kalerkantho

মঙ্গলবার । ২১ মে ২০১৯। ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৫ রমজান ১৪৪০

রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল শ্রমিকদের ধর্মঘট প্রত্যাহার

বিভিন্ন স্থানে শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ, যানজট-দুর্ভোগ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৬ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল শ্রমিকদের ধর্মঘট প্রত্যাহার

ছবি : কালের কণ্ঠ

রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলে শ্রমিকদের তৃতীয় দফা ধর্মঘট চলাকালে গতকাল সোমবার রাত ১২টার দিকে সরকারের সঙ্গে আন্দোলনরত শ্রমিকদের এক বৈঠকের পর ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, আগামী ১৮ মে থেকে নতুন মজুরি কমিশন অনুযায়ী শ্রমিকদের বেতন দেওয়া হবে এবং ২৫ মের মধ্যে শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধ করা হবে।

শ্রম অধিদপ্তরের সভাকক্ষে শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুন্নুজান সুফিয়ানের সঙ্গে আন্দোলনরত শ্রমিকদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। বকেয়া মজুরি আদায়, মজুরি কমিশন বাস্তবায়নসহ ৯ দফা দাবিতে খুলনার রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল শ্রমিকরা গতকাল তৃতীয় দফায় ৯৬ ঘণ্টার টানা ধর্মঘট শুরু করে। দাবি বাস্তবায়নে শ্রম প্রতিমন্ত্রীর আশ্বাসের পর শ্রমিক নেতারা ধর্মঘট স্থগিতের ঘোষণা দেন।

এর আগে ধর্মঘটের ফলে খুলনা, যশোর, চট্টগ্রাম ও নারায়ণগঞ্জের শিল্পাঞ্চল উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। শ্রমিকরা রাজপথ-রেলপথ অবরোধ কর্মসূচি পালন করছে। গতকাল চার ঘণ্টার অবরোধ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। অবরোধের কারণে সড়ক-মহাসড়কে সৃষ্ট যানজটে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে সাধারণ যাত্রীরা। ব্যাহত হচ্ছে ট্রেন চলাচলও।

মজুরি কমিশন বাস্তবায়ন, বকেয়া মজুরি পরিশোধ, অস্থায়ী শ্রমিকদের স্থায়ীকরণ, পাট খাতে অর্থ বরাদ্দসহ ৯ দফা দাবিতে পাটকল শ্রমিক লীগ সিবিএ-ননসিবিএ ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। এর আগে ২ এপ্রিল থেকে শ্রমিকরা একই দাবিতে ৭২ ঘণ্টার ধর্মঘট পালন করে। এবারও দাবি মানা না হলে ২৫ এপ্রিল প্রতিটি মিলে শ্রমিক সভা এবং ২৭, ২৮ ও ২৯ এপ্রিল টানা ৭২ ঘণ্টা ধর্মঘট ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হবে বলে জানান শ্রমিক নেতারা।

শ্রমিকদের অন্যান্য দাবির মধ্যে রয়েছে অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক-কর্মচারীদের পিএফ, গ্র্যাচুইটি ও মৃত শ্রমিকের বীমার বকেয়া প্রদান, বরখাস্ত শ্রমিকদের কাজে পুনর্বহাল, শ্রমিক-কর্মচারীদের নিয়োগ স্থায়ীকরণ, পাট মৌসুমে পাট কেনার জন্য অর্থ বরাদ্দ এবং উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে মিলগুলোকে পর্যায়ক্রমে বিএমআরই করা।

খুলনা অফিস জানায়, খুলনা অঞ্চলে রাষ্ট্রায়ত্ত ক্রিসেন্ট, প্লাটিনাম, খালিশপুর, দৌলতপুর, স্টার, আলিম, ইস্টার্ন এবং যশোরের কার্পেটিং ও জেজেআই জুটমিলের শ্রমিকরা চলমান আন্দোলনে সামনের সারিতে থেকে অংশ নিচ্ছে।

ধর্মঘট শুরুর প্রথম দিনে গতকাল সকাল ৬টা থেকে ধর্মঘট ও সকাল ৮টা থেকে ১২টা পর্যন্ত অবরোধ কর্মসূচি পালিত হয়।

শ্রমিক অবরোধের কারণে দুপুর ১২টা পর্যন্ত খুলনার সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ থাকে। একই সঙ্গে খুলনা-যশোর মহাসড়কে নতুন রাস্তার মোড়, আলিম জুটমিল গেট ও যশোরের রাজঘাটে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। নতুন রাস্তা মোড়ে শ্রমিকরা পাটমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করে তাঁর কুশপুত্তলিকায় অগ্নিসংযোগ করে।

নিজস্ব প্রতিবেদক চট্টগ্রাম থেকে জানান, রাষ্ট্রায়ত্ত ৯টিসহ দেশের ২২টি পাটকলের শ্রমিকদের ৯ দফা দাবিতে আন্দোলনের অংশ হিসেবে গতকাল চট্টগ্রামে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে আমিন জুটমিলের শ্রমিকরা। চট্টগ্রামে আমিন জুটমিলসহ ১০টি জুটমিল রয়েছে।

শ্রমিকরা সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত চার ঘণ্টা এই বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে। তারা টায়ার ও কাঠ জ্বালিয়ে সড়কে অবস্থান নেয়। দুর্ভোগে পড়ে নগরের মুরাদপুর থেকে অক্সিজেন রুটে চলাচলকারী যানবাহনের চালক ও যাত্রীরা। অবরোধের কারণে সড়কে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়।

সিদ্ধিরগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান, ৯ দফা দাবিতে তৃতীয় দফায় গতকাল ডেমরার রাষ্ট্রায়ত্ত দুই পাটকলের শ্রমিকরা উৎপাদন বন্ধ রেখে ধর্মঘট পালন করেছে। তারা সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ডেমরা-যাত্রাবাড়ী ও ডেমরা-রামপুরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে।

লতিফ বাওয়ানী জুটমিলস ও করিম জুটমিলের হাজার হাজার শ্রমিক তাদের দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সড়কে আগুন জ্বালিয়ে স্লোগান দেয়। অবরোধের কারণে সড়কে চার ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। এতে চরম ভোগান্তির শিকার হয় বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রীরা।

লতিফ বাওয়ানী জুটমিল সিবিএর কার্যকরী সভাপতি মোহাম্মদ আলী বলেন, মজুরি কমিশন শ্রমিকদের প্রাণের দাবি। সন্তান-সন্তুতি নিয়ে অনাহার-অর্ধাহারে দিন যাপন করছে তারা। পেটের জ্বালায় তারা দাবি আদায়ে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছে।

শ্রম অধিদপ্তরে বৈঠক : শ্রমিকদের দাবিদাওয়া নিয়ে গতকাল বিকেল ৫টায় ঢাকায় শ্রম প্রতিমন্ত্রীর উপস্থিতিতে শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পাটকল সিবিএ-ননসিবিএ ঐক্য পরিষদের যুগ্ম সম্পাদক ও জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের খুলনা জেলা সহসভাপতি খলিলুর রহমান গতকাল বিকেলে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘শ্রম অধিদপ্তরে বিকেল ৫টায় সভা শুরু হয়েছে। এখানে আমাদের দাবিদাওয়া নিয়ে আলোচনা হবে। তবে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। আলোচনা ফলপ্রসূ হলে পরবর্তী সময়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মন্তব্য