kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৫ জুন ২০১৯। ১১ আষাঢ় ১৪২৬। ২২ শাওয়াল ১৪৪০

মেয়র ও চেয়ারম্যান পদে থেকে সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ব্যাখ্যা খুঁজছে ইসি

বিশেষ প্রতিনিধি   

২০ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মেয়র ও চেয়ারম্যান পদে থেকে সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ব্যাখ্যা খুঁজছে ইসি

মেয়র ও চেয়ারম্যানরা পদে থাকা অবস্থায় কেউ আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন কি না তা নির্বাচন কমিশনের কাছে জানতে চেয়েছে বিএনপি। এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা না থাকায় সংশ্লিষ্ট সব আইন খতিয়ে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। অতীতে এ ধরনের ঘটনা নিয়ে দীর্ঘ আইনি লড়াই হয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে পারেনি।

সূত্র জানায়, বিএনপি মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীর গতকাল সোমবার প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে একটি চিঠি দিয়েছেন। তাতে বলা হয়েছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার আগে উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং পৌরসভার মেয়রদের পদত্যাগ করতে হবে কি না সে বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে। এ বিষয়ে জরুরি ভিত্তিতে নির্দেশনা জারির অনুরোধ জানানো  হচ্ছে।

নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ এ বিষয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা তাদের চিঠি পেয়েছি। নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে আইনি ব্যাখ্যা জানার চেষ্টা করছে। কমিশনের সিদ্ধান্ত রিটার্নিং অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে জানিয়ে দেওয়া হবে।’

সূত্র জানায়, ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদের ঝিনাইদহ-৩ আসনে শফিকুল আজম খান চঞ্চল এবং নড়াইল-১ আসনে কবিরুল হক পৌরসভার মেয়র পদে থেকে নির্বাচনে প্রার্থী হন। তাঁরা গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের বিধান অনুযায়ী নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য ছিলেন বিবেচনায় রিটার্নিং অফিসাররা মনোনয়নপত্র বাতিল করেন। একই অবস্থা হয় বিএনপি প্রার্থী ও তৎকালীন ঢাকা সিটির মেয়র সাদেক হোসেন খোকার ক্ষেত্রেও। আলোচিত তিন প্রার্থী রিটার্নিং অফিসারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ইসিতে আপিল করেন। ইসি সাদেক হোসেন খোকার মনোনয়নপত্র বাতিল করলে তিনি হাইকোর্টে রিট আবেদন দাখিল করেন। আদালত ইসির সিদ্ধান্তের ওপর স্থগিতাদেশ দেন। একই সঙ্গে সাদেক হোসেন খোকার মনোনয়নপত্র বৈধ বলে গ্রহণ করার জন্য ইসিকে নির্দেশ দেন। পৃথক রিট আবেদনের সূত্রে কবিরুল হক ও শফিকুল আজমের মনোনয়নপত্রও বৈধ বলে বিবেচিত হয়। সাদেক হোসেন খোকা নির্বাচনে হেরে যান। তবে শফিকুল আজম খান চঞ্চল ও কবিরুল হক নির্বাচনে বিজয়ী হন। ২০০৯ সালের জুলাই মাসে হাইকোর্ট এসংক্রান্ত মামলার চূড়ান্ত রায় প্রদান করেন। একই ধরনের মামলা বিধায় হাইকোর্ট তিনজনের বিষয়ে অভিন্ন রায় প্রদান করেন। রায়ে সিটি করপোরেশনের মেয়রের পদকে লাভজনক বিবেচনা করে সাদেক হোসেন খোকার মনোনয়ন অবৈধ ঘোষণা করেন। কবিরুল ও শফিকুল আজম খানের ব্যাপারে ইসি কোনো সিদ্ধান্ত না নেওয়ায় আদালত তাঁদের মামলাকে অপরিপক্ব বলে মন্তব্য করেন।

হাইকোর্টের রায়ের পর ইসি গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ৯১-ই ধারার বিধান অনুযায়ী ২০০৯ সালের ৩১ আগস্ট শফিকুল আজম এবং ৩ সেপ্টেম্বর কবিরুল হককে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠান। এতে বলা হয়, প্রার্থী হিসেবে তাঁরা নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অযোগ্য ছিলেন। এ অবস্থায় তাঁদের সংসদ সদস্য পদ কেন অবৈধ হবে না? ইসির এই নোটিশের বিরুদ্ধে দুই সংসদ সদস্য আদালতে রিট আবেদন করেন। আদালত ইসির চিঠির কার্যকারিতা তিন মাসের জন্য স্থগিত করেন। ওই সময় শেষ হওয়ার পর ইসির বৈঠকে দুই সংসদ সদস্যের দায়ের করা মামলায় অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু ওই মামলা নিষ্পত্তি হওয়ার আগেই নবম জাতীয় সংসদের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ১২ ধারা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি প্রজাতন্ত্রের বা সংবিধিবদ্ধ কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠানের কোনো লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত থাকলে তিনি সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। এ ধারা সম্পর্কে ইসি ও আদালতের ব্যাখ্যায় সিটি করপোরেশন ও পৌর মেয়রের পদকে লাভজনক পদ হিসেবে দেখানো হয়েছে। জেলা ও উপজেলা পরিষদ এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়াম্যানের পদ লাভজনক কি না সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশন থেকে এর আগে কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়নি।

গত ১৩ নভেম্বর নির্বাচন কমিশনের ব্রিফিংযে রিটার্নিং অফিসাররা এ ধরনের সমস্যার সমাধান জানতে চাইলে স্পষ্ট কোনো জবাব পাননি। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, সংশ্লিষ্ট সব আইন খতিয়ে দেখে বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হবে।

 

মন্তব্য