kalerkantho

রবিবার । ২৬ মে ২০১৯। ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ২০ রমজান ১৪৪০

আসছে বাজেট

আবাসন খাতে নিবন্ধন ব্যয় কমানোর দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৭ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আবাসন খাতে নিবন্ধন ব্যয় কমানোর দাবি

আগামী অর্থবছরের বাজেটে অন্তর্ভুক্তিতে ‘ট্যাক্স হলিডে’ প্রচলন, সেকেন্ডারি বাজারে জমি বিক্রির নিবন্ধন ফি ৭ শতাংশের পরিবর্তে সাড়ে ৩ শতাংশ নির্ধারণ, আবাসন শিল্প রক্ষার্থে ২৫ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠনসহ এক গুচ্ছ প্রস্তাব করেছে বাংলাদেশ ল্যান্ড ডেভেলপারস অ্যাসোসিয়েশন (বিএলডিএ)।

অন্যদিকে ফ্ল্যাট-প্লট নিবন্ধন ফি ও কর কমিয়ে ৭ শতাংশ নির্ধারণ, বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশনকে তহবিল প্রদানের মাধ্যমে আবাসন খাতে ঋণ প্রবাহ বাড়ানো, আবাসন শিল্প রক্ষার্থে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বিদ্যমান মূল্য সংযোজন কর (মূসক) হ্রাস করা এবং নতুন মূসক আরোপ না করা, বৈধভাবে উপার্জিত অপ্রদর্শিত অর্থ আবাসন খাতে বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়াসহ আরো কিছু দাবি করেছে আবাসন খাতের সংগঠন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)।

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সম্মেলন কক্ষে ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট সামনে রেখে প্রাক-বাজেট আলোচনাসভায় আবাসন খাতের এই দুই সংগঠনের পক্ষ থেকে এসব প্রস্তাব করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন এনবিআর চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া। এ সময় এনবিআরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। এনবিআর আয়োজিত এ বৈঠকে রিহ্যাবের পক্ষে আলোচনায় অংশ নেন সংগঠনটির প্রেসিডেন্ট আলমগীর শামসুল আলামিন এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট (প্রথম) লিয়াকত আলী ভূঁইয়া।

সভায় রিহ্যাব ছাড়াও বাংলাদেশ স্টিল রি-রোলিং মিলস, সিমেন্ট মিলস অ্যাসোসিয়েশনসহ বেশ কয়েকটি সংগঠনের প্রতিনিধিরা নিজ নিজ সংগঠনের প্রস্তাবনা তুলে ধরেন।

সভায় রিহ্যাব প্রেসিডেন্ট আলমগীর শামসুল আলামিন বলেন, ‘ফ্ল্যাট এবং জমি ক্রয়ের ক্ষেত্রে কয়েক বছর ধরে ১৪-১৬ শতাংশ অতিমাত্রার নিবন্ধন ব্যয় বিদ্যমান। একই সঙ্গে পুরাতন ফ্ল্যাট ক্রয়ের ক্ষেত্রে ফের নতুন ফ্ল্যাটের সমান নিবন্ধন ব্যয় করতে হয়, যা অযৌক্তিক। নিবন্ধন ব্যয় ৭ শতাংশে নামিয়ে আনা এখন সময়ের দাবি। এ ছাড়া নামমাত্র নিবন্ধন ব্যয় নির্ধারণ করে সেকেন্ডারি বাজার ব্যবস্থার প্রচলন করা প্রয়োজন।’ তিনি গৃহায়ণ শিল্পের উদ্যোক্তাদের আয়কর হ্রাস এবং শর্ত ছাড়া আবাসন খাতে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানান।

লিয়াকত আলী ভূঁইয়া এনবিআর এবং রিহ্যাবের যৌথ কমিটির কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘ওই কমিটি যে সুপারিশ করেছে তা দ্রুত বাস্থবায়ন প্রয়োজন।’

সভায় এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া আবাসন খাতের চলমান সমস্যা সমাধানে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দিয়ে বলেন, ‘১৪-১৬ শতাংশ নিবন্ধন ব্যয় বেশি। এ ক্ষেত্রে যৌক্তিক পদক্ষেপ গ্রহণে স্থানীয় সরকার এবং আইন মন্ত্রণালয়ে শিগগিরই চিঠি দেওয়া হবে।’

বিএলডিএর প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ‘২৫ হাজার কোটি টাকার তহবিল থেকে ক্রেতা সাধারণকে চাহিদামতো জমি বা প্লট কিনতে সর্বনিম্ন সুদে ঋণ প্রদান করা প্রয়োজন। আবাসন খাতে অর্থলগ্নিকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এই ঋণ সরবরাহ করা যেতে পারে।’

বৈধভাবে উপার্জিত অপ্রদর্শিত অর্থ আবাসনে বিনিয়োগের সুযোগ চেয়ে আয়কর অধ্যাদেশ-১৯৮৪ এর ধারা ১৯বিবিবিবিবির যুগোপযোগী সংশোধনেরও সুপারিশ করে রিহ্যাব। প্রস্তাবে বলা হয়, “বর্তমানে বিভিন্ন দেশে ‘সেকেন্ড হোম’ গ্রহণের সুযোগ থাকায় দেশের প্রচুর অর্থ বিদেশে পাচার হয়ে যাচ্ছে। এসব দেশে ফ্ল্যাট বা অ্যাপার্টমেন্ট ক্রয়ের অর্থের উৎস বিষয়ে প্রশ্ন তোলা হয় না।”

রিহ্যাব নেতারা বলেন, ‘অপ্রদর্শিত অর্থ দেশে বিনিয়োগের সুযোগ করে দেওয়া হলে ভবিষ্যতে ওই সব বিনিয়োগকারী ট্যাক্স-নেটের আওতায় আসবে। সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে। দেশে ফ্ল্যাট বা অ্যাপার্টমেন্ট কেনার পর সংশ্লিষ্টদের কাছে দুর্নীতি দমন কমিশন থেকে আয়ের উৎস জানতে চেয়ে চিঠি পাঠানোর কারণে আবাসনে বিনিয়োগে বৈরী পরিবেশ ও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। এসব অনুসন্ধান যৌক্তিক পর্যায়ে আনা প্রয়োজন।’

রিহ্যাবের প্রস্তাবে ফ্ল্যাট ও প্লট নিবন্ধন ফি ও কর কমানোর দাবি জানিয়ে বলা হয়, গেইন ট্যাক্স ২ শতাংশ, স্ট্যাম্প ফি ১.৫ শতাংশ, নিবন্ধন ফি ১ শতাংশ, স্থানীয় সরকার কর ১ শতাংশ, মূসক ১.৫ শতাংশ—এভাবে মোট ৭ শতাংশ নির্ধারণ এখন সময়ের দাবি। এ বিষয়ে আরো বলা হয়, বর্তমানে ব্যয় বেশি হওয়ায় ফ্ল্যাট বা প্লটের ক্রেতারা নিবন্ধনে উৎসাহিত হচ্ছে না। ফলে সরকার এই খাত থেকে রাজস্ব আয় কম পাচ্ছে। এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে অবিলম্বে নিবন্ধন ব্যয় কমানো প্রয়োজন।

মন্তব্য