kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২০ জুন ২০১৯। ৬ আষাঢ় ১৪২৬। ১৬ শাওয়াল ১৪৪০

সবিশেষ

মস্তিষ্কে নতুন কোষ জন্মায় জীবনভর!

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৭ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



মস্তিষ্কে নতুন কোষ জন্মায় জীবনভর!

নতুন একটি গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষের মস্তিষ্কে প্রায় সারা জীবনই নতুন কোষ তৈরি হয়। কমপক্ষে ৯৭ বছর পর্যন্ত এ প্রক্রিয়া চলে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এত দিন মনে করা হতো যে, জন্মের সময় মস্তিষ্কে যে পরিমাণ কোষ থাকবে, জীবনভর সে সংখ্যাটিই রয়ে যাবে, তাই নতুন ধারণাটি ব্যাপকভাবে বিতর্ক সৃষ্টি করবে।

ইউনিভার্সিটি মাদ্রিদের এক দল গবেষক এমনও দেখিয়েছেন যে বয়সের সঙ্গে সঙ্গে নতুন কোষ তৈরির সংখ্যা বন্ধও হয়ে যেতে পারে। আলঝেইমার রোগের

প্রাথমিক পর্যায়ে কোষের সংখ্যা নাটকীয়ভাবে কমতে থাকে, তাই ডিমনেশিয়া বা স্মৃতিভ্রংশ রোগের জন্যে এমন গবেষণা নতুন ধারণার সৃষ্টি করে।

মানুষের মস্তিষ্কের বেশির ভাগ কোষ যা নিউরন নামে পরিচিত, নিজেদের মধ্যে বৈদ্যুতিক সংকেত পাঠায়। আর এ প্রক্রিয়া আমাদের জন্মের সময় থেকেই শুরু হয়।

অন্য স্তন্যপায়ী প্রাণীদের ক্ষেত্রে গবেষণায় দেখা গেছে, জীবনের পরবর্তী সময়েও তাদের মস্তিষ্কে নতুন কোষের সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু মানুষের ক্ষেত্রে নতুন নিউরনের উদ্ভব বা যে প্রক্রিয়াকে বলা হয় ‘নিউরোজেনেসিস’—এটি অব্যাহত থাকে কি না, তা নিয়ে বিতর্ক থেকে গেছে।

‘নেচার মেডিসিন’ সাময়িকীতে প্রকাশিত এ গবেষণাটি করা হয় ৫৮ জন মৃত মানুষের মস্তিষ্ক নিয়ে। যাদের বয়স ছিল ৪৩ থেকে ৯৭ বছরের মধ্যে। গবেষণায় মূল মনোযোগ দেওয়া হয় মস্তিষ্কের ‘হিপ্পোক্যাম্পাস’ নামক অংশে, যেটি স্মৃতি এবং আবেগ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে।

জন্মের পর থেকে নিউরন মস্তিষ্কে পরিপূর্ণরূপে থাকে না, বৃদ্ধি এবং পরিপক্ব হওয়ার প্রক্রিয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা পূর্ণতা পায়। গবেষকরা মস্তিষ্কের এই অপরিণত বা ‘নতুন’ নিউরনকে শনাক্ত করতে পেরেছেন।

একটি সুস্থ মস্তিষ্কে বয়সের সঙ্গে সঙ্গে নিউরোজেনেসিস বা নিউরনের বৃদ্ধির পরিমাণ ‘সামান্য কম’ দেখতে পাওয়া যায়। গবেষক ড. মারিয়া লরেন্স-মার্টিন বিবিসিকে বলেন, ‘আমার বিশ্বাস, মানুষ যতক্ষণ নতুন কিছু শিখছে ততক্ষণ নতুনভাবে নিউরনের বৃদ্ধি ঘটছে। এবং এটি আমাদের জীবনের প্রতি মুহূর্তেই ঘটে চলেছে।’

কিন্তু আলঝেইমার রোগীদের ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন। আলঝেইমারের প্রাথমিক পর্যায়ে নতুন নিউরন বৃদ্ধির সংখ্যা প্রতি মিলিমিটারে ৩০ হাজার থেকে কমে দাঁড়ায় ২০ হাজারে। ড. লরেন্স-মার্টিনের মতে, রোগটির একদম শুরুতে এ হ্রাসের পরিমাণ থাকে ৩০ শতাংশ। সূত্র : বিবিসি।

 

 

মন্তব্য