kalerkantho

বুধবার । ২২ মে ২০১৯। ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৬ রমজান ১৪৪০

সুর পাল্টেও সংঘাতের প্রস্তুতি

আজাদুর রহমান চন্দন   

১৩ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সুর পাল্টেও সংঘাতের প্রস্তুতি

শেখ মুজিব পূর্ণ স্বায়ত্তশাসনের মৌলিক অধিকারটুকু যদি না-ই পান তাহলে সামরিক শাসনের কারণে পূর্ব পাকিস্তান স্বাধীনতা ঘোষণার দিকেই এগোবে—১৯৭১ সালের ১৩ মার্চ এমন মন্তব্য ছিল লন্ডনভিত্তিক প্রভাবশালী সাময়িকী দি ইকনোমিস্টের এক নিবন্ধে। কোনো পূর্বশর্ত ছাড়াই ২৫ মার্চ জাতীয় পরিষদের অধিবেশনে যোগদানের বিষয়ে জুলফিকার আলী ভুট্টোর সম্মতির কথা উল্লেখ করে সংলাপের সম্ভাব্য আবহ তৈরির আভাস দিয়েও নিবন্ধে বলা হয়, এ মুহৃর্তেও প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান সামরিক শাসন বহাল রাখতে বদ্ধপরিকর বলেই মনে হচ্ছে। সাধারণ পরিবহন বিমানযোগে নিয়মিত পশ্চিম পাকিস্তান থেকে পূর্ব পাকিস্তানে সেনা পাঠানো হচ্ছে, আর ট্যাংকগুলোকে যেভাবে ব্যবহারোপযোগী করে তোলা হচ্ছে, তাকে রাজপথে মুখোমুখি সংঘাতের প্রস্তুতি হিসেবেই ধরে নেওয়া যায়।

একাত্তরের এই দিনে অনিবার্য হয়ে ওঠে বাংলাদেশের স্বাধীনতা। মুক্তিকামী লাখো বাঙালির উত্তাল আন্দোলন আর সশস্ত্র সংগ্রামের প্রস্তুতিতে শঙ্কিত হয়ে পড়ে পাকিস্তানি সামরিক জান্তা। বিরোধী দলের নেতারা পাকিস্তানের ভাঙন নিশ্চিত বুঝতে পেরে একাত্তরের এই দিনে জরুরি বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠক শেষে অবিলম্বে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের আহ্বান জানান তাঁরা। আনুষ্ঠানিক অসহযোগ আন্দোলনের এক সপ্তাহের মাথায় দেশ পুরোপুরি অচল হয়ে পড়ে। দেশের বিভিন্ন স্থানে কৃষক, শ্রমিক, চাকরিজীবী, সাংবাদিক, সাহিত্যিক, লেখক, শিক্ষকসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষ আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ে। কিন্তু সেদিকে তোয়াক্কা না করে হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে আন্দোলন দমন করার ফন্দি আঁটতে থাকে সামরিক জান্তা।

১৯৭১ সালের এই দিনে দৈনিক ইত্তেফাকে ‘চতুরঙ্গ’ শিরোনামে উপসম্পাদকীয় নিবন্ধে বলা হয়, ‘বাংলায় যে আন্দোলন শুরু হয়েছে, সে আন্দোলনের জোয়ার ভাসিয়ে দিয়েছে সমস্ত বিরুদ্ধ কণ্ঠ, সেই আন্দোলনের প্রতিটি প্রবাহ সচল করার পেছনে রয়েছে জনগণের অবিচল সংগ্রামী মনোভাব। কোনো বাধাই জনগণের ইচ্ছাকে অবদমিত করতে পারেনি। নির্যাতনে নির্যাতনে জনগণের ইচ্ছা আরো সুদৃঢ়, আরো বিশাল হয়েছে মাত্র।’ সুহৃদ ছদ্মনামে লেখক আরো লেখেন, ‘এই আন্দোলনের বিক্ষুব্ধ তরঙ্গমালা কে রোধ করবে?’ ওই দিন পত্রিকাটির প্রধান শিরোনাম ছিল ‘আমি তারস্বরে এই হুশিয়ারীই উচ্চারণ করিয়া যাইব...—আসগর খান’। ইনসেটে ছিল ‘দোষ করিল লাহোর—গুলী চলিল ঢাকায়’। প্রধান শিরোনামের পাশে এক কলাম শিরোনাম ছিল ‘প্রেসিডেন্ট আসছেন’। প্রধান প্রতিবেদনের নিচে তিন কলাম শিরোনাম ছিল ‘কোন দেশপ্রেমিকই মুজিবের পূর্ব শর্তের বিরোধিতা করিতে পারে না—সি আর আসলাম’। সি আর আসলাম ছিলেন পিকিংপন্থী ন্যাপের সেক্রেটারি জেনারেল। ভেতরের পাতায় চার কলামজুড়ে আরেকটি শিরোনাম ছিল ‘বাংলার কোথাও অফিস-আদালত নাই, ট্যাক্স নাই/আছে শুধু কালো পতাকা ও সংগ্রামের ডাক’।

দৈনিক ‘সংবাদ’-এ শিরোনামগুলোর মধ্যে ছিল ‘বগুড়ায় ৮ জন হতাহত ঃ ২৭ জনের পলায়ন ঃ কয়েদীদের জেল ভাঙ্গার হিড়িকের অন্তরালে কি?’ এবং ‘কোকাপেপের বিক্ষোভ মিছিল ঃ সংগ্রাম অব্যাহত রাখার সঙ্কল্প ঘোষণা’।

পূর্বদেশ পত্রিকার শিরোনাম ছিল ‘স্বাধিকার সংগ্রামের প্রতি সিএসপি/ইপিসিএস-দের সমর্থন’। দৈনিক পাকিস্তানের একটি শিরোনাম ছিল ‘লেখক, পটুয়া ও শিল্পীদের কর্মসূচী’।

 

 

মন্তব্য