kalerkantho

বুধবার । ২২ মে ২০১৯। ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৬ রমজান ১৪৪০

জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের সভা

‘সংকটময় মুহূর্ত’ পার করছে বৈশ্বিক শ্রমবাজার

আরিফুর রহমান, নিউইয়র্ক থেকে   

১৭ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



‘সংকটময় মুহূর্ত’ পার করছে বৈশ্বিক শ্রমবাজার

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের শিকার বিশ্বের কম-বেশি সব দেশ। কার্বন নিঃসরণের মাত্রা দিন দিন বাড়ছে। এ ছাড়া প্রযুক্তির ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক শ্রমবাজার এক অস্থির সময় পার করছে। এমন বাস্তবতাকে এক ‘সংকটময় মুহূর্ত’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের (ইকোসক) সভায়। বাণিজ্য যুদ্ধ, অসম প্রবৃদ্ধি, অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর জন্য টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন কঠিনই হবে বলে নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে ইকোসকের সভায় নীতিনির্ধারকদের আলোচনায় উঠে এসেছে।

সভায় অংশ নিয়ে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালও বলেছেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করছে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব একক দেশের পক্ষে মোকাবেলা করা সম্ভব নয়। দরকার সমন্বিত উদ্যোগ। এ জন্য তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশের কোনো ভূমিকা না থাকলেও বাংলাদেশ এর বিরূপ প্রভাবের শিকার, যা এর উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্ত করছে। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সোমবার জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত ইকোসকের সভা সাংবাদিকদের কাছে এসব কথা বলেন।

সভায় অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের পাশাপাশি রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী বাংলাদেশের উন্নয়নে নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করছে। তিনি বলেন, মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর টেকসই প্রত্যাবাসন এবং এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ফলপ্রসূ ভূমিকা রাখতে হবে। এই ফোরামের সভায় শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, উন্নয়নশীল সব দেশের পক্ষে বক্তব্য দেন মুস্তফা কামাল। এলডিসি থেকে উত্তরণকারী দেশগুলোর পক্ষ নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্দেশে তিনি বলেন, এসব দেশের টেকসই উত্তরণ নিশ্চিত করতে প্রাথমিক পর্যায়ে নীতিগত বিষয়গুলো পুনর্বিবেচনা করে সহযোগিতার পদক্ষেপগুলো অবারিত রাখতে হবে। ‘টেকসই উত্তরণ’ অর্জনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বের কথাও ওই ফোরামে তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। মুস্তফা কামাল বলেন, ‘এলডিসি থেকে উত্তরণ আমাদের জাতীয় আকাঙ্ক্ষার একটি। বাংলাদেশ দ্রুততার সঙ্গে টেকসই উন্নয়নের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। আমরা রূপকল্প ২০২১ ও রূপকল্প ২০৪১ গ্রহণ করেছি এবং এই রূপকল্পদ্বয়ে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যগুলো অন্তর্ভুক্ত করেছি।’ রোহিঙ্গাদের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের সমসত্তাকে নষ্ট করছে। পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবেও আমাদের ক্ষতি করছে।

ইকোসকের সভায় জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতারেস বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন আমাদের সামনে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ। প্রযুক্তির ব্যবহার যেভাবে বাড়ছে, তাতে শ্রমিকরা বেকার হয়ে পড়ছে। শ্রমবাজার অস্থির হয়ে উঠছে। কর্মসংস্থানের বদলে মানুষ বেকার হয়ে পড়ছে। এসব কারণে এসডিজি বাস্তবায়ন বেশ কঠিন হয়ে পড়বে। বৈশ্বিক এসব চ্যালেঞ্জ একক নয়; সবাইকে একসঙ্গে মোকাবেলা করতে হবে।’ গুতেরেস বলেন, এসডিজি বাস্তবায়নে অনেক টাকা দরকার। বিশ্বের অনেক দেশ আছে; যেসব দেশে রাজস্ব আদায়ের হার খুবই কম। তিনি রাজস্ব আদায়ের হার বাড়ানোর সঙ্গে বিনিয়োগ বাড়ানোর তাগিদ দেন।

গতকালের সভায় গত এক দশকে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রার চিত্র তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশের বৃত্ত থেকে পেরিয়ে বাংলাদেশ এখন প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশ অর্জন করেছে। মাথাপিছু আয় বেড়েছে। দারিদ্র্যের হার ৩১ শতাংশ থেকে কমে ২২ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। অর্থমন্ত্রী বলেন, ১৬ কোটি মানুষের অভিন্ন লক্ষ্য হলো ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ সোনার বাংলায় পরিণত করা, যে স্বপ্ন দেখেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। জাতিসংঘ মহাসচিব, সাধারণ পরিষদের সভাপতি, সদস্য দেশগুলো থেকে আগত মন্ত্রীসহ উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা, উন্নয়ন সংস্থাগুলোর প্রতিনিধি, বিশ্বব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক, জাতিসংঘ ও এর সহযোগী সংস্থাগুলোর কর্মকর্তা, অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি, সংশ্লিষ্ট অংশীজন, সিভিল সোসাইটি ও ব্যবসায়ী সেক্টরের প্রতিনিধিসহ স্থানীয় প্রতিনিধিরা নিউ ইয়র্কে অনুষ্ঠিত চতুর্থ এফএফডির এই সভায় অংশগ্রহণ করেন।

মন্তব্য