kalerkantho

এক আসনে ৫২ প্রার্থী নৌকার

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল ও বরগুনা প্রতিনিধি   

১৪ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



এক আসনে ৫২ প্রার্থী নৌকার

একাদশ সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ের লক্ষ্যে আওয়ামী লীগ দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রি শেষ করেছে। এই মনোনয়ন ফরম কেনায় এবার রেকর্ড করেছে বরগুনা-১ আসন। এই আসনে দলটির প্রার্থী হওয়ার জন্য ৫২ জন দলীয় মনোনয়ন ফরম কিনেছেন। এই আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগের ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু। অন্যদিকে জেলার অন্য আসন বরগুনা-২ থেকে প্রার্থী হতে ইচ্ছুক ৩২ জন কিনেছেন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম।

মাত্র একটি মনোনয়ন ফরম বিক্রি হয়েছে বরিশাল-১ আসনে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ ছাড়া আর কেউ দলীয় মনোনয়ন ফরম কেনেননি। আবুল হাসানাত বর্তমানে এই আসনের সংসদ সদস্য। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম বিতরণ কমিটির বরিশাল বিভাগের সমন্বয়ক প্রকৌশলী মনজুরুল ইসলাম মঞ্জু কালের কণ্ঠকে বলেন, দেশের ৩০০ সংসদীয় আসনের মধ্যে বরগুনা-১ আসনে আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ ৫২টি মনোনয়ন ফরম বিক্রি হয়েছে। আর সর্বনিম্ন একটি মনোনয়ন ফরম বিক্রি হয়েছে বরিশাল-১ আসনে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২১টি মনোনয়ন ফরম বিক্রি হয়েছে বরিশাল-২ আসনে। এই আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য তালুকদার মো. ইউনুস। তিনি জানান, বরিশালের ছয়টি আসনে মোট ৭২টি ফরম বিক্রি হয়েছে।

বরগুনা-১ আসনে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে শম্ভুবিরোধী ‘জোট’ রয়েছে। এই ‘জোট’ সম্প্রতি শম্ভুকে বরগুনায় অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে। এই পক্ষের নেতারা ঘোষণা করেছেন, শম্ভুকে বাদ দিয়ে তাঁদের মধ্যে কাউকে প্রার্থী করা হলে তাঁরা একজোট হয়ে নির্বাচন করবেন।

এদিকে একটি আসনে এত বেশি মনোনয়নপত্র কেনা নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বরগুনার সর্বত্র। কেউ বলছেন, ‘রাজনীতি আর রাজনীতির জায়গায় নেই।’ কেউ বলছেন, ‘এত বেশি মনোনয়ন কেনার মধ্যেও রাজনৈতিক চাল আছে।’

এ বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবীর কালের কণ্ঠকে বলেন, ত্যাগী ও যোগ্য মনোনয়নপ্রত্যাশীদের খাটো করার হীন চক্রান্তের পাশাপাশি মনোনয়ন ইস্যুতে সমঝোতার যে সমীকরণ তাতে এগিয়ে থাকার গোপন উদ্দেশ্যেই এমনটি করা হয়েছে।

বরগুনা সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতা মনে করেন, দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার দাপট, জনপ্রিয় ও ত্যাগী নেতাদের কোণঠাসা করে রাখা, টাকার বিনিময়ে অনুপ্রবেশকারীদের দলে পদ-পদবি দেওয়ায় সৃষ্ট রাজনৈতিক দৈন্যদশাই বরগুনা-১ আসনে সর্বাধিক মনোনয়ন ফরম কেনার কারণ।

জানা গেছে, বরগুনা-১ আসনে দীর্ঘদিন ধরে মাঠে থাকা উল্লেখযোগ্য মনোনয়নপ্রত্যাশীরা নিজেদের উদ্যোগেই দলের মনোনয়ন ফরম কিনেছেন। এর বাইরে যাঁরা আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র কিনেছেন তাঁদের অধিকাংশই বর্তমান সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর সমর্থক।

এই আসনে যে ৫২ জন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম কিনেছেন তাঁদের মধ্যে শম্ভুবিরোধী হিসেবে পরিচিত জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি হুমায়ূন কবীর, সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক জেলা পরিষদ প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর কবীর, সাবেক সংসদ সদস্য ও বর্তমান বরগুনা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. দেলোয়ার হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোতালেব মৃধা, আরেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জেলা যুবলীগের সভাপতি কামরুল আহসান মহারাজ, সাংগঠনিক সম্পাদক জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি গোলাম সরোয়ার টুকু, আমতলী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জি এম দেলোয়ার হোসেন, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটির কৃষিবিষয়ক সহসম্পাদক মশিউর রহমান শিহাব, দলের আরেক নেতা গোলাম সরওয়ার ফোরকান, সদর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শাহ মোহাম্মাদ ওলি উল্লাহ ওলি, তালতলী উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা ফজলুল হক জমাদ্দার, সাবেক সংসদ সদস্য নিজাম তালুকদারের স্ত্রী জাকিয়া এলিচ, সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত মো. সিদ্দিকুর রহমানের মেয়ে সোহেলী পারভিন মনি প্রমুখ।

অন্যদিকে বর্তমান সংসদ সদস্য ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু দলের মনোনয়ন ফরম কিনেছেন। তাঁর সমর্থক হিসেবে পরিচিতদের মধ্যে মনোনয়ন ফরম কিনেছেন বরগুনা সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্বাস হোসেন মন্টু, আরেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও পৌর কাউন্সিলর রইসুল আলম রিপন, আমতলী পৌরসভার মেয়র মো. মতিয়ার রহমান, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটির সাবেক সহসম্পাদক ও সাবেক ছাত্রনেতা খলিলুর রহমান, দলের বরগুনা সদর উপজেলা শাখার সভাপতি ও বরগুনা সদর উপজেলা বুড়িরচর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগ সদস্য মনিরুজ্জামান নসা, তালতলী উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মো. মনিরুজ্জামান মিন্টু, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ইমরান হোসেন রাসেল ফরায়েজী প্রমুখ।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সংসদ সদস্য ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাঁকে পাওয়া যায়নি।

এ ছাড়া বরগুনা-২ আসনে দলের প্রার্থী হওয়ার লক্ষ্যে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম কিনেছেন এই আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য শওকত হাচানুর রহমান রিমন, বামনা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাইতুল ইসলাম লিটু, কেন্দ্রীয় যুবলীগের অর্থবিষয়ক সম্পাদক সুভাষ চন্দ্র হাওলাদার, বরগুনা পৌরসভার মেয়র মো. শাহাদাত হোসেন, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ও বামনা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হারুন অর রশীদ, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ফারুক মেজবাহ উদ্দীন খান, দলের পাথরঘাটা উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক জাবির হোসেন, এই উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম রিপন, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক মো. মাহবুবুর রহমান টুকু, সাবেক ছাত্রনেতা ও কৃষিবিদ শামসুল আলম, বর্তমান সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নাসিমা ফেরদৌসী, পাথরঘাটা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলমগীর হোসেন ও পাথরঘাটা উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফাতিমা পারভীন।

এ ছাড়াও এই আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম কিনেছেন সামসুল আলম, মামুনুর মিঠু, সাইফুল ইসলাম সরওয়ার, মিজানুর রহমান, সাইদুর রহমান সবুজ, হাসিবুর রহমান হাসিব, অ্যান্টনি গোমেজ, জামাল হোসাইন, জয়নাল আবেদিন খান, ফিরোজ আলম টিটু, আনোয়ার আকন, তৌহিদুল ইসলাম ও গোলাম নাসির।

 

মন্তব্য