kalerkantho

সোমবার। ১৭ জুন ২০১৯। ৩ আষাঢ় ১৪২৬। ১৩ শাওয়াল ১৪৪০

চকবাজার ট্র্যাজেডি নিয়ে গোলটেবিল

কর্তৃপক্ষকে দায়বদ্ধ করতে ব্যর্থ হওয়াই ঘটনার বড় কারণ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৭ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কর্তৃপক্ষকে দায়বদ্ধ করতে ব্যর্থ হওয়াই ঘটনার বড় কারণ

‘নিমতলী ও চকবাজারের ঘটনার বড় কারণ হলো কর্তৃপক্ষকে দায়বদ্ধ করতে ব্যর্থ হওয়া। এই ব্যর্থতার দায়ভার আমাদের সবার—নাগরিক সমাজের, গণমাধ্যমের। আমাদের সংসদীয় কমিটিগুলো যদি নিমতলীর ঘটনার পর নিয়মিত ফলোআপ করত, তাহলে হয়তো চকবাজারের ট্র্যাজেডি ঘটত না।’ গতকাল  শনিবার  জাতীয় প্রেস ক্লাবে নাগরিক সংগঠন সুজনের (সুশাসনের জন্য নাগরিক) পক্ষ থেকে ‘চকবাজার ট্র্যাজেডি ও ফলোআপ’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে এ কথা বলা হয়।

বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুজনের জাতীয় কমিটির সদস্য ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর।

প্যানেল আলোচক ছিলেন স্থপতি ইকবাল হাবিব। সুজনের পক্ষ থেকে ছিলেন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার, নির্বাহী সদস্য সৈয়দ আবুল মকসুদ ও প্রকৌশলী মুসবাহ আলীম এবং সংগঠনটির জাতীয় কমিটির সদস্য রোবায়েত ফেরদৌস। কেমিক্যাল ব্যবসায়ীদের মধ্য থেকে ছিলেন এফবিসিসিআইয়ের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যান্ড কেমিক্যালসের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ বেলায়েত হোসাইন। বৈঠকে মতামত ব্যক্ত করেন নগর পরিকল্পনাবিদ রিয়াজ উদ্দিন, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) যুগ্ম সম্পাদক মিহির বিশ্বাস, আবুল বাশার হাওলাদার, নাজিম উদ্দিন, সাংবাদিক পাঠান আজহার, ক্যামেলিয়া চৌধুরী, জাহাঙ্গীর আলম, সেলিনা হাফিজ প্রমুখ।

মূল প্রবন্ধে মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর বলেন, সমগ্র পুরান ঢাকাই বিভিন্নভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। নাগরিক সমাজ নগর পরিকল্পনাবিদ, প্রকৌশলী, স্থপতি, ব্যবসায়ী সমাজ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের নিয়ে পুরান ঢাকার নতুন নকশা প্রণয়ন করতে পারে। ঐতিহাসিক স্থাপনা সংরক্ষণ করেই হতে হবে এই পরিকল্পনা।

স্থপতি ইকবাল হাবিব বলেন, ‘আমাদের রাষ্ট্র নিমতলী ও চকবাজারের ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তি নিশ্চিত করছে না। আমি মনে করি, ক্ষতিপূরণের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। অবশ্যই ক্ষতিপূরণ দিতে হবে; কিন্তু একই সঙ্গে যারা এসব ঘৃণ্য ও মর্মান্তিক ঘটনার জন্য দায়ী, তাদেরও শাস্তির আওতায় আনতে হবে। অবৈধ ব্যবসা বন্ধে সিটি করপোরেশন ও বিস্ফোরক অধিদপ্তর যদি কোনো পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে এই সিটি করপোরেশন ও বিস্ফোরক অধিদপ্তরের দরকার নেই।’

সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, যদি সরকারের সদিচ্ছা থাকে এবং রাজউক ও সিটি করপোরেশনের দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা যায়, তাহলেই ভবিষ্যতে নিমতলী ও চকবাজারের ট্র্যাজেডির মতো ঘটনা এড়ানো যাবে। কোনো একটি দুর্ঘটনা ঘটলে সঙ্গে সঙ্গে কারখানা-গুদাম বন্ধ করে দিলেই সমস্যার সমাধান হয়ে যায় না। পুরান ঢাকা থেকে অবৈধ ব্যবসা অপসারণ এবং নগরকে নিরাপদ করে তোলার জন্য সংশ্লিষ্ট সব বিভাগকে সঙ্গে নিয়ে একটি সেল গঠন করা যেতে পারে। 

রোবায়েত ফেরদৌস বলেন, ‘আমাদের সমাজের জবাবদিহি খুবই কম। দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার জন্য আমাদের সংসদ কার্যকর ভূমিকা পালন করছে না। একই সঙ্গে জবাবদিহি তৈরিতে নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যমও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করতে পারছে না।’

মোহাম্মদ বেলায়েত হোসাইন তাঁর বক্তব্যে পুরান ঢাকার কিছু এলাকাকে কমার্শিয়াল ঘোষণা করা এবং কেমিক্যালস ব্যবসার জন্য বিকল্প স্থান ও বিকল্প চিন্তা করতে হবে বলে মন্তব্য করেন।

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা