kalerkantho

বুধবার । ২২ মে ২০১৯। ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৬ রমজান ১৪৪০

বগুড়ায় বিএনপি নেতাকে ছুরি মেরে হত্যা

‘পরিবহন মালিকদের একটি পক্ষ হত্যার হুমকি দিচ্ছিল’

নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া   

১৬ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



বগুড়ায় বিএনপি নেতাকে ছুরি মেরে হত্যা

বগুড়া সদর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও পরিবহন ব্যবসায়ী অ্যাডভোকেট মাহবুল আলম শাহীন (৪০) সন্ত্রাসীদের উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে খুন হয়েছেন। গত রবিবার রাতে উপশহর এলাকায় নিহত শাহীনের বাড়ি ঘটনাস্থল থেকে অল্প দূরে ধরমপুর এলাকায়। একই সঙ্গে তিনি ছিলেন বিএনপি নেতা, পরিবহন মালিক নেতা ও আইনজীবী।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত রবিবার রাত ১১টার দিকে শহরের উপশহর বাজার এলাকায় দাঁড়ানো অবস্থায় ছিলেন শাহীন। এ সময় সাত-আটজন সশস্ত্র সন্ত্রাসী সঙ্গবদ্ধ হামলা চালিয়ে তাঁর শরীরের বিভিন্ন অংশে ও দুই পা ক্ষতবিক্ষত করে। একপর্যায়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। হামলাকারীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে চলে গেলে স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। কিন্তু পথেই তিনি মারা যান। 

প্রাথমিকভাবে পরিবহন মালিকদের সংগঠন মোটর মালিক গ্রুপের চলমান বিরোধে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে মনে করছে নিহতের স্বজনরা। একই সঙ্গে সন্দেহের তালিকায় উপশহর স্নিগ্ধা আবাসিক এলাকায় জমি নিয়ে বিরোধের বিষয়টিও উঠে এসেছে। এ ছাড়া আইন ব্যবসার সূত্রে মামলা-মোকদ্দমাকেন্দ্রিক শাহীনের অনেক শত্রু ছিল বলে জানিয়েছেন তাঁর ভাতিজা মেজবাহ।

গত রবিবার রাত থেকেই বগুড়া পুলিশের কয়েকটি টিম ছাড়াও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) সদস্যরা মাঠে নেমেছেন খুনের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের গ্রেপ্তার করতে। তাঁরা এরই মধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছেন। আশপাশের সিসি টিভি ফুটেজ দেখে পুলিশ জড়িতদের শনাক্ত করতে কাজ করছে। ঘটনার সঙ্গে সাত-আটজন জড়িত ছিল বলে তদন্তকারীরা প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানতে পেরেছে।

নিহতের স্ত্রী আকতার জাহান শিল্পী বলেন, পরিবহন ব্যবসায়ী শাহীন বগুড়া জেলা মোটর মালিক গ্রুপের একটি অংশের নেতা ছিলেন। সম্প্রতি মোটর মালিক গ্রুপের আধিপত্য নিয়ে চলে আসা দুই দলের বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের লোকজন তাঁর স্বামীকে কয়েক দিন ধরে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিল বলে জানান শিল্পী।

শাহীনের বড় ভাইয়ের ছেলে শাহরিয়ার কবির বলেন, তাঁর চাচার একটি বাস (ঢাকা মেট্রো-ব-১৪-১২৭০) গত রবিবার সন্ধ্যার পরে বগুড়া থেকে ঢাকা যাচ্ছিল। পথিমধ্যে বগুড়ার শেরপুরে মালিক সমিতির পক্ষ থেকে বাসটি আটক করা হয়। এ সময় বাসটির ডান পাশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বাস আটকের খবর পেয়েই তাঁর চাচা রবিবার (১৫ এপ্রিল) রাত ৯টার দিকে বাসা থেকে বের হন। এরপর উপশহর বাজার এলাকার একটি জিমে শরীরচর্চা শেষে চাল কেনেন। এর কিছুক্ষণ পর সদরের নুনগোলা ইউপি চেয়ারম্যান আলিমুদ্দিনের সঙ্গে গল্প করার সময় দুর্বৃত্তরা হামলা করে। পরে দুজন পথচারী রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে নামাজগড় এলাকায় স্বদেশ ক্লিনিকে নেন। সেখান থেকে মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেও চিকিৎসকরা জানান যে আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।

নিহত শাহীনের আরেক ভাতিজা মেজবাহ জানান, একটি পক্ষের সঙ্গে উপশহর স্নিগ্ধা আবাসিক এলাকায় জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল শাহীনের। তাঁর কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করা হচ্ছিল। এ ছাড়া তিনি যেহেতু আইন পেশায় জড়িত, মামলা মোকদ্দমাসংক্রান্ত বিষয়েও তাঁর শত্রু ছিল অনেক।

বগুড়ার পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঁইয়া জানান, পুলিশের পক্ষ থেকে সব বিষয় গুরুত্ব সহকারে অনুসন্ধান করে জড়িতদের শনাক্ত করার কাজ করে যাচ্ছে একাধিক টিম। শিগগিরই খুনিকে শনাক্ত করা সম্ভব হবে। শাহীনকে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে—এটি নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ।

এদিকে জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে বিকেল ৪টায় দলীয় কার্যালয়ের সামনে মরহুমের জানাজা শেষে সংক্ষিপ্ত বিক্ষোভ সমাবেশে তিন দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। কর্মসূচির মধ্যে আছে মঙ্গলবার সকাল ১০টায় শোক র‌্যালি, বুধবার সকাল ১০টায় দলীয় কার্যালয়ের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন। এ ছাড়া শুক্রবার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।

ঘটনার প্রতিবাদে গতকাল সকাল সাড়ে ১১টায় বগুড়া আইনজীবী বার সমিতির পক্ষ থেকে ফুলকোর্ট রেফারেন্স এবং শোকসভার আয়োজন করা হয়। দুপুর আড়াইটায় আদালত চত্বরে আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়।

ঘটনাস্থলের পাশেই উপশহর ফাঁড়ি। এই ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর শফিকুল ইসলাম জানান, বাড়ি? ফেরার পথে উপশহর বাজার এলাকার একটি ১০তলা ভবনের সামনের চা দোকানের সামনে দাঁড়ানো অবস্থায় শাহীন সশস্ত্র হামলার শিকার হন। পুলিশ আশপাশের এলাকার ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করেছে।

বগুড়া সদর থানা ওসি বদিউজ্জামান জানান, সোমবার বিকেল পর্যন্ত শাহীন হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে পরিবারের সদস্যরা থানায় মামলা করেননি। তবে মামলার প্রস্তুতি চলছিল। নিহত শাহীনের দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। তাঁর বাবার নাম আনিসুর রহমান।

মন্তব্য