kalerkantho

বুধবার । ২৬ জুন ২০১৯। ১২ আষাঢ় ১৪২৬। ২৩ শাওয়াল ১৪৪০

সিপিডির গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা

গ্যাস-বিদ্যুতের দাম কমাতে বাধা দুর্নীতি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১১ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



গ্যাস-বিদ্যুতের দাম কমাতে বাধা দুর্নীতি

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে উৎপাদন সক্ষমতার অভাব ও দুর্নীতির কারণে ভোক্তাদের বাড়তি ব্যয় হচ্ছে। কিছুদিন পর পর গ্যাস-বিদ্যুতের দাম না বাড়িয়ে এসব অসংগতি দূর করে কম দামে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উৎপাদনের তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

গতকাল রবিবার রাজধানীর গুলশানের একটি রেস্টুরেন্টে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত ‘বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত : রূপান্তরের ধাপ পেরিয়ে সামনে যাওয়ার প্রতিবন্ধকতা’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব কথা বলেন।

বৈঠক সঞ্চালন করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রতিষ্ঠানটির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। সিপিডির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. রেহমান সোবহান এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদসহ এ খাতসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।

মূল প্রবন্ধে বলা হয়, বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের কার্যক্রম ‘জরুরি ব্যবস্থাপনা’ থেকে ‘বাজার পরিচালিত ব্যবস্থাপনা’য় তুলে আনা দরকার। এ খাতে অস্বচ্ছতা, দুর্নীতি, অনিয়ম কমাতে হবে। দায়বদ্ধতা এবং উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে হবে।

ড. রেহমান সোবহান বলেন, এ খাতের নিলামে অংশ নেওয়ার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে হবে এবং দুর্নীতি ও অনিয়মের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে হবে।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ব্যাপক উন্নয়ন হলেও ব্যবস্থাপনার দক্ষতা ও উৎপাদন সক্ষমতার ঘাটতি, জবাবদিহির অভাব, দুর্নীতির কারণে গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়ছে বলে অভিযোগ করেন বিশেষজ্ঞরা।

এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, ‘চুরি-ডাকাতি ছিল একসময়। একটা সময় বিদ্যুতে সিস্টেম লস ছিল ৪৪ শতাংশ। এখন সেই সিস্টেম লস ১১ শতাংশের ঘরে চলে এসেছে। উন্নত দেশের সিস্টেম লস ৭ শতাংশের ঘরে। আমাদের দেশে চট্টগ্রামে এরই মধ্যে বিদ্যুতের সিস্টেম লস ৭ শতাংশে নেমে এসেছে।’

কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক এম শামসুল আলম বলেন, ‘২০০৯ সালে উৎপাদনক্ষমতার ৪৯ শতাংশ ব্যবহার করা হতো। এখন ব্যবহৃত হচ্ছে মাত্র ৪০ শতাংশ। শীতকালে ৭৮টি পাওয়ার প্লান্ট বন্ধ ছিল, বসিয়ে রেখে খরচ দিতে হচ্ছে। এতে বিদ্যুতের দাম বেড়ে যাচ্ছে। ভারত ছয় ডলার দিয়ে এলএনজি কিনতে পারলে আমরা কেন ১০ ডলার দিয়ে কিনছি। এসব প্রশ্নের কোনো উত্তর নেই।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক বদরুল ইমাম বলেন, ‘গ্যাসের মজুদ কমে আসছে মানে এমন নয় যে দেশের গ্যাস সম্পদ কমে আসছে। এ খাতে এখনো অনেক সম্ভাবনা আছে। উত্তোলন সক্ষমতা না থাকায় আমরা সেসব সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারছি না।’

এসব বিষয়ে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বিদ্যুৎকে সাশ্রয়ী করতে চাই। যে কারণে আমরা কয়লাভিত্তিক বিদ্যুতের পাশাপাশি পারমাণবিক বিদ্যুৎ, প্রাকৃতিক গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ, তাপভিত্তিক বিদ্যুৎ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি বা সৌরবিদ্যুৎ বিষয়ে একটি মহাপরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছি। আমাদের ওপর আস্থা রাখতে হবে।’ দেশের শিল্পোদ্যোক্তাদের নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ আমাদের দেশে পেতে আরো অনেক বছর লাগবে।’

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা