kalerkantho

শুক্রবার । ২৪ মে ২০১৯। ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৮ রমজান ১৪৪০

‘হেভিওয়েট’ আসন সিলেট-১

মুহিত-ইনাম লড়াই, নাকি মোমেন বনাম মুক্তাদির?

সিলেট অফিস   

২০ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মুহিত-ইনাম লড়াই, নাকি মোমেন বনাম মুক্তাদির?

সিলেট-১ বরাবরই এক ‘হেভিওয়েট’ আসনের নাম! এ আসনেরই সংসদ সদস্য ছিলেন সাবেক স্পিকার হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী ও সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান। বর্তমান অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতও এই আসনেরই সদস্য। শোনা যাচ্ছিল, মুহিত এবার আর প্রার্থী হচ্ছেন না, তিনি নিজেও একাধিকবার এ কথা প্রকাশ্যে বলেছেন। এক সপ্তাহ আগেও বড় দুই জোটের প্রার্থী হিসেবে যাঁদের নাম শোনা যাচ্ছিল সে তালিকায় অর্থমন্ত্রীর নাম ছিল না। শেষ মুহূর্তে এসে ‘হাই ভোল্টেজ’ এ আসন যেন তাঁর রূপ ফিরে পাচ্ছে। এত দিন যাঁরা বড় প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় ছিলেন, তাঁরা চলে গেছেন আলোচনার বাইরে। সামনে চলে এসেছেন অর্থমন্ত্রী, এসেছে প্রতিপক্ষ শিবিরেও নতুন নাম। কারণ আওয়ামী লীগ কিংবা বিএনপি কেউই আসনটি নিয়ে ঝুঁকি নিতে চাইছে না। হাতছাড়া করতে চাচ্ছে না। জয়ের সম্ভাবনা বেশি—এমন প্রার্থীই দিতে চাচ্ছে মহাজোট ও ঐক্যফ্রন্ট।

দুই বছর আগে থেকেই শোনা যাচ্ছিল অর্থমন্ত্রীর পরে সিলেট-১ আসনে তাঁর ছোট ভাই ড. এ কে আবদুল মোমেন প্রার্থী হবেন। জাতিসংঘের দায়িত্ব পালন শেষে দেশে এসে সিলেটেই বেশি সময় দিচ্ছেন ড. মোমেন, দলের সদস্য পদও গ্রহণ করেছেন। তিনি আওয়ামী  লীগ এবং অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন কর্মসূচির পাশাপাশি সরকারি-

বেসরকারি অনেক অনুষ্ঠানেও যোগ দিচ্ছেন ভাইয়ের সঙ্গে। অর্থমন্ত্রী নিজেও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার সময় আভাস দিয়েছেন ভাইয়ের প্রার্থিতার। এরই মধ্যে হঠাৎ করে অর্থমন্ত্রীর জন্য দলীয় মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন তাঁর ছেলে সাহেদ মুহিত। মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন আব্দুল মোমেনও। অবশ্য গত মঙ্গলবার ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী বলেছেন, তিনি নির্বাচনে অংশ নেবেন না। ‘ডামি’ প্রার্থী হিসেবে তিনি দলের মনোনয়ন নিয়েছেন। অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী তাঁর ভাই আব্দুল মোমেন কোনো কারণে মনোনয়ন পেতে ব্যর্থ হলে তবেই তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

আসনটিতে সরকারি দল থেকে পাঁচজন হেভিওয়েট প্রার্থী দলীয় মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন। বাকি তিনজন হলেন সাবেক নির্বাচন কমিশনার ছহুল হোসাইন, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ ও সাবেক মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদরউদ্দিন আহমদ কামরান।

এদিকে অর্থমন্ত্রী কিংবা তাঁর ভাইকে মোকাবেলা করতে পারেন এমন প্রভাবশালী প্রার্থী এই আসনে মনোনয়ন দিতে চাচ্ছে ঐক্যফ্রন্ট। নবম সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান। তাঁর মৃত্যুর পর এ আসনে যোগ্য প্রার্থীর সন্ধানে ছিল বিএনপি। একসময় দলের ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী সাইফুর রহমানের উত্তরসূরি হিসেবে মাঠে নামেন। তবে এখন তিনি দলেই নেই। সম্প্রতি বিকল্পধারায় যোগ দেওয়ায় সিলেট-৬ আসনে তাঁর প্রার্থী হওয়ার কথা শোনা যাচ্ছে। বর্তমানে এ আসনে বিএনপির প্রার্থী দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। এ ছাড়া জোর আলোচনায় আসেন আরেক উপদেষ্টা ও প্রাইভেটাইজেশন কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ড. ইনাম আহমদ চৌধুরী।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওয়ামী লীগের একজন নেতা অনেকটা অকপটেই বলেন, সিলেট-১ আসনে অর্থমন্ত্রী কিংবা তাঁর ভাই ড. মোমেনই প্রার্থী হবেন। যদি বিএনপির প্রার্থী হিসেবে খন্দকার মুক্তাদির আসেন তাহলে প্রার্থী হবেন ড. মোমেন। আর যদি প্রার্থী হন ড. ইনাম আহমদ চৌধুরী তাহলে দলের প্রার্থী হবেন অর্থমন্ত্রী নিজেই। এটা সহজ ‘রাজনৈতিক সমীকরণ’ বলেও তিনি মন্তব্য করেন। দলটির  আরেকজন নেতা বলেন, এই আসনে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিনের নাম শোনা গেলেও শেষ পর্যন্ত তাঁকে হবিগঞ্জের একটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হচ্ছে। প্রতিপক্ষ ইনাম আহমদ চৌধুরী হলে অর্থমন্ত্রীকে নির্বাচন করতেই হবে। কারণ ড. মোমেনের চেয়ে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা বেশি।

বদরউদ্দিন আহমদ কামরান কালের কণ্ঠকে বলেন, দলের প্রার্থী কে হবেন সেটি প্রায় চূড়ান্ত। কিন্তু যেহেতু আগামী নির্বাচন চ্যালেঞ্জিং তাই সবদিক বিবেচনা করেই জয়ী হতে পারবেন—এমন প্রার্থীকেই মনোনয়ন দেওয়া হবে। কামরান নিজেও এই আসনে দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যে-ই প্রার্থী হোক না কেন ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাব।’

সিলেট মহানগর বিএনপির একজন নেতা জানান, এ আসনে ক্ষমতাসীন দলের হেভিওয়েট প্রার্থীর বিরুদ্ধে খন্দকার মুক্তাদিরের সামর্থ্য নিয়ে সন্দেহ রয়েছে দলে। তাই দলের চেয়ারপারসনের অন্য উপদেষ্টা ড. ইনাম আহমদ চৌধুরীকে এই আসনে ভাবা হচ্ছে। কারণ আসনটিতে যেকোনো মূল্যে জয় চায় বিএনপি।

সিলেট মহানগর বিএনপির সহসভাপতি সালেহ আহমদ খসরু কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘গোটা বাংলাদেশ এই আসনের দিকে তাকিয়ে আছে। তাই সব কিছু বিবেচনায় নিয়ে বিএনপি বা ঐক্যফ্রন্ট এই আসনে যোগ্য প্রার্থীই মনোনয়ন দেবে।’

 

মন্তব্য