kalerkantho

বুধবার । ২২ মে ২০১৯। ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৬ রমজান ১৪৪০

পুলিৎজারে ফিরে এলো রোহিঙ্গা গণহত্যার স্মৃতি

আটক সেই দুই সাংবাদিক পুরস্কৃত

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

১৭ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পুলিৎজারে ফিরে এলো রোহিঙ্গা গণহত্যার স্মৃতি

রোহিঙ্গা গণহত্যা এবং এর হোতাদের তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরে মিয়ানমারে কারাদণ্ডের শিকার রয়টার্সের দুই সাংবাদিক ওয়া লোন ও কিয়াও সোয়ে এ বছরের পুলিৎজার পুরস্কার পেয়েছেন। তাঁদের পুরস্কার পাওয়ার মধ্য দিয়ে আবারও ২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের ইন দিন গ্রামে রোহিঙ্গা গণহত্যার স্মৃতি ফিরে এসেছে।

রয়টার্সের প্রধান সম্পাদক স্টিফেস জে অ্যাডলার বলেন, অসামান্য সাহসিকতার জন্য ওয়া লোন, কিয়াও সোয়ে এবং তাঁদের সহকর্মীরা পুরস্কৃত হওয়ায় তিনি উচ্ছ্বসিত। তবে ওয়া লোন ও কিয়াও সোয়ে এখনো মিয়ানমারের কারাগারে থাকায় তিনি অত্যন্ত মর্মাহত।

তিনি বলেন, ‘কাজের স্বীকৃতি পাওয়া সন্তুষ্টির বিষয়। তবে আমাদের কাজের স্বীকৃতি পাওয়ার চেয়ে বরং যাদের নিয়ে আমরা প্রতিবেদন তৈরি করেছি তাদের ওপরই জনগণের দৃষ্টি দেওয়া উচিত। আর এ ক্ষেত্রে রোহিঙ্গা ও মধ্য আমেরিকান অভিবাসীরাই অগ্রাধিকার দাবি রাখে।’

বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলেছে, এ বছর মিয়ানমারে তাদের দুই সাংবাদিকের সাহসী সাংবাদিকতা ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়প্রার্থীদের একটি ছবির জন্যও তাঁরা পুলিৎজার পুরস্কার পেয়েছেন। এ নিয়ে টানা দুই বছর রয়টার্স দুটি করে পুলিৎজার পেল। ২০০৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত রয়টার্স মোট সাতটি পুলিৎজার পুরস্কার পেয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে সাংবাদিকতার সবচেয়ে সম্মানজনক পুরস্কার পুলিৎজার কর্তৃপক্ষ গত সোমবার ‘আন্তর্জাতিক রিপোর্টিং’ ক্যাটাগরিতে রয়টার্সের ওই দুই সাংবাদিককে পুরস্কার দিয়েছে। পুলিৎজার কর্তৃপক্ষ বলেছে, রয়টার্সের সাংবাদিক ওয়া লোন ও কিয়াও সোয়ে মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলমানদের হত্যা ও ধারাবাহিকভাবে বহিষ্কার করে বাংলাদেশে পাঠানোর হোতা মিয়ানমারের সামরিক ইউনিট ও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী গ্রামবাসীর পরিচয় দক্ষতার সঙ্গে তুলে ধরেছেন। অত্যন্ত সাহসী সেসব প্রতিবেদনের জন্য ওই দুই সাংবাদিককে কারাগারে যেতে হয়েছে।

ওয়া লোন এবং কিয়াও সোয়ে প্রায় ৫০০ দিন ধরে মিয়ানমারের কারাগারে। তাঁরা তাঁদের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে রাখাইন রাজ্যের ইন দিন গ্রামে ১০ জন রোহিঙ্গাকে নির্মমভাবে হত্যার তথ্য তুলে ধরেছিলেন। তাঁরা দুজনই মিয়ানমারের নাগরিক। তাঁরা ইন দিন গ্রামে হাড়গোড়ে ভর্তি গণকবরের সন্ধান পেয়েছিলেন এবং ওই অপরাধের শিকার হওয়া পরিবারের সদস্য, সাক্ষী ও অপরাধের হোতাদের বক্তব্যও নিয়েছিলেন।

রয়টার্স জানায়, ওয়া লোন এবং কিয়াও সোয়ে ইন দিন গ্রামবাসীর কাছ থেকে তিনটি ভয়ংকর ছবি সংগ্রহ করেছিলেন। সেগুলোর দুটিতে একটি গণকবরের সামনে ১০ জন রোহিঙ্গা পুরুষকে হাত বাঁধা অবস্থায় হাঁটু গেড়ে মাটিতে বসে থাকতে দেখা যায়। তৃতীয় ছবিতে ওই ১০ জনকেই ওই গণকবরে গুলিবিদ্ধ ও রক্তাক্ত হয়ে অসাড় পড়ে থাকতে দেখা গেছে।

তবে ওয়া লোন এবং কিয়াও সোয়েকে তাঁদের প্রতিবেদন শেষ করার আগেই ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসে গ্রেপ্তার করা হয়। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের অনেকেই একে প্রতিবেদন আটকে দিতে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের চেষ্টা হিসেবে দেখেছেন। ওয়া লোন এবং কিয়াও সোয়ে গ্রেপ্তার হওয়ার পর ‘ম্যাসাকার ইন মিয়ানমার’ (মিয়ানমারে হত্যাযজ্ঞ) শীর্ষক ওই প্রতিবেদনটি তাঁদের সহকর্মী সিমন লিউইস ও অ্যান্টোনি স্লোডকোস্কি সম্পন্ন করেন এবং গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে তা প্রকাশিত হয়। রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা আইন ভাঙার দায়ে গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে ওয়া লোন এবং কিয়াও সোয়েকে মিয়ানমার সাত বছর করে কারাদণ্ড দেয়।

মন্তব্য