kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২০ জুন ২০১৯। ৬ আষাঢ় ১৪২৬। ১৬ শাওয়াল ১৪৪০

সবিশেষ

টিভি বেশি দেখলে ঝুঁকি স্মৃতিভ্রংশের!

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



টিভি বেশি দেখলে ঝুঁকি স্মৃতিভ্রংশের!

প্রতিদিন অন্তত সাড়ে তিন ঘণ্টার বেশি টেলিভিশন দেখলে বয়স্কদের স্মৃতিশক্তি কমে যেতে পারে—একটি গবেষণায় এমনই ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে।

সাড়ে তিন হাজার পঞ্চাশোর্ধ ব্যক্তির ওপর গবেষণাটি পরিচালিত হয়েছে। ছয় বছর ধরে চালানো পরীক্ষায় দেখা গেছে, যাঁরা টেলিভিশন কম দেখেন তাঁদের তুলনায় যাঁরা টিভি দেখে বেশি সময় কাটান, তাঁদের অন্তত দ্বিগুণ ভার্বাল মেমোরি বা স্মৃতির যে অংশটি ভাষার সঙ্গে জড়িত তা হ্রাস পেয়েছে।

এমনিতেই বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের স্মৃতিশক্তি বা মেমোরি দুর্বল হতে থাকে। কিন্তু এই ব্যাপারটি আরো দ্রুত ঘটে যখন বেশি মাত্রায় টেলিভিশন দেখা হয়। তবে টেলিভিশনই অধিক হারে স্মৃতি লোপ পাওয়ার মূল কারণ কি না তা গবেষকরা নিশ্চিত হতে পারেননি। তাঁরা বলছেন যে অনেক বেশি সময় টেলিভিশন দেখাটা মস্তিষ্কের জন্য আরো উত্তেজনাকর কাজ। যেমন—পড়া  বা শরীরচর্চা থেকে মানুষকে বিরত রাখে।

বৈজ্ঞানিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, যারা দৈনিক সাড়ে তিন ঘণ্টার বেশি সময় ধরে টেলিভিশন দেখেছে, তাদের ক্ষেত্রে ৮ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত ভার্বাল মেমোরি হ্রাস পেয়েছে। আর যাদের টেলিভিশন দেখার সময়সীমা এর চাইতে কম, তাদের ক্ষেত্রে এ ধরনের স্মৃতি হ্রাসের হার ৪ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশ। তবে সাবলীলভাবে ভাষা ব্যবহারে টেলিভিশন দেখার প্রভাবের কোনো প্রমাণ মেলেনি।

ইউসিএল ইনস্টিটিউট অব এপিডেমিওলজি অ্যান্ড হেলথ কেয়ারের ড. ডেইজি ফ্যানকোর্ট বলেন, টেলিভিশন দেখার সময়ে শিক্ষা ও বিনোদনের ব্যবস্থা থাকতে পারে। সামগ্রিকভাবে পঞ্চাশোর্ধ্ব মানুষজনের টেলিভিশন দেখার পাশাপাশি অন্যান্য বিপরীতধর্মী কার্যকলাপের সামঞ্জস্য রাখা উচিত।

ইংল্যান্ডে এই গবেষণায় অংশগ্রহণকারীরা একটি তালিকা থেকে ১০টি বিশেষ শব্দ কত ভালোভাবে মনে করতে পারে তার পরীক্ষা নেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাদের কাছে জানতে চাওয়া হয় যে প্রতিদিন তারা কতক্ষণ টেলিভিশন দেখে। সেটা ২০০৮-০৯ থেকে ২০১৪-১৫ সালের মধ্যে। গবেষণাটিতে স্মৃতি হ্রাসের অন্যান্য ব্যাখ্যাও গ্রহণ করা হয়। জানতে চাওয়া হয়, তাদের জীবন যাপন পদ্ধতি, বিভিন্ন আচরণ সম্পর্কে—যেমন কতটা সময় তারা বসে কাটায় বা কতটা শরীরচর্চা করে ইত্যাদি।

লন্ডন কিংস কলেজের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজির অধ্যাপক ডেম টিল উইকস মনে করেন যে গবেষণার সম্ভাব্য ব্যাখ্যা দিতে সহায়ক হতে পারেন একজন নিষ্ক্রিয় টিভি পর্যবেক্ষক। আমরা জানি না এখনো এমন অনেক কিছুই আছে। যেমন—আমরা জানি না যে কী ধরনের অনুষ্ঠান দেখে স্মৃতি লোপ পেতে পারে বা জানি না যে টিভি আমরা একা দেখছি কি না বা টিভি গুগলবক্সের মতো প্রযুক্তির সঙ্গে সংযুক্ত কি না। আবার এও বলতে পারছি না যে আচরণের পরিবর্তন এনে স্মৃতিশক্তিকে বাড়িয়ে তোলা সম্ভব কি না।

অধ্যাপক ডেম টিল উইকস আরো বলেন, ‘এই গবেষণাটি আমাদের স্ক্রিন টাইম বা বেশি সময় ধরে টিভি দেখার বিষয়ে সতর্ক করেছে। তবে আতঙ্কিত হওয়ার আগে এ নিয়ে আরো অনেক গবেষণার প্রয়োজন আছে।’ সূত্র : বিবিসি।

 

মন্তব্য