kalerkantho

বছরে ৮৮ লাখ অকালমৃত্যু বায়ুদূষণে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৩ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



বছরে ৮৮ লাখ অকালমৃত্যু বায়ুদূষণে

বায়ুদূষণের প্রভাবে প্রতিবছর পৃথিবীতে ৮৮ লাখ মানুষের অকালমৃত্যু হয়। এর মধ্যে ইউরোপেই মারা যায় সাত লাখ ৯০ হাজার মানুষ। আর বায়ুদূষণের প্রভাবে যেসব মৃত্যু হয়, সেগুলোর ৪০ থেকে ৮০ শতাংশই হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক ও হৃদরোগজনিত কারণে হয়ে থাকে। গত সোমবার প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

গবেষণা প্রতিবেদনটি ছাপা হয়েছে ‘ইউরোপিয়ান হার্ট জার্নাল’ সাময়িকীতে। তাতে ইউরোপের বায়ুদূষণের প্রতি বেশি আলোকপাত করা হয়েছে। তবে গবেষকরা বলেছেন, এই চিত্র বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের ক্ষেত্রেও প্রাসঙ্গিক।

গবেষকরা হিসাব কষে দেখেছেন, যাদের অকালমৃত্যু হচ্ছে, বায়ুদূষণ না থাকলে তারা গড়ে আরো ২ দশমিক ২ বছর বেশি বাঁচত। গবেষক দলের সদস্য এবং জার্মানির ‘ইউনিভার্সিটি মেডিক্যাল সেন্টার মেইনজ’-এর অধ্যাপক থমাস মুনজেল বলেন, ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, ২০১৫ সালে ধূমপানের কারণে বিশ্বে ৭২ লাখ মানুষের অকালমৃত্যু হয়। অর্থাত্ প্রতিবছর ধূমপানের কারণে যত মানুষের মৃত্যু হয়, তার চেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু হচ্ছে বায়ুদূষণের কারণে।’ তিনি বলেন, ‘ধূমপান থেকে একজন ব্যক্তি বিরত থাকতে পারে; কিন্তু বায়ুদূষণের প্রভাব এড়িয়ে চলা প্রায় অসম্ভব।’

গবেষকরা বলছেন, বায়ুতে যে নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড, সালফার ডাই-অক্সাইড ও ওজোন থাকে, সেগুলো ব্যক্তির কর্মদক্ষতা ও উত্পাদনক্ষমতা কমিয়ে দেয়।

গবেষণায় ‘গ্লোবাল এক্সপোজার মর্টালিটি’ মডেল ব্যবহার করা হয়। গবেষক দলের নেতৃত্বে ছিলেন জার্মানির ‘ম্যাক্স-প্লাংক ইনস্টিটিউট ফর ক্যামেস্ট্রি’র গবেষক জোস লেলিয়েভেল্ড। বায়ুতে যেসব ক্ষতিকর উপাদান আছে, তার মধ্যে মানবদেহের জন্য সবচেয়ে মারাত্মক হলো ‘পিএম ২.৫’। এবারের গবেষণায়ও দেখা গেছে, বেশির ভাগ অকালমৃত্যুর পেছনে রয়েছে এই ‘পিএম ২.৫’। গবেষকরা বলেন, ‘পিএম ২.৫ মানবস্বাস্থ্যে যে পরিমাণ প্রভাব ফেলে বলে এত দিন ধারণা ছিল, বাস্তবে এটি তার চেয়েও বিপজ্জনক।’ প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বে এক লাখ মানুষের মধ্যে প্রতিবছর ১২০ জনের মৃত্যু হয় বায়ুদূষণের কারণে।

মন্তব্য