kalerkantho

সোমবার । ২০ মে ২০১৯। ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৪ রমজান ১৪৪০

জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে মুক্তি কবে?

নিয়ামুল কবীর সজল ময়মনসিংহ    

১৬ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে মুক্তি কবে?

ময়মনসিংহ শহরের প্রধান তিনটি সমস্যার একটি হলো জলাবদ্ধতা সমস্যা। প্রতি বর্ষা মৌসুমেই এ শহরের প্রধান সড়ক ও অলিগলিতে পানি জমে। শহরের অনেক এলাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা পানি জমে থাকে। সড়ক ও নালা উপচে পানি ঢুকে যায় দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে। সড়কগুলো ভেঙেচুরে ছোট-বড় খানাখন্দে ভরে যায়। অনেকটা স্থবির হয়ে পড়ে জনজীবন। নতুন এ মহানগরের বাসিন্দারা ভবিষ্যতে একটি জলাবদ্ধতামুক্ত নগর দেখতে চায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, শহরের ভাটি এলাকাগুলোতে বাড়িঘর হওয়ায়, শহরতলির খালগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় এবং নগরের ভেতরের খাল ও নালা আবর্জনা, বিশেষ করে পলিথিনে সয়লাব হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা অনেকটা দুর্বল হয়ে পড়েছে। ভারি বৃষ্টি হলে পানি দ্রুত নামতে পারে না। ১৫ বছর ধরেই এ সমস্যা প্রকট হয়ে উঠছে। এখন ভারি বৃষ্টি হলেই শহরবাসী জলাবদ্ধতার মুখোমুখি হয়।

নগরবাসীর অনেকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভারি বৃষ্টি হলে এখন প্রধান সড়ক গাঙিনারপার-নতুন বাজার-স্টেশন রোড এলাকা পানিতে ডুবে যায়। এসব এলাকায় অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান আছে। এসব প্রতিষ্ঠানও জলাবদ্ধতার কবলে পড়ে। এ কারণে প্রায় প্রতিবছরই এসব এলাকার ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এ ছাড়া শহরের সেহড়া, কৃষ্টপুর, ব্রাহ্মপল্লী, পুরোহিতপাড়া, নওমহল—এসব এলাকায় জলাবদ্ধতার কারণে বাসিন্দাদের ঘরবাড়িতে পানি ঢুকে। এমনও ঘটনা আছে যে এক ঘণ্টার বৃষ্টিতেই এসব এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। আর সেই পানি সরতে সারা দিন লেগে যায়।

শহরের মেঝুয়া বাজার এলাকার একাধিক ব্যবসায়ী বলেন, ভারি বৃষ্টি হলেই তাঁরা ভয়ে থাকেন যে এই বুঝি দোকানে পানি ঢুকল। তাঁরা জানান, এসব এলাকার অনেক দোকানের সামনে এখন ছয় ইঞ্চির মতো উঁচু দেয়াল তোলা হয়েছে শুধু এ পানি ঠেকানোর জন্য।

সেহড়া এলাকার বাসিন্দা শামস উদ্দিন আহমেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বৃষ্টি হলে বাইরের সব নোংরা পানি ঘরে ঢুকে। সেই পানি সরতে লাগে পাঁচ-ছয় ঘণ্টা। আর পানি সরলে ঘর পরিষ্কার করতে সময় লাগে প্রায় সারা দিন।’ তিনি আরো বলেন, এ এলাকার মানুষের কাছে জলাবদ্ধতা একটা অভিশাপ।

নাগরিকদের দুর্ভোগ ও ভোগান্তির পাশাপাশি এ শহরের রাস্তাঘাট সময়ের আগেই ভেঙেচুরে যাওয়ার অন্যতম কারণ জলাবদ্ধতা।

ময়মনসিংহ সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদ খান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সড়কে পানি জমে থাকলে সেই সড়ক ভেঙে যাবে। পানি হলো পিচের তৈরি সড়কের প্রধান শত্রু।’

শহরের জলাবদ্ধতা দূরীকরণে বিগত সময়ে পৌর কর্তৃপক্ষ প্রতিবছরই বিপুল অঙ্কের টাকা খরচ করে বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নিয়েছিল। নালা পরিষ্কার ও খাল খনন করেছিল। করা হয়েছিল নতুন নালা। শহরতলির পাগারিয়া খালটি খনন করা হয়েছিল। এতে কিছুটা সুফল মিললেও সমস্যার তেমন সমাধান হয়নি।

জানা গেছে, মূল শহরের জলাবদ্ধতার সমস্যা সমাধানে বিগত পৌর কর্তৃপক্ষ সি কে ঘোষ রোড, দুর্গাবাড়ি রোড এবং মহারাজা রোডে সড়কের নিচ দিয়ে পাইপ ড্রেন নির্মাণ করে। এর সুফল বা কুফল এখনো বোঝা যাচ্ছে না। আসন্ন বর্ষায় প্রকল্পটির সার্থকতা জানা যাবে।

শহরের আমলাপাড়া এলাকার বাসিন্দা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ভাস্কর সেনগুপ্ত কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘শহরের জলাবদ্ধতার সমস্যা সমাধানে এর আগে নেওয়া প্রকল্পগুলোর পুরোপুরি সুফল আমরা পাইনি। এসব প্রকল্প ভেবেচিন্তে নেওয়া উচিত।’ তিনি আরো বলেন, এ সমস্যা সমাধানে নালাগুলো গভীর করে খনন এবং সেগুলো দখলমুক্ত রাখা প্রয়োজন। আগামী দিনে নগর সংস্থার নির্বাচিত মেয়র এ ব্যাপারে উদ্যোগ নেবেন বলে তিনি প্রত্যাশা করেন।

একাধিক বাসিন্দা জানায়, এবারের বর্ষাতেই ধারণা পাওয়া যাবে, সমাপ্ত প্রকল্পগুলো জলাবদ্ধতা নিরসনে কতটা কার্যকরী হয়েছে।

বিলুপ্ত পৌরসভার মেয়র পদে থাকাকালে এবং পরে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক পদে থাকার সময়ে শহরের জলাবদ্বতা নিরসনে অনেক প্রকল্প হাতে নেন ইকরামুল হক টিটু। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, এর কোনোটি শেষ হয়েছে, কোনোটির কাজ চলছে। তিনি আশা করেন, আসন্ন বর্ষায় অন্যবারের মতো জলাবদ্ধতার সমস্যা থাকবে না।

মন্তব্য