kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২০ জুন ২০১৯। ৬ আষাঢ় ১৪২৬। ১৬ শাওয়াল ১৪৪০

রাজশাহীতে পানির দরে বালু ইজারা

সরকারের পাঁচ বছরে ক্ষতি ৭৭ কোটি টাকা!

রফিকুল ইসলাম, রাজশাহী   

১৩ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সরকারের পাঁচ বছরে ক্ষতি ৭৭ কোটি টাকা!

রাজশাহীতে বালু কারবারিদের সিন্ডিকেটের কারণে গত পাঁচ বছরে সরকার প্রায় ৭৭ কোটি টাকা রাজস্ব হারিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত পাঁচ বছরে রাজশাহী নগরীর আশপাশে ১১টি বালু ঘাট ইজারা দেওয়ার মাধ্যমে সরকারের কোষাগারে সাড়ে তিন কোটি টাকার মতো জমা পড়ে। কিন্তু এ বছর দরপত্রে যে দাম উঠেছে, তাতে কম করে হলেও সরকার ১৬ কোটি ১৫ লাখ টাকা পাবে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, আগের বছরগুলোতে অনেকটা গোপনে টেন্ডার দেওয়া হতো এবং বালু কারবারিদের সিন্ডিকেট খুবই অল্প টাকায় ইজারা পেত।

রাজশাহী জেলা প্রশাসকের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি জেলার গোদাগাড়ী, বাঘা ও চারঘাট মিলে পদ্মা নদীর ১১টি ঘাট থেকে (বালুমহাল) বালু উত্তোলনের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। দরপত্র যাচাই-বাছাই হয় ৬ মার্চ। তাতে দেখা গেছে, সর্বোচ্চ দরদাতারা ইজারা পেলে আগামী মৌসুমে (১৪২৫-২৬) ১৬ কোটি ১৫ লাখ টাকা পাওয়া যাবে। কিন্তু গত পাঁচ বছরে সরকারের কোষাগারে ভ্যাট ও আয়করসহ জমা পড়েছে সাড়ে তিন কোটি টাকা।

জেলা প্রশাসক দপ্তরের একাধিক সূত্র জানায়, গত বছর পবার নবগঙ্গা-হাড়ুপুর ঘাটটি ইজারা দেওয়া হয় পাঁচ লাখ ৩৩ হাজার ৫০০ টাকায়। এর আগের কয়েক বছরও প্রায় একই মূল্যে ঘাটটি ইজারা দেওয়া হয়। এবার সর্বোচ্চ দর উঠেছে পাঁচ কোটি দুই লাখ টাকা।

পবার মদনপুর, কসবা ও চরহরিপুর ঘাটটি গত বছর ইজারা দেওয়া হয় পাঁচ লাখ ১৮ হাজার ১০০ টাকায়। এর আগের কয়েক বছরও প্রায় একই মূল্যে ঘাটটি ইজারা দেওয়া হয়। এবার সর্বোচ্চ দর উঠেছে চার কোটি ১০ লাখ টাকা। আগের তিন বছর এই ঘাটটি ছিল রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক আজিজুল হক বেন্টুর নামে।

পবার চর খিদিরপুর ও চর শ্যামপুর ঘাটটি গত বছর ইজারা দেওয়া হয় সাত লাখ ৭৫ হাজার ৫০০ টাকায়। এর আগের কয়েক বছরও প্রায় একই মূল্যে ঘাটটি ইজারা দেওয়া হয়। এবার সর্বোচ্চ দর উঠেছে দুই কোটি দুই লাখ টাকা।

এ ছাড়া গোদাগাড়ী, চারঘাট ও বাঘায় রয়েছে আরো আটটি ঘাট। এই আটটি ঘাটের এবার দর উঠেছে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা। কিন্তু এই আটটি

ঘাট গত বছর ইজারা দেওয়া হয় ২০ লাখ টাকায়।

দরপত্রের সঙ্গে যুক্ত একাধিক ব্যক্তি কালের কণ্ঠ’কে জানান, গত বুধবার দরপত্র যাচাই-বাছাই হয়। ওই সময় কয়েকজন জনপ্রতিনিধি টেন্ডার কমিটির কাছে জানতে চান, গোপন টেন্ডার দেওয়ায় গত পাঁচ বছরে সরকার কত টাকার রাজস্ব হারিয়েছে। জবাবে টেন্ডার কমিটির সদস্যরা বিষয়টি নিয়ে আর ঘাঁটাঘাঁটি না করার জন্য জনপ্রতিনিধিদের অনুরোধ জানান।

দরপত্রের সঙ্গে যুক্ত একাধিক ব্যক্তি কালের কণ্ঠ’কে জানান, বিগত বছরগুলোতে জেলা প্রশাসকের দপ্তরের সহযোগিতায় রাজশাহীর বালুমহালের টেন্ডার গোপনে করা হতো। ফলে অনেকেই জানতে পারতেন না। পরে পছন্দের ঠিকাদাররা নামমাত্র দরে ইজারা পেতেন। কিন্তু এবার রাজশাহীর কয়েকজন জনপ্রতিনিধি ও নতুন জেলা প্রশাসক এস এম আব্দুল কাদের গোপনে বালুমহাল ইজারা দেওয়া নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছিলেন।

বালুমহাল ইজারা দিয়ে গত পাঁচ বছরে কত টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে—এমন প্রশ্নের জবাবে রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) নজরুল ইসলাম কালের কণ্ঠ’কে বলেন, ‘এভাবে কোনো তথ্য দেওয়া যাবে না। তথ্য নিতে হলে আবেদন করতে হবে। আবেদন পেলে আমরা সে অনুযায়ী তথ্য দেব।’

বালুমহাল টেন্ডার কমিটির সভাপতি ও রাজশাহী জেলা প্রশাসক এস এম আব্দুল কাদের বলেন, ‘এত দিন যে অনিয়ম হয়েছে, তা আর হতে দেব না। এখন থেকে বালুমহাল ইজারা দিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ সরকারের কোষাগারে জমা পড়বে।’

মন্তব্য