kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৩ মে ২০১৯। ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৭ রমজান ১৪৪০

প্রাণের বইমেলা শেষ হচ্ছে আজ

বর্ধিত সময়ে উচ্ছ্বসিত মেলাঙ্গন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বর্ধিত সময়ে উচ্ছ্বসিত মেলাঙ্গন

ছুটির দিনে শিশু প্রহরে গতকাল বইমেলায় স্টলে স্টলে ছিল খুদে বইপ্রেমীদের ভিড়। ছবি : কালের কণ্ঠ

ফেব্রুয়ারির অমর একুশে গ্রন্থমেলা মার্চে গড়াল গতকাল শুক্রবার। দুপুর গড়িয়ে বিকেলেও বোঝা যাচ্ছিল না কেমন জমবে, শেষ পর্যন্ত সন্ধ্যায় বোঝা গেল জমেছে মেলা।

গতকাল সকাল ১১টায় মেলার দ্বার সবার জন্য খুলে দেওয়া হয়। চলে রাত ৯টা পর্যন্ত। আজ শনিবারও সকাল ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলবে মেলা। এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে পর্দা নামবে এবারের বইমেলার।

পাঞ্জেরী পাবলিকেশনস লিমিটেডের প্যাভিলিয়নের সামনে প্রকাশনা সংস্থাটির পরিচালক কামরুল হাসান শায়ক অন্য আরো কয়েকজন তরুণ লেখকের সঙ্গে আলাপচারিতায় বলছিলেন, মেলায় লেখক ও প্রকাশকদের বেশি বেশি আসা উচিত। তাহলে পাঠকরা, বিশেষ করে তরুণ পাঠকরা কী চায় সেটা তাঁরা বুঝতে পারবেন। পাঠকের চাহিদা, মানসিকতা বুঝতে পারাটা জরুরি।

এবার বৈরী আবহাওয়ার কারণে প্রকাশকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। নানা মহলের জোরালো দাবি ছিল মেলার সময় বাড়ানোর। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে মেলা দুই দিন বেড়েছে। ১৯৯৫ সালে রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে সাত দিন বাড়ানো হয়েছিল। প্রায় দুই যুগ পর এবার আবার বইমেলার সময়সীমা বাড়ানো হলো।

গতকাল ছুটির দিন থাকায় মেলায় পাঠক আসছিল আস্তে-ধীরে। লেখকরাও ছিলেন। ছিলেন প্রকাশকরাও। পার্ল পাবলিকেশনস, কথা প্রকাশ, অন্যপ্রকাশ, প্রথমা, তাম্রলিপি, সময়, অবসর, ইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশনীসহ বিভিন্ন প্রকাশনীর স্টলে, প্যাভিলিয়নে শিশুদের সঙ্গে নিয়ে অভিভাবকরাও আসছিলেন।

মেলাঙ্গনে লেখক-সাহিত্যিকদের কাছে পেয়ে উচ্ছ্বসিত ছিল পাঠকরা। উজ্জ্বল উপস্থিতি ছিল কথাসাহিত্যিক মঈনুল আহসান সাবেরসহ অনেক লেখকের। পার্ল পাবলিকেশনসে গিয়ে পাওয়া গেল বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক মোস্তফা কামালকেও। মেলার সময় বাড়ায় তিনিও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।

বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ‘উন্মাদ’-এর স্টলে গিয়ে দেখা মিলল লেখক আহসান হাবীবের। নিজের লেখা ‘ইরা নামের হরিণ’ বইটির তিনটি কপিতে অটোগ্রাফ দিতে ব্যস্ত দেখা গেল তাঁকে। এই স্টলে কর্মরত বিপ্রু চৌধুরী বললেন, ‘সময় বাড়ানো হয়েছে। এটা বাড়তি পাওনা।’

পাশেই ব্রেইলের স্টলে গিয়ে দেখা গেল, ক্রেতা নেই। সেখানে দায়িত্বপালনরত কর্মী আসিফ ইকবাল বললেন, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্য বিশেষভাবে প্রকাশনার এই সংস্থার স্টলে বিশেষ ভিড় নেই। তবে সন্ধ্যায় জমবে। শেষ পর্যন্ত সন্ধ্যায় ওই স্টলের সামনে ভিড় জমতে শুরু করেছিল।

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, বাংলাদেশ পোস্ট অফিস, বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর, বাংলা একাডেমিসহ পাশের বিভিন্ন স্টলেও সন্ধ্যায় পাঠক, ক্রেতার দেখা মেলে।

মেলার মূল প্রাঙ্গণে কথা হয় প্রকাশক মোস্তফা সেলিমের সঙ্গে। সময় বাড়ানোয় ভীষণ খুশি তিনি। বললেন, এ ধরনের মেলা যত বেশি দীর্ঘ হবে তত বেশি উপকৃত হবে বইপ্রেমীরা।

ইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী আদিত্য অন্তর মেলাঙ্গনে ঘুরছিলেন। বললেন, এবার তাঁর প্রকাশনী থেকে ৮০টি নতুন বই বের হয়েছে। তিনি জানান, বর্ধিত সময় পেয়ে প্রকাশকদের মতো পাঠকরাও খুশি। তারা মেলায় এসে বই কিনছে।

অবসরের স্টলে বই কিনতে এসে সেলফি তুলছিলেন মোহাম্মদপুরের নাঈমা রহমান। বললেন, ‘মেলায় এবার প্রথম আসলাম। ছিমছাম সুন্দর পরিবেশে একটা ছবিও তুলে নিচ্ছি।’

মেলায় এসেছে নূরে আলম সিদ্দিকীর ভাষ্যে ‘সেকালের রাজনীতি ও ছাত্রলীগ’। বইটির গ্রন্থনা ও সম্পাদনা করেছেন অনিকেত রাজেশ।

বইমেলা পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব জালাল আহমেদ গত রাতে কালের কণ্ঠকে জানান, চার হাজার ৭৬৯টি নতুন বইয়ের (বাংলা একাডেমির তথ্যকেন্দ্রের হিসাব) মধ্যে এক হাজার ১৭০টিকে ‘মানসম্পন্ন বই’ বলা যায়। তিনি জানান, বাংলা একাডেমি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দুই কোটি ৯১ হাজার টাকার বই বিক্রি হয়েছে। গতবার বিক্রি হয়েছিল এক কোটি ৬৫ লাখ টাকার বই। ২৮ ফেব্রুয়ারি ও ১ মার্চ আরো বিক্রি বেড়েছে। তাঁর মতে, গতবারের চেয়ে এবার অন্তত ১০ শতাংশ বই বেশি বিক্রি হয়েছে।

 

মন্তব্য