kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৩ মে ২০১৯। ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৭ রমজান ১৪৪০

ঘৃতকুমারীর অঙ্গ-বিভঙ্গ

বিপ্রদাশ বড়ুয়া

২ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঘৃতকুমারীর অঙ্গ-বিভঙ্গ

রাজধানীর বলধা গার্ডেনে ঘৃতকুমারী। ছবি : কালের কণ্ঠ

ঘৃতকুমারীর ঐশ্বর্যময়ীর দুর্দান্ত সম্ভোগস্পৃহ দেহে আছে দুর্নিবার আদরণীয় আকর্ষণ। পাতার দুপ্রান্তে আছে আনারসের মতো কাঁটায় ভরপুর, কিন্তু কাঁটাগুলো কোমল ও আদরণীয় রসসিক্ত। দুর্দান্ত কুমারী-স্বভাবের। সুপ্রাচীন শাস্ত্রকার যাস্ক তাঁর বিখ্যাত অভিধানে লিখেছেন তরুণী অর্থ ‘সবল করে নিয়ে যায়’। প্রাচীন সেই ভৈষজ্যকন্দ গ্রন্থে আছে, পিচ্ছিল মাংসল বস্তু যেখানে, তারই নাম তরুণ। আবার সেটি যদি লতার মতো ক্ষুপজাতীয় মাটির কাছাকাছি থাকে সে হচ্ছে তরুণী। ১৬ বছরের বেশি হলে তাকে তরুণী বলে। আবার বয়স বেশি হলেও যার মধ্যে বার্ধক্যের রূপ

প্রকাশ পায় না সে-ই তরুণী। ঘৃতের মতো এই তরুণী বা কুমারী ভেষজও সামান্য তাপ ও চাপ পেলেই ক্ষরিত হতে থাকে। সেই তরুণীর রসও আগুনকে দীপ্ত রাখে এবং উপকানিমূলক ও সসর্পণপিয়াসী।

এ জন্য আমাদের দেশে সেই কুমারীকে আরো স্পষ্ট করে বোঝানোর জন্য তার নামের আগে ‘ঘৃত’ শব্দ ব্যবহার। অর্থাৎ আরো বিশেষিত করেছে। তাই তার প্রচলিত নাম ঘৃতকুমারী। ওর পিচ্ছিল ও লাবণ্যময় মাংসল বাইরের অবয়ব সহজে দৃষ্টি লুট করে নেয়। এর সঙ্গে চিনি মিশ্রিত শরবতও হয় পিচ্ছিল, উসকানিমূলক ও উপকারী। বাসনার মতো আদরণীয় ও আকর্ষণীয়। দৃঢ় সুন্দর উপকারী।

তাই শহরের রাস্তার ধারে দেখা যায় ঘৃতকুমারীকে চামচ দিয়ে চেঁছে নিয়ে চিনি মিশিয়ে শরবত করে সওদা হয়। এর প্রচুর উপকার আছে। কিন্তু কোন অসুখে কী পরিমাণ খাচ্ছেন জানেন কি? আর তার সঙ্গে মেশানো পানিটা খাওয়ার যোগ্য কি না? রাস্তার আখের রসও সে-রকম দুর্ধর্ষ বিপজ্জনক। বেলের শরবত, তোকমা ও পেঁপে-আনারসের রসেও একই ঘাতক রোগ-জীবাণু রয়েছে। কাজেই সাবধান পুরবাসী। আয়ুর্বেদাচার্য শিবকালী ভট্টাচার্যের ১১ খণ্ড চিরঞ্জীব বনৌষধি গ্রন্থে আছে, অন্তত আট রকম রোগে এর নিরাময় ক্ষমতা। এসব কথা বিজ্ঞ কবিরাজরা জানেন। আমাদের লক্ষ্য এবং আরো বেশি দরকার এর চাষবাস ও সৌন্দর্যচর্চার অপরিহার্য উপাদান হিসেবে। আর ঘৃতকুমারীর একটি টব ঘরের ভেতরের সৌন্দর্য  পাল্টে দিতে পারে।

ইংরেজি নাম মেডিসিন আলোয়ে, অন্য নাম বার্ন প্লান্ট। কারণ এর ঝলমল তরুণী পাতার পাতলা এক টুকরো শরীরের পোড়া স্থানে লাগালে জ্বালা সঙ্গে সঙ্গে উপশম হবে। আঘাত বা জ্বালা-যন্ত্রণার স্থানেও উপকারী। এর বৈজ্ঞানিক নাম আলোয়ে ভেরা, গোত্র লিলিয়েসি। রূপচর্চায় ঘৃতকুমারী এখন কুমারী, যুবতী ও প্রৌঢ়দের অপরিহার্য সহচরী। সারা বিশ্বে এখন ওষুধ ও প্রসাধনশিল্পে অনিবার্য উপাদান। অথচ ওর প্রিয় জন্মস্থান বা আবাস মরুপ্রবণ অঞ্চল। খুব আস্তে আস্তে বাড়ে। দীর্ঘস্থায়ী কৌমার্য বা যৌবনধর্ম তো এ রকমই। প্রবল বৃষ্টিতেও এই তরুণী ভিজতে নারাজ। খুব আস্তে আস্তে বাড়ে, খুব কষ্টসহিঞ্চু, শীতকালে রৌদ্রস্নানের বিলাসী। পানি ভরা গামলায় এর টব কাঁধ পর্যন্ত দশ মিনিট চুবিয়ে রাখুন। ওতে তার জলকেলি, আনন্দ, বিলাস।

মন্তব্য