kalerkantho

বুধবার । ২২ মে ২০১৯। ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৬ রমজান ১৪৪০

গোলানকে ইসরায়েলি ভূখণ্ডের স্বীকৃতি

ট্রাম্পের নিন্দা দেশে বিদেশে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৭ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ট্রাম্পের নিন্দা দেশে বিদেশে

ছবি: ইন্টারনেট

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে উপেক্ষা করে গোলান মালভূমিকে ইসরায়েলের ভূখণ্ড হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত সোমবার হোয়াইট হাউসে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে পাশে বসিয়ে এ বিষয়ক একটি স্বীকৃতিপত্রে স্বাক্ষর করেন তিনি। ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করে সিরিয়া বলেছে, তারা ‘যেকোনো উপায়ে’ গোলান মালভূমি পুনরুদ্ধার করবে।

কেবল সিরিয়া নয়, ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে জাতিসংঘসহ বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশ। সবাই বলছে, গোলানকে ইসরায়েলি ভূখণ্ডের স্বীকৃতি দিয়ে ট্রাম্প আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছেন।

সিরিয়ার রাজধানী দামেস্ক থেকে ৬০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে গোলান মালভূমি অবস্থিত। এর মোট আয়তন এক হাজার ৮০০ বর্গকিলোমিটার। এর মধ্যে প্রায় এক হাজার ২০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা ১৯৬৭ সালে এক যুদ্ধের মাধ্যমে সিরিয়ার কাছ থেকে দখল করে নেয় ইসরায়েল। এরপর ১৯৮১ সালে বেআইনিভাবে এটি নিজেদের ভূখণ্ড করে নেয় তারা। বাকি ৬০০ বর্গকিলোমিটার এখনো সিরিয়ার অধীনে রয়েছে।

জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখনো ওই এক হাজার ২০০ বর্গকিলোমিটার এলাকাকে ইসরায়েলের ভূখণ্ড হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রও এত দিন স্বীকৃতি দেওয়া থেকে বিরত ছিল। কিন্তু সোমবার একটি স্বীকৃতিপত্রে স্বাক্ষর করার মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচ দশকের সেই পররাষ্ট্রনীতির ইতি টানেন ট্রাম্প। ইসরায়েলের সরকারি ওই স্বীকৃতিপত্রে লেখা আছে, ‘গোলান মালভূমি ইসরায়েলের ভূখণ্ড’।

স্বাক্ষরের পর ট্রাম্প বলেন, ‘এই সিদ্ধান্ত নিতে অনেক সময় লাগল। এটি আরো কয়েক দশক আগে হওয়া উচিত ছিল।’ ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়ে নেতানিয়াহু বলেন, ‘গোলান মালভূমিকে ইসরায়েলের ভূখণ্ড হিসেবে আপনি যে স্বীকৃতি দিলেন, তা ঐতিহাসিক।’ ট্রাম্প অবশ্য কয়েক দিন আগে এক টুইটার বার্তায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, আগামী মাসে ইসরায়েলে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তাতে জয়ী হয়ে নেতানিয়াহু যাতে আরেকবার প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন, তা নিশ্চিত করতেই ট্রাম্প এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

এদিকে একাধিক সংস্থা ও রাষ্ট্রপ্রধান ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করেছেন। অনেকেই ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছেন। কারণ জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অন্তত তিনটি প্রস্তাব (২৪২, ৩৩৮ ও ৪৯৭ নম্বর প্রস্তাব) অনুযায়ী ট্রাম্প এ ধরনের স্বীকৃতি দিতে পারেন না।

সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্রের বরাত দিয়ে দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা সানার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘ট্রাম্প আমাদের সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি আঘাত করেছেন। জবরদখলের স্বীকৃতি দেওয়ার কোনো অধিকার তাঁর নেই। সিরিয়া যেকোনো উপায়ে গোলান মালভূমি রক্ষা করবে।’ প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ‘ইসরায়েলকে একের পর এক অন্যায্য সুবিধা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের আরব বিশ্বের সবচেয়ে বড় শত্রু হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে।’

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মুখপাত্র বলেছেন, ট্রাম্পের ঘোষণার পরও মহাসচিবের কাছে এটা স্পষ্ট যে ‘গোলানের আন্তর্জাতিক মর্যাদায়’ কোনো পরিবর্তন হয়নি।

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কাভুসোগলু বলেছেন, ‘ট্রাম্প আসলে নেতানিয়াহুর জন্য একটি নির্বাচনী উপহারপত্রে স্বাক্ষর করেছেন। কারণ আগামী নির্বাচনে নেতানিয়াহুর জন্য কঠিন সময় অপেক্ষা করছে।’ তিনি ট্রাম্পের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনি যত চেষ্টাই করুন না কেন, বিফলে যাবে।’

ট্রাম্পের সমালোচনা করেছে সৌদি আরবও। দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা এসপিএর খবরে বলা হয়, ‘মার্কিন প্রশাসন যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সৌদি আরব তা জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করছে।’ ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তকে আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী উল্লেখ করে খবরে বলা হয়, ‘এর মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া ব্যাহত হবে। হুমকিতে পড়বে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাও।’

লেবাননের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্ত ‘শান্তির সম্ভাবনাকে ক্ষীণ করে দিল।’

রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাকারোভা বলেন, ‘এখন মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতা বেড়ে যাবে।’

বাহরাইনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার যে চেষ্টা চলছে, তা নস্যাৎ হয়ে গেল। এ ছাড়া ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক আইনেরও লঙ্ঘন।’

উল্লেখ্য, ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প এ নিয়ে নেতানিয়াহুর হাতে দুটি বড় ‘উপহার’ তুলে দিলেন। ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে উপেক্ষা করে জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেন তিনি। তখন কঠোর সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন ট্রাম্প। সূত্র : বিবিসি, এএফপি।

 

মন্তব্য