kalerkantho

রবিবার। ১৬ জুন ২০১৯। ২ আষাঢ় ১৪২৬। ১২ শাওয়াল ১৪৪০

প্লাস্টিক দানার দোকান গুদামে অভিযান নয়!

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১১ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্লাস্টিক দানার দোকান গুদামে অভিযান নয়!

প্লাস্টিক ব্যবসায়ীদের দাবির মুখে পুরান ঢাকায় প্লাস্টিক দানার দোকান ও গুদামে টাস্কফোর্সের অভিযান বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। সেই সঙ্গে অভিযানের সময় প্লাস্টিক দোকান ও গুদাম থাকা ভবনগুলোর বন্ধ করে দেওয়া সরকারি সব পরিষেবা দ্রুত সময়ের মধ্যে ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

তবে রাসায়নিক পদার্থের ক্ষেত্রে টাক্সফোর্সের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ ছাড়া সরকার নির্ধারিত ২৯ দাহ্য পদার্থ পাওয়া গেলেই তাত্ক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ডিএসসিসির মেয়র মো. সাঈদ খোকন।

গতকাল রবিবার বিকেল ৩টায় পুরান ঢাকার মাওলানা মুফতি দ্বীন মোহাম্মদ রোড (উর্দু রোড) মোড়ে বাংলাদেশ প্লাস্টিক ব্যবসায়ী সমিতি আয়োজিত মতবিনিময়সভায় এসব সিদ্ধান্ত দেন মেয়র।

চকবাজারের চুড়িহাট্টায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর পুরান ঢাকায় রাসায়নিক ও প্লাস্টিক গুদামে অভিযান চলছে। কয়েক দিন ধরে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও গুদাম ভাড়া দেওয়া ভবন মালিকরা অভিযান বন্ধের দাবি জানিয়ে আসছে।

উদ্ভূত সমস্যার সমাধানকল্পে স্থানীয় ব্যবসায়ী সমিতি, পঞ্চায়েত কমিটি ও সুধী মহলের সঙ্গে ডিএসসিসির মেয়র ও টাক্সফোর্স সদস্যরা গতকাল মতবিনিময়সভা করেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ প্লাস্টিক ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন। সভা সঞ্চালনা করেন মেয়র নিজেই।

মেয়রের কাছে নিজেদের সমস্যার কথা তুলে ধরেন প্লাস্টিক ব্যবসায়ী, এলাকার বাড়ির মালিক, পঞ্চায়েতের সদস্য ও স্থানীয় এলাকাবাসী।

ব্যবসায়ীরা বলেন, সরকার নির্ধারিত ২৯টি দাহ্য পদার্থের মধ্যে প্লাস্টিক দানা পড়ে না। প্লাস্টিক দানা দাহ্য পদার্থ নয়। যাদের পণ্যে দাহ্য পদার্থ আছে তাদের অপসারণ করা হোক। এ বিষয়ে তাঁরা সরকারের সঙ্গে থাকবেন।

এর আগে সভার শুরুতে ঢাকা দক্ষিণের মেয়র চুড়িহাট্টায় ২০ ফেব্রুয়ারির ভয়াবহতার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘আমরা সবাই ঢাকার মানুষ। এই এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্যের সুফল সারা দেশের মানুষ ভোগ করছে। কিন্তু কর্মকাণ্ড চালাতে গিয়ে যদি নিরপরাধ মানুষ আগুনে পুড়ে মারা যায়, তা মেনে নেওয়া যায় না। এই রকম পরিস্থিতিতে দুটি বিষয় আমাদের করতে হবে, এক নম্বর জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, দুই নম্বর এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্য এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।’

সভায় আব্দুল হান্নান নামের এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘ব্যবসা করতে না পারলে না খেয়ে মরব। প্লাস্টিক ছাড়া দেশের শিল্প এগোবে না। তাই প্লাস্টিক ব্যবসায়ীদের বাঁচিয়ে রাখতে হবে। দরকার হলে সময় নিয়ে আস্তে আস্তে এখান থেকে ব্যবসা সরানো যাবে। তবে সেটি ঢাকার আশপাশে হতে হবে।’

উর্দু রোড পঞ্চায়েত কমিটির সদস্য জাফর আহমেদ বলেন, ‘ব্যবসায়ের চেয়ে জীবন ছোট নয়। তাই আমাদের ব্যবসায়ের পাশাপাশি জীবনের নিরাপত্তার কথা ভাবতে হবে। ব্যবসা স্থানান্তরের জন্য আমাদের পর্যাপ্ত সময় দিতে হবে। সেটা হবে কমপক্ষে এক বছর।’

ব্যবসায়ীরা মেয়রকে সব ব্যবসায়ীর জন্য অগ্নিনির্বাপণ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার জন্য অনুরোধ জানান। সেই সঙ্গে প্রতিটি দোকান ও গুদামের আকার অনুযায়ী অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র, এক বালতি পানি ও বালি রাখার কথা বলেন। প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে মেয়র ব্যবসায়ীদের অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র, পানি ও বালি রাখার জন্য এক সপ্তাহ সময় বেঁধে দেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা