kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৭ জুন ২০১৯। ১৩ আষাঢ় ১৪২৬। ২৩ শাওয়াল ১৪৪০

বঙ্গবন্ধু মেডিক্যালে আসতে নারাজ খালেদা জিয়া

‘প্রয়োজন হলে কারাগারে ডাক্তার নিয়ে আসুন’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১১ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



বঙ্গবন্ধু মেডিক্যালে আসতে নারাজ খালেদা জিয়া

খালেদা জিয়া কারা কর্মকর্তাদের জানিয়ে দিলেন, তিনি বঙ্গবন্ধু মেডিক্যালে যেতে ইচ্ছুক নন, নিলে অন্য কোনো বিশেষায়িত হাসপাতালে নিতে হবে। ফলে প্রস্তুতি থাকার পরও গতকাল রবিবার তাঁকে চিকিৎসার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে আনা সম্ভব হয়নি। গত ৫ মার্চ দলীয় মহাসচিবের নেতৃত্বে বিএনপি নেতারা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের সঙ্গে দেখা করে খালেদা জিয়াকে চিকিৎসা দিতে লিখিত আবেদন করেন। এরপর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে কারা কর্তৃপক্ষ গতকাল উদ্যোগটি নিয়েছিল।

গতকাল বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষও খালেদা জিয়াকে গ্রহণ করতে প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিল বলে জানান হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুল আল হারুন। তিনি কালের কণ্ঠকে গতকাল সন্ধ্যায় বলেন, ‘আমরা তাঁর জন্য (বেগম জিয়া) আগের মতোই কেবিন ব্লকের রুম রেডি করে রেখেছিলাম। তিনি না এলে তো আমাদের কিছু করার নেই। তিনি যখনই আসবেন তখনই আমরা তাঁকে বিধি অনুসারে চিকিৎসার জন্য গ্রহণ করতে প্রস্তুত আছি। সে অনুসারে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থাও থাকবে।’ ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের এক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। তিনি রাজি হলে যেকোনো সময় বঙ্গবন্ধু মেডিক্যালে নিয়ে যাওয়া হবে।’

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, গতকাল সকাল ১১টার দিকে খালেদা জিয়ার কাছে যান কারাগারের কয়েকজন কর্মকর্তা। তাঁরা খালেদা জিয়াকে জানান চিকিৎসা দেওয়ার জন্য তাঁরা তাঁকে বঙ্গবন্ধু মেডিক্যালে নিয়ে যেতে এসেছেন। এ সময় খালেদা জিয়া বলেন, তাঁর এখন ভালো লাগছে না, তিনি যেতে পারবেন না। ভালো লাগলে পরে যাওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাবেন। তিনি আরো বলেন, কারা কর্তৃপক্ষ চাইলে চিকিৎসকদের কারাগারে নিয়ে আসতে পারে। একটি সূত্র জানায়, বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল খালেদা জিয়ার পছন্দ না।

বিএনপি সমর্থক চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-ড্যাবের আহ্বায়ক অধ্যাপক ফরহাদ হালিম ডোনার গতকাল দুপুরে বিএসএমএমইউর কেবিন ব্লকের সামনে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার কাছে যে তথ্য আছে, দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা খুবই খারাপ। এমনকি হুইল চেয়ারের যে পাদানি থাকে সেখানেও উনি ঠিকমতো পা তুলতে পারেন না। উনার (খালেদা জিয়া) যে ইচ্ছাটা এবং কয়েক দিন আগে কারাগারে উনাকে দেখতে যে বিশেষজ্ঞ টিম গিয়েছিল অধ্যাপক এ এফ এম সিদ্দিকীর নেতৃত্বে উনারাও স্পষ্টভাবে বলেছেন, উনাকে গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করতে। কারণ ওই হাসপাতালে (ইউনাইটেড হাসপাতাল) তিনি (বেগম জিয়া) চিকিৎসা নিয়ে থাকেন এবং ওখানেই উনার নিজস্ব বিশেষজ্ঞ ডাক্তার যাঁরা সারা জীবন উনাকে চিকিৎসা দিয়েছেন। এই চাওয়াটা বা দাবিটা উনার যে খুব বড় দাবি আমি সেটা মনে করি না। উনাকে যে বিএসএমএমইউতে আনতে হবে এমন কোনো কথা নেই।’

ডোনার বলেন, ‘এ দেশে অনেকেই আছেন যাঁরা প্যারোলে দেশের বাইরেও গেছেন, এখনো অনেকে দেশের বাইরে যাচ্ছেন। এই হাসপাতাল থেকে কেউ কেউ দেশের বাইরে যাচ্ছেন। উনি (খালেদা জিয়া) বিএসএমএমইউতে আসার পক্ষে কোনো সময় ছিলেন না। এর আগে দুইবার এই হাসপাতালে তাঁকে আনা হয়েছে। আবার জোর করে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে—যেখানে ডাক্তাররা সরাসরি মতামতও দেননি বিএসএমএমইউ থেকে কারাগারে নিয়ে যেতে।’

চিকিৎসক হিসেবে আপনি খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসার জন্য বিএসএমএমইউ না ইউনাইটেড হাসপাতাল কোনটাকে ভালো বলবেন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘প্রতিটি মানুষের একজন বা একাধিক ডাক্তার থাকে, যাঁর অধীনে তাঁর চিকিৎসা হয়—যে ডাক্তারের ওপর বিশ্বাস থাকে, আস্থা থাকে। নেত্রীর ওই বিশ্বাসটা আছে ইউনাইটেড হাসপাতালে যাঁরা বিশেষজ্ঞ আছেন তাঁদের ওপর। তাঁদের দ্বারা উনি চিকিৎসা করাতে চান। অতত্রব ওখানে চিকিৎসা করা হলে উনি মানসিকভাবে বেটার ফিল করবেন, শারীরিকভাবেও বেটার ফিল করবেন।’ এ সময় হলি ফ্যামিলি মেডিক্যাল হাসপাতালের ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক হারুনুর রশীদসহ বেশ কয়েকজন চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন।

চকবাজার থানার ওসি শামীমুর রহমান তালুকদার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার নিরাপত্তা দিতে রবিবার সকাল থেকেই আমাদের প্রস্তুতি ছিল। পরে কারা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে জানতে পারি তিনি যেতে রাজি নন।’ পুলিশ সূত্র জানায়, খালেদা জিয়াকে নিরাপত্তা দিয়ে পৌঁছে দেওয়ার জন্য গতকাল সকাল থেকেই কারা ফটকে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি, অ্যাম্বুল্যান্স ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর গাড়ি প্রস্তুত রাখা ঠিল। অন্যদিকে বঙ্গবন্ধু মেডিক্যালের কেবিন ব্লকের ৬২১ ও ৬২২ নম্বর কেবিন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে গোছানোর কাজ শুরু হয়। ভবনের সামনে অবস্থান নেয় বিপুলসংখ্যক পুলিশ।

জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট ও জিয়া দাতব্য ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ১৭ বছরের দণ্ড নিয়ে নাজিমুদ্দীন রোডের পরিত্যক্ত এই কারাগারে বন্দি রয়েছেন খালেদা জিয়া। সেখানে তিনিই একমাত্র বন্দি। মেডিক্যাল বোর্ডের পরামর্শ অনুযায়ী খালেদা জিয়াকে গত বছরের ৭ অক্টোবর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করা হয়েছিল। সে সময় এক মাস চিকিৎসা শেষে নভেম্বর মাসে তাঁকে কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা