kalerkantho

অনিবার্য কারণে আজ শেয়ারবাজার প্রকাশিত হলো না। - সম্পাদক

প্রচারে অংশ না নিতে এমপিদের প্রতি নির্দেশ সংসদের

আদিতমারী, পূর্বধলা ও জামালগঞ্জ উপজেলার ভোট বন্ধ করল ইসি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৯ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রচারে অংশ না নিতে এমপিদের প্রতি নির্দেশ সংসদের

উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অবাধ ও প্রভাবমুক্ত রাখতে সব সংসদ সদস্যকে নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে জাতীয় সংসদ। কোনো ধরনের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ না নিতে জাতীয় সংসদের পক্ষ থেকে সংসদ সদস্যদের প্রতি নির্দেশ জারি করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে একের পর এক আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনায় এই নির্দেশনা জারি করা হলো। সংসদ সদস্যদের কাছে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা পৌঁছেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এদিকে প্রভাব খাটানোর অভিযোগে ভোটের এক দিন আগেই আদিতমারী, পূর্বধলা ও জামালগঞ্জ উপজেলার ভোট বন্ধ করল নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সেই সঙ্গে পাটগ্রামের ওসিকে প্রত্যাহার ও সমাজকল্যাণমন্ত্রীর এপিএসের বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি। গত রাতে ইসি সূত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকালে নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলার জন্য সকল সংসদ সদস্যকে লিখিতভাবে বলা হয়েছে। সংসদ থেকে পাঠানো এসংক্রান্ত চিঠির সঙ্গে আচরণবিধির কপি যুক্ত করা হয়েছে। আগের স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও এ ধরনের চিঠি পাঠানো হয়েছিল। আগামী উপজেলা পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন থেকে পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য লিখিতভাবে জানানো হয়। সেই চিঠির আলোকে সকল এমপিকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

সংসদ সচিবালয় সূত্র জানায়, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সংসদ সদস্যদের আচরণবিধি মেনে চলার অনুরোধ জানিয়ে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর কাছে চিঠি পাঠায় নির্বাচন কমিশন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা স্বাক্ষরিত ওই চিঠি গত ৫ মার্চ সংসদ সচিবালয়ে পৌঁছে। স্পিকার গত ৬ মার্চ ওই চিঠির আলোকে সকল সংসদ সদস্যকে চিঠি পাঠানোর নির্দেশ দেন। ইতিমধ্যে সেই চিঠি পাঠানো হয়েছে। এসংক্রান্ত চিঠি পাওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন সরকার ও বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা।

আগামীকাল ১০ মার্চ থেকে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। সারা দেশে পাঁচ ধাপে এই নির্বাচনে ভোট গ্রহণ চলবে। সব দল অংশগ্রহণ না করলেও ইতিমধ্যে সারা দেশে নির্বাচনী আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে। আর সেই সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগও উঠেছে। বিশেষ করে স্থানীয় সংসদ সদস্য কোথাও নৌকা মার্কার প্রার্থীর পক্ষে আবার কোথাও স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে প্রভাব বিস্তার করছেন বলে অভিযোগে উঠেছে। অনেক ক্ষেত্রে বিষয়টি নিয়ে বিব্রতবোধ করছে নির্বাচন কমিশন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

নির্বাচন আচরণবিধি অনুযায়ী, সরকারি সুবিধাভোগী গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় অংশ নিতে পারবেন না। আর সংসদ সদস্যরাও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির তালিকায় আছেন। সে হিসেবে তাঁদের জন্য নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ গ্রহণে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। কিন্তু কয়েকজন সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় গত সপ্তাহে নির্বাচন কমিশন থেকে সরকারি দলের সংসদ সদস্য রাজশাহী-১ আসনের ওমর ফারুক চৌধুরী, নাটোর-৪ আসনের আব্দুল কুদ্দুস ও নেত্রকোনা-৫ আসনের ওয়ারেসাত হোসেন বেলালকে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া হবিগঞ্জ-২ (বানিয়াচং-আজমিরীগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য আবদুল মজিদ খানসহ বেশ কজনকে লিখিতভাবে সতর্ক করা হয়েছে।

ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট মো. ফজলে রাব্বী মিয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সংসদ সদস্যদের চিঠি দিয়ে নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলার কথা মনে করিয়ে দিতে হবে, এটা অনাকাঙ্ক্ষিত। তার পরও সংসদ থেকে এ বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে।’

মন্তব্য