kalerkantho

সোমবার। ২৭ মে ২০১৯। ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ২১ রমজান ১৪৪০

বাঁধে ঘাট বেঁধে আ. লীগ নেতার বালু ব্যবসা

হুমকির মুখে রাজশাহী শহর রক্ষা বাঁধ ও বিজিবি ক্যাম্প

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী    

১৮ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বাঁধে ঘাট বেঁধে আ. লীগ নেতার বালু ব্যবসা

প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে আওয়ামী লীগের এক নেতা রাজশাহী নগরঘেঁষা পদ্মা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বালু তুলে বিক্রির জন্য শহর রক্ষা বাঁধের ওপর তৈরি করা হয়েছে ঘাট। সেই ঘাট থেকে প্রতিদিন ট্রাকে করে বালু যাচ্ছে বিভিন্ন স্থানে।

অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় আরো কয়েকজন প্রভাবশালীর কাছে এ ব্যবসার শেয়ার বিক্রি করে দুই লাখ থেকে আড়াই লাখ টাকা করে নেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত সালাম, আলমসহ অন্তত ১০ জনের কাছে শেয়ার বিক্রি করা হয়েছে। তবে এ ব্যাপারে তাদের কারো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

কয়েক দিন ধরে শহরের তালাইমারী এলাকায় রাজশাহী নগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল আলম বেন্টুর নেতৃত্বে তালাইমারী এলাকায় এ অবৈধ ব্যবসা চলছে। এ কারণে হুমকির মুখে পড়েছে শহর রক্ষা বাঁধ এবং ওই এলাকায় অবস্থিত বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ক্যাম্প।

রাজশাহী প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বছর পাঁচেক আগে তালাইমারী এলাকায় বালুমহালটি চালু থাকলেও শহর রক্ষা বাঁধ হুমকির মুখে পড়ার কারণে সেটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এবারও রাজশাহীতে মোট ১১টি বালুমহাল ইজারা দেওয়া হয়। কিন্তু শহর এলাকায় নদীর কোনো বালুমহাল ইজারা দেয়নি জেলা প্রশাসন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তালাইমারীর ওই অবৈধ বালুমহাল থেকে প্রতিদিন অন্তত পাঁচ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে চক্রটি। কিন্তু সরকার কোনো রাজস্ব পাচ্ছে না।

আব্দুর রহমান নামের স্থানীয় এক বাসিন্দা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এখানে বালুঘাট করায় শহর রক্ষা বাঁধের সিসি ব্লকের ওপর দিয়ে প্রতিদিন শত শত বালুর ট্রাক যাতায়াত করছে, যার কারণে হুমকির মুখে পড়েছে শহর রক্ষা বাঁধ। আবার জনবসতি এলাকার মধ্য দিয়ে বালুর ট্রাক চলাচলের কারণে দেখা দিয়েছে প্রাণহানির আশঙ্কাও। এমনিতেও নগরীতে বালুর ট্রাকের ধাক্কায় মাঝেমধ্যেই ঘটছে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি। এর ওপর একেবারে জনবসতি এলাকা দিয়ে বালুর ট্রাক চলাচলের কারণে দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে আরো বেশি।’

স্থানীয় আরেক বাসিন্দা মাজিদুর রহমান বলেন, ‘এর আগে এই বালুঘাট চালু ছিল বছর পাঁচেক আগে। তখন শহর রক্ষা বাঁধে দেখা দিয়েছিল ফাটল। এমনকি ঘাটের অদূরেই বাঁধের একটি অংশ হঠাৎ ভেঙে নদীগর্ভে চলে যায়। এরপর তালাইমারী ঘাটটি বন্ধ করে দেয় প্রশাসন। কিন্তু এ বছর আবার আওয়ামী লীগ নেতা আজিজুল আলম বেন্টু বালুঘাটটি চালু করেছেন স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায়।’

জানা গেছে, আওয়ামী লীগ নেতা আজিজুল আলম বেন্টু নগরীর উপকণ্ঠ পবা উপজেলার শ্যামপুর এলাকায় একটি বালুমহাল ইজারা নিয়েছেন প্রায় দুই কোটি দুই লাখ টাকায়। ওই ঘাটটি দিয়ে বালু উত্তোলনের পাশাপাশি তিনি শহরের তালাইমারী ঘাটটিও চালু করেছেন। কিন্তু এ ঘাট চালু এবং বালুমহাল থেকে বালু তোলার অনুমোদন নেই বলে জানিয়েছে রাজশাহী জেলা প্রশাসন।

জানতে চাইলে রাজশাহীর জেলা প্রশাসক এস এম আব্দুল কাদের কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘তালাইমারীতে কোনো ঘাট লিজ দেওয়া হয়নি। তার পরও সেখান দিয়ে বালু উত্তোলন করা হলে বালু কারবারিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বালুঘাটটির কারণে পাশেই অবস্থিত তালাইমারী বিজিবি ক্যাম্পটিও হুমকির মুখে পড়েছে বলে দাবি করেছেন ওই ক্যাম্পের সদস্যরা।

কয়েকজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে কালের কণ্ঠকে বলেন, ক্যাম্পের নিচেই পদ্মা নদী। সেই নদী থেকেই অবাধে উত্তোলন করা হচ্ছে বালু। আবার শহর রক্ষা বাঁধের ওপর দিয়েই যাচ্ছে বালুর ট্রাক। নদী থেকে বালু উত্তোলনের কারণে যেমন হুমকির মুখে পড়েছে বিজিবি ক্যাম্প, তেমনি অবাধে ট্রাক চলাচলের কারণে হুমকির মুখে পড়েছে শহর রক্ষা বাঁধ। এভাবে চলতে থাকলে যেকোনো সময় দুটি স্থাপনাতেই ফাটল দেখা দিতে পারে বলে তাঁরা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

তবে বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করা হলে আওয়ামী লীগ নেতা আজিজুল আলম বেন্টু সাংবাদিকদের বলেন, ‘শ্যামপুর ঘাটের বালু উত্তোলন করা হচ্ছে তালাইমারী ঘাট দিয়ে। শ্যামপুর ঘাট দিয়ে বালু উত্তোলনের তেমন জায়গা না থাকায় তালাইমারী ঘাটটি চালু করা হয়েছে। এতে বাঁধের কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়।’

মন্তব্য