kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৭ জুন ২০১৯। ১৩ আষাঢ় ১৪২৬। ২৩ শাওয়াল ১৪৪০

গণভবনে ডাকসু নেতারা

প্রধানমন্ত্রীকে সালাম করে সহযোগিতা চাইলেন ভিপি নুর

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৭ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



প্রধানমন্ত্রীকে সালাম করে সহযোগিতা চাইলেন ভিপি নুর

ডাকসুর নবনির্বাচিত নেতারা গতকাল গণভবনে যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করতে। সেখানে ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নুরকে আশীর্বাদ করেন প্রধানমন্ত্রী। পাশে ডাকসুর জিএস গোলাম রাব্বানী উপস্থিত ছিলেন। ছবি : বাসস

ডাকসুকে কার্যকর করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহযোগিতা চেয়েছেন নবনির্বাচিত সহসভাপতি (ভিপি) নুরুল হক নুর। তিনি গতকাল শনিবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎকালে এ সহযোগিতা চান। এ সময় তিনি শেখ হাসিনার মাঝে নিজের মায়ের প্রতিচ্ছবি খুঁজে পান বলে মন্তব্য করেন।

ডাকসুর নবনির্বাচিত সব নেতার সঙ্গে সাক্ষাৎকালের পরিচয়পর্বে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পা ছুঁয়ে সালাম করেন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নুর। এ সময়ে প্রধানমন্ত্রী নুরের মাথায় হাত বুলিয়ে দেন। প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে নুর বলেন, ‘আমি আড়াই বছর বয়সে মাকে হারাই। ছোটবেলায় আমার একজন স্কুল শিক্ষিকার মাঝে মায়ের ছায়া দেখতে পেয়েছি। আর আপনার মাঝে আমি আমার মায়ের প্রতিচ্ছবি খুঁজে পাই।’

নুর তাঁর বক্তব্যে শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রশংসা করে ডাকসু কার্যকর করতে সহযোগিতা কামনা করেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ ও আলাপকালে নুরকে খুবই হাস্যোজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত দেখা যায়। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তাঁর এক পাশে নুর ও অন্য পাশে ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনকে নিয়ে বসেন। অনুষ্ঠান চলাকালে প্রধানমন্ত্রী ও নুরকে একাধিকবার হাস্যোজ্জ্বল আলাপচারিতায় দেখা যায়।

ছাত্রলীগ প্যানেল থেকে নির্বাচিত ডাকসুর প্রতিনিধিরা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে ১৩টি বাসে চড়ে গণভবনে পৌঁছেন। দুপুর ২টায় রওনা দিয়ে বিকেল সোয়া ৩টার দিকে গণভবনের ফটকে পৌঁছেন। ছাত্রলীগ থেকে বিজয়ীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে চড়ে গণভবনে গেলেও নুর ও আখতার আলাদা ভাড়া করা গাড়িতে করে সেখানে যান। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে গণভবনের ফটকে পৌঁছেন নুর। গাড়ি থেকে নেমে তিনি সেখানে আগে থেকেই অবস্থান করাছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর সঙ্গে কোলাকুলি করেন। পরে সবাই একসঙ্গে গণভবনে প্রবেশ করেন। ডাকসু, হল সংসদ ও ছাত্রলীগের নেতাসহ সব মিলিয়ে ২৫৯ জন গণভবনে ঢোকেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা ক্ষমতায় এসে অস্ত্রের পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের হাতে কলম তুলে দিয়েছি।’ তিনি বলেন, ‘বিএনপির আমল থেকে ডাকসু নির্বাচন বন্ধ ছিল। ডাকসু নির্বাচনটা চ্যালেঞ্জ ছিল আমাদের জন্য। আমরা সেটা করতে পেরেছি।’

এবারের ডাকসুর ভোট প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ‘ডাকসু নির্বাচন যেন শান্তিপূর্ণ হয়, এটা সব সময় বলেছি। ছাত্র-ছাত্রীরা যা চাইবে, তা-ই হবে। ভোট কে কত পেল, সেটা বড় নয়। ’

ডাকসুতে ভিপি পদে ছাত্রলীগের সভাপতি শোভনের পরাজয় প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ‘ভোটে হারার পর শোভন আমার কাছে এসেছে। আমি শোভনকে বলেছি, ভোটে হেরেছ, এবার যাও তাকে (নুর) অভিনন্দন জানাও। সে তা-ই করেছে। আমি এ জন্য শোভনকে ধন্যবাদ জানাই। সে রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান। তার দাদা এমপি ছিলেন, বাবা উপজেলা চেয়ারম্যান। সে তার রাজনৈতিক উদারতা দেখিয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডাকসুর নতুন নেতৃত্ব ছাত্রসমাজকে কতটুকু দিতে পারল সেটাই বড় বিষয় উল্লেখ করে বলেন, ভবিষ্যতের নেতা খুঁজতে ডাকসু নির্বাচন দেওয়া হয়েছে।  তিনি বলেন, ‘২৮ বছর এই নির্বাচন বন্ধ ছিল। আমরা ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব খুঁজছি। এই নেতৃত্ব যদি ছাত্রজীবনে গড়ে না ওঠে, তাহলে সেই নেতৃত্ব কতটুকু একটা দেশকে দিতে পারে?’ তিনি বলেন, ‘আমরা চেয়েছি এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আমাদের দেশে আবার একটা সুস্থ রাজনীতির ধারা ফিরে আসবে। রাজনীতিটা করে যেন একটা নেতৃত্ব গড়ে ওঠে সেটাই আমরা চেয়েছি। আর নেতৃত্ব গড়ে তোলার জন্যই কিন্তু এই নির্বাচন (ডাকসু)।’

ডাকসুর নবনির্বাচিত ভিপি নুর বলেন, ‘আমি শুধু ছাত্রলীগের কর্মীই ছিলাম না, ছোটখাটো নেতাও ছিলাম, পোস্টেড ছিলাম।’ পুরো পরিবার ছিল আওয়ামী লীগ রাজনীতির সঙ্গে জড়িত জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি স্কুল কমিটির ছাত্রলীগের দপ্তর সম্পাদক ছিলাম। ২০১৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বিতীয় বর্ষে থাকা অবস্থায় উপমানবসম্পদ উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক পদে ছিলাম। অথচ কোটা সংস্কার আন্দোলনের কারণে, বিনয়ের সঙ্গে বলব যে আমার ছাত্রলীগের ভাই-বন্ধুরাও কেন যেন আমাকে জামাত-শিবির বানানোর জন্য অপপ্রচার তুলেছিল।’

নুরুল হক বলেন, ‘আমরা একটি কথাই বলতে চাই যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কখনো অন্যায়ের পক্ষ নেয়নি। সব সময় ন্যায়ের পক্ষেই ছিল। দেশের সকল মঙ্গলের পক্ষে ছিল। সব মঙ্গল কাজের সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা থাকবে।’

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সংগ্রামী জীবনের প্রশংসা করে ডাকসু ভিপি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শুধু আওয়ামী লীগের নেতা নন, তিনি সারা বাংলাদেশের ও সারা বিশ্বের নেতা। জাতির পিতা বলেছিলেন—যদি কেউ ন্যায্য কথা বলে এবং সংখ্যায় যদি একজনও হয় আমরা সেটা মেনে নেব। সুতরাং যাঁরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের কথা বলবেন তাঁরা এ জিনিসিটা ধারণ করবেন।’

শিক্ষার্থীদের আবাসন সমস্যা, কারিকুলাম আধুনিকায়নসহ শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন নুরুল হক। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে স্বৈরতান্ত্রিক মনোভাবসহ নানা অভিযোগের কথা স্থান পায় নুরের বক্তব্যে।

অনুষ্ঠানে ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন, ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী, সহসাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন, ১৩ হল সংসদের ভিপি বক্তব্য দেন। বক্তব্যে ডাকসুর নেতারা বেশির ভাগই আবাসন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী ডাকসু নেতাদের দাবিগুলো পূরণের আশ্বাস দেন।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা