভ মিছিল করে বিনিয়োগকারীরা। বিক্ষোভ মিছিলে পুঁজিবাজার গতিশীল ও উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়েছে তারা। 

এর আগের দিন মঙ্গলবার বিক্ষোভ সমাবেশে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান খায়রুল হোসেনকে পদত্যাগে ৪৮ ঘণ্টা সময় বেঁধে দেয় বিনিয়োগকারীরা। গত সপ্তাহেও অব্যাহত দরপতনের প্রতিবাদে টানা চার দিন বিক্ষোভ করেছে তারা।

আগের ধারাবাহিকতায় গতকালও পুঁজিবাজারে শেয়ার বিক্রির চাপ বাড়ে। সকাল সাড়ে ১০টায় লেনদেন শুরুর পর ১৫ মিনিটের মাথায় শেয়ার বিক্রি বেড়ে যায়। পৌনে ১২টা পর্যন্ত বিক্রির চাপ অব্যাহত থাকলে আগের দিনের চেয়ে সূচক কমে যায়।

কয়েকটি ব্রোকারেজ হাউস সূত্রে জানা গেছে, বাজারে সূচকের পতন ঘটতে থাকলে আইসিবি, মার্চেন্ট ব্যাংক ও কয়েকটি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী শেয়ার কেনে। আর এই শেয়ার কেনার চাপে সূচক সামান্যই ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। কিন্তু ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বিক্রির চাপ অব্যাহত রয়েছে বলেও জানায় তারা।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে গতকাল লেনদেন হয়েছে ৩১৪ কোটি ৫৪ লাখ টাকা, সূচক বেড়েছে ১০ পয়েন্ট। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ২৬৯ কোটি ৯১ লাখ টাকা, সূচক কমেছিল ৬০ পয়েন্ট। এই হিসেবে লেনদেন ও সূচক উভয়ই বেড়েছে।

গতকাল ডিএসইর সূচক দাঁড়িয়েছে পাঁচ হাজার ২৫৯ পয়েন্ট। লেনদেন হওয়া কম্পানির মধ্যে দাম বেড়েছে ১৬০টির, দাম কমেছে ১২৭টির আর অপরিবর্তিত রয়েছে ৫৮ কম্পানির শেয়ার। এদিকে ব্যাংক খাতের ৬৭ শতাংশ কম্পানির শেয়ার দাম বেড়েছে। যদিও পতনের সময় বেশির ভাগেরই দাম কমেছে।

অন্য বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) গতকাল লেনদেন হয়েছে ১২ কোটি ৬৬ লাখ টাকা, সূচক কমেছে ১১ পয়েন্ট। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ১১ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। গতকাল লেনদেন হওয়া ২৩২ কম্পানির মধ্যে দাম বেড়েছে ৯২টির, কমেছে ১০৩টির, অপরিবর্তিত রয়েছে ৩৭ কম্পানির শেয়ার।

গতকাল দুপুর পৌনে ২টার দিকে ডিএসইর সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদ আয়োজিত এই বিক্ষোভ মিছিলে পুঁজিবাজার স্থিতিশীল করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়। এ সময় আবারও সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যানের পদত্যাগ দাবি করা হয়।

জেড ক্যাটাগরি ও ওটিসি মার্কেট বন্ধ, আইপিও ও প্লেসমেন্ট বাণিজ্য বন্ধ, ইস্যু মূল্যের নিচে থাকা কম্পানির শেয়ার ইস্যু মূল্যে বাইব্যাক, তালিকাভুক্ত কম্পানিতে ন্যূনতম ১০ শতাংশ লভ্যাংশ বাধ্যতামূলক, খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদের তদন্ত কমিটির রিপোর্ট অনুযায়ী দোষীদের আইনের আওতায় আনা ও সিকিউরিটিজ এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যানের পদত্যাগ এই ছয় দাবিতে বিক্ষোভ করে তারা।

বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের সভাপতি মিজানুর রশীদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পুঁজিবাজার উন্নয়নে বিনিয়োগকারীদের দাবি নিয়ে আন্দোলন চলছে। সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। বাজারের অব্যাহত পতনে শেয়ার দাম কমে চলেছে, অনেক নিচে নেমে যাওয়ায় ক্ষতির মুখে পড়েছি আমরা।’

তিনি আরো বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী কমিশনের বর্তমান চেয়ারম্যানকে পুঁজিবাজারের স্বার্থে কাজ করার দায়িত্ব দিলেও তিনি সেটি করতে ব্যর্থ হয়েছেন। দুর্বল কম্পানির আইপিও অনুমোদন দিয়ে আস্থাহীনতা সৃষ্টি করেছেন। পুঁজিবাজার উন্নয়নে আমরা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি। পুঁজিবাজার নিয়ে তাঁর কাছ থেকে নির্দেশনা প্রত্যাশা করছি।’

মন্তব্য