kalerkantho

বুধবার । ২২ মে ২০১৯। ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৬ রমজান ১৪৪০

চলাফেরায় চাই শান্তি

নিয়ামুল কবীর সজল ময়মনসিংহ    

১৭ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



চলাফেরায় চাই শান্তি

নতুন মেয়রের কাছে প্রত্যাশা কী? ফেসবুক পেজে জনৈক যুবক এ বাক্যটি লিখে পোস্ট দিয়েছিলেন। সেখানে অর্ধেকের বেশি মন্তব্য এসেছে, ‘শহরে চলাফেরায় শান্তি চাই’। বাস্তবতা হলো বর্তমানে ময়মনসিংহ মহানগরের সবচেয়ে যন্ত্রণাদায়ক সমস্যা হলো চলাফেরায় ভোগান্তি। হাঁটা যায় না, ফুটপাত বেদখল বলে। রিকশা বা ইজি বাইকে (ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা) যাওয়া যায় না প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে যানজটের কারণে। সড়ক পার হতে গিয়েও ঝুঁকি নিতে হয় নাগরিকদের।

নাগরিকরা মনে করে, ভবিষ্যতে এ মহানগরের জনপ্রতিনিধিদের প্রথম চ্যালেঞ্জটিই হবে শহরবাসীকে শান্তিতে চলাফেরার সুযোগ করে দেওয়া, যানজট নিরসনে উদ্যোগী ভূমিকা নেওয়া ফুটপাত দখলমুক্ত করা এবং হাঁটাচলার জন্য নিরাপদ সড়ক তৈরি করা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, নতুন বিভাগীয় এ শহরে ব্যবসা, শিক্ষা, চাকরি ইত্যাদি কারণে লোকজনের চলাফেরা বেড়েছে। শহর এলাকা দিন দিন বড় হচ্ছে। এক প্রান্তের বাসিন্দাদের আরেক প্রান্তে যেতে হচ্ছে। কিন্তু এ চলাফেরায় পাল্লা দিয়ে বাড়ছে নানামুখী ভোগান্তি। শহরে নাগরিকদের বিড়ম্বনার জায়গাগুলো হলো ব্রহ্মপূত্র নদের সেতু ছোঁয়া পাট গুদাম বাসস্ট্যান্ড ও সেতুর মোড়, গাঙিনার পাড় মোড়, স্টেশন রোড মোড়, নতুন বাজার মোড়, চরপাড়া মোড়, জিলা স্কুল মোড়, নওমহল গরুর খোয়াড় মোড়, সি কে ঘোষ সড়ক, দুর্গাবাড়ী সড়ক ও মোড়, ছোট বাজার, বড় বাজার ইত্যাদি। যানজটের কারণে এসব জায়গায় এসে যানবাহন আর স্বাভাবিক গতিতে চলতে পারে না। অথচ শহরবাসীর প্রায় সবাইকেই কোনো না কোনো সময় এসব মোড় হয়ে যাতায়াত করতে হয়।

গত কয়েক বছরে শহরের প্রধান সড়কসহ বেশ কিছু সড়কে পথচারীদের হাঁটার সুবিধার্থে পাকা স্লাব দিয়ে তৈরি করা হয়েছে ফুটপাত। কোথাও কোথাও এ ফুটপাতে টাইলসও বসানো হয়েছে। কিন্তু দেখা গেছে, শহরের সবচেয়ে ব্যস্ততম এলাকা গাঙিনার পাড় এবং স্টেশন রোড এলাকায় বেদখল ও দোকানপাট হওয়ার কারণে ফুটপাত দিয়ে হাঁটাই যায় না। আবার গাঙিনার পাড় থেকে নতুন বাজার ও জিলা স্কুল পর্যন্ত ফুটপাতের স্লাব অনেক স্থানে ভাঙা। সম্প্রতি সি কে ঘোষ সড়কের দুই পাশে ফুটপাত নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু এগুলো এত সরু যে দুজন পথচারী পাশাপাশি হেঁটে যেতে পারে না।

শহরে কোনো গণপরিবহন নেই। রিকশা ও ইজি বাইকের ওপর নির্ভরশীল নাগরিকরা। রিকশা ও ইজি বাইকচালকরা সড়কে নিয়ম মানে না। বেপরোয়া ও বিশৃঙ্খল চলাচলের কারণে যানজট লেগে যায়।

সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি কালের কণ্ঠকে বলেন, যানজট দূর করতে হলে শহরের প্রধান সড়কসহ কিছু কিছু ট্রাফিক মোড়কে প্রশস্ত করতেই হবে। কোনো কোনো সড়কও প্রশস্ত করা জরুরি। এ ছাড়া যানবাহন চালককে ট্রাফিক আইন মানতে বাধ্য করতে হবে। ছোট ছোট বাস দিয়ে শহরের বাইপাস ও ব্রহ্মপুত্রের পাড় ঘেঁষে যাওয়া খান বাহাদুর ইসমাইল সড়ক ব্যবহার করে গণপরিবহনব্যবস্থাও চালু করার সম্ভব বলে অনেকে মতামত দিয়েছেন।

ময়মনসিংহ শহরবাসীর আরেক যন্ত্রণা হলো সড়ক বা সড়কের মোড় পার হওয়া নিয়ে। বেপরোয়া চলাচলকারী যানবাহনের কারণে লোকজনকে মোড় বা সড়ক পার হতে গিয়ে ঝুঁকি নিতে হয়। সব কয়টি মোড়ই বলতে গেলে দৌড়ে পার হতে হয়। বিভাগীয় শহর হলেও অনেক সড়কেই পথচারী পারাপারে জেব্রা ক্রসিং নেই। যে দু-একটা আছে, এগুলো ব্যবহারে কেউ সচেতন নয়।

ময়মনসিংহের বিশিষ্ট চক্ষু চিকিৎসক ডা. কে আর ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, গাঙিনার পাড় মোড়টি পার হতে গিয়ে যে ভোগান্তি হয় তা বলার মতো না। তিনি বলেন, বহুবার এ বিষয়ে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তিনি। কিন্তু কোনো সমাধান হয়নি।

সম্প্রতি সড়কে রিকশাভ্যানে করে ফলমূল বিক্রি করার ঘটনাটি পথচারী ও যানচালকদের নতুন যন্ত্রণায় ফেলেছে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ দুর্গাবাড়ী সড়কের দুই পাশেই এখন সারি সারি ভ্যানে ফলের দোকান। সানকিপাড়া শেষ মোড়, চরপাড়া সড়ক, সি কে ঘোষ সড়ক, মদনবাবু সড়ক, পুরনো পুলিশ ক্লাব সড়ক, ট্রাংকপট্টিসহ আরো কয়েকটি সড়কে এ ধরনের দোকান বসানোর কারণে যান চলাচল ও পথচারীদের বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে।

একাধিক শহরবাসী তাঁদের ব্যক্তিগত মতামত তুলে ধরে কালের কণ্ঠকে বলেন, নতুন মেয়রের জন্য অন্যতম চ্যালেঞ্জ হবে এ শহরের যানজট দূর করা। ফুটপাত দখলমুক্ত করা। হাঁটাচলার জন্য সড়কগুলোতে উপযুক্ত সুবিধা চালু করা। জেলা মহিলা পরিষদের সভাপতি মনিরা বেগম অনু বলেন, ‘নতুন মেয়রকে সবার আগে শহরের যানজট দূর করার উদ্যোগ নিতে হবে।’

মন্তব্য