kalerkantho

অনিবার্য কারণে আজ শেয়ারবাজার প্রকাশিত হলো না। - সম্পাদক

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

শিক্ষক নেতারাও মনোনয়ন দৌড়ে

শরীফুল আলম সুমন   

১৪ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



শিক্ষক নেতারাও মনোনয়ন দৌড়ে

জাতির দুয়ারে কড়া নাড়ছে সংসদ নির্বাচন। অন্য পেশাজীবীদের সঙ্গে মনোনয়ন দৌড়ে পিছিয়ে নেই শিক্ষকরাও। আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ বিভিন্ন দলের হয়ে ভোটের মাঠে রয়েছেন অনেক শিক্ষক। গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত ১৬ জন শিক্ষক শীর্ষস্থানীয় দুটি দলের হয়ে মনোনয়ন ফরম তুলে দলে জমা দিয়েছেন। এমনকি এক শিক্ষক একাধিক আসন থেকেও মনোনয়ন ফরম তুলেছেন। তাঁরা নিজ নিজ দল থেকে মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী। অবশ্য এই শিক্ষকদের বেশির ভাগই কোনো না কোনো শিক্ষক সংগঠনের সঙ্গে জড়িত। তাঁরা পেশাগত আন্দোলন ছাড়াও নিজ নিজ নির্বাচনী আসনে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছেন।

আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের বৃহৎ সংগঠন স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদের (স্বাশিপ) কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মো. শাহজাহান আলম সাজু। তিনি আওয়ামী লীগের হয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (আশুগঞ্জ-সরাইল) আসন থেকে মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন। তিনি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সহসভাপতি ছিলেন, বর্তমানে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় শিক্ষা ও মানবসম্পদবিষয়ক উপকমিটির সদস্য।

শাহজাহান আলম সাজু কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি ছাত্রজীবন থেকেই ছাত্রলীগের সঙ্গে ছিলাম। কল্যাণ ট্রাস্টের সুবাদে শিক্ষকদের উন্নয়নে কাজ করেছি। এ ছাড়া এলাকার একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা আমি। রাস্তাঘাট, কালভার্ট-ব্রিজ নির্মাণে অনেক আগে থেকেই ভূমিকা রাখছি। ওয়ান-ইলেভেনে আমিই একমাত্র শিক্ষক নেতা যে শেখ হাসিনার মুক্তির জন্য সর্বপ্রথম রাস্তায় নেমেছি। আওয়ামী লীগ যদি আমাকে মনোনয়ন দেয় তাহলে আমি এই আসনটি উপহার দিতে পারব বলে শতভাগ আশাবাদী।’

বিএনপিপন্থী শিক্ষক সংগঠনগুলোর বৃহৎ মোর্চা বাংলাদেশ শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়া। তিনি ঢাকা-৪ (শ্যামপুর-কদমতলী), ঢাকা-৫ (ডেমরা, যাত্রাবাড়ী ও কদমতলীর একাংশ) ও কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস) থেকে বিএনপির হয়ে মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন। তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় গণশিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক এবং রাজধানীর এ কে স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ।

সেলিম ভূঁইয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘২০০৯ সালের নির্বাচনে আমি ঢাকা-৫ আসনে বিএনপির বিকল্প প্রার্থী ছিলাম। বর্তমান সরকারের দুই দফায় আমার নামে ২৩টি মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। আমি যে তিনটি আসন থেকে মনোনয়ন ফরম তুলেছি, তা পাশাপাশি। এসব এলাকার অধিকাংশ বাসিন্দা কুমিল্লার। আমি নিজেও কুমিল্লার। ফলে দল আমাকে যেকোনো আসন থেকে মনোনয়ন দিলে বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করতে পারব।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএর প্রফেসর ড. আবু ইউসুফ মো. আব্দুল্লাহ আওয়ামী লীগের হয়ে সাতক্ষীরা-৩ (আশাশুনি-দেবহাটা-কালীগঞ্জের একাংশ) আসনে মনোনয়ন ফরম তুলেছেন। ড. আব্দুল্লাহ বর্তমানে নর্দান ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি, খুলনার উপাচার্য। এ ছাড়া তিনি নর্দান ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, নর্দান ইন্টারন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজসহ একাধিক স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা।

ড. আব্দুল্লাহ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমার এখন আর চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই। আমি নিজে শিক্ষক এবং শিক্ষকের ছেলে। এটুকু নিশ্চয়তা দিতে পারি, গরিবের পয়সা চুরি করব না। আগামী নির্বাচনে আমাদের এই আসনটা বের করে আনা বর্তমান এমপির জন্য কঠিন। তাই দল যদি আমাকে মনোনয়ন দেয় তাহলে আমি জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী।’

রাজধানীর তেজগাঁও কলেজের অধ্যক্ষ ও তেজগাঁও থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যক্ষ মো. আবদুর রশীদ আওয়ামী লীগের হয়ে জামালপুর-৪ (সরিষাবাড়ী) আসন থেকে মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন। তিনি বাংলাদেশ কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির (বাকবিশিস) কার্যকরী সভাপতি। তিনি এর আগে একাধিক আসনে নির্বাচনী প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। অধ্যক্ষ আবদুর রশীদ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য।

জাতীয় শিক্ষক-কর্মচারী ফ্রন্টের আহ্বায়ক ও বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যক্ষ আসাদুল হক। তিনি আওয়ামী লীগের হয়ে কিশোরগঞ্জ-৩ আসন (করিমগঞ্জ-তাড়াইল) থেকে মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন। তিনি রাজধানীর তেজগাঁও মহিলা কলেজের সদ্য সাবেক অধ্যক্ষ ও বাংলাদেশ অবসর সুবিধা বোর্ডের সাবেক সদস্যসচিব।

আসাদুল হক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমার আসনটি পর পর দুইবার মহাজোটের শরিক দল হিসেবে জাতীয় পার্টিকে দেওয়া হয়েছে। এখন তৃতীয়বার দিলে এই আসনে আওয়ামী লীগের অস্তিত্ব থাকবে না। আমি নিজে একজন মুক্তিযোদ্ধা। ৪২ বছর ধরে এলাকার উন্নয়নে ভূমিকা রেখে চলেছি। দল যদি আমাকে মনোনয়ন দেয় তাহলে এ কথা বলতে পারি, নৌকার বিজয় সুনিশ্চিত।’

এ ছাড়া রাজশাহী-১ আসন থেকে আওয়ামী লীগের হয়ে সাবেক অধ্যাপক বজলার রহমান, রাজশাহী-২ আসন থেকে শফিকুর রহমান বাদশা, পিরোজপুর-১ আসন থেকে অধ্যক্ষ শাহ আলম, নেত্রকোনা-২ আসন থেকে মদনপুর শাহ সুলতান ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক ওমর ফারুক, নেত্রকোনা-১ আসন থেকে সুসং ডিগ্রি কলেজের উপাধ্যক্ষ রেমন্ড আরেং, ময়মনসিংহ-৯ আসন থেকে অধ্যক্ষ সামছুল বারী মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন।

রাজধানীর জনতাবাগ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জাকির হোসাইন বিএনপির হয়ে মেহেরপুর-১ আসন থেকে মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন। তিনি মেহেরপুর জেলা বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য। এ ছাড়া শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের অতিরিক্ত মহাসচিব ও বাংলাদেশ প্রধান শিক্ষক সমিতির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাদা দলের আহ্বায়ক ও বিএনপির শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক প্রফেসর এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বাগেরহাট-৩ আসন থেকে, জয়পুরহাট শহর বিএনপির সহসভাপতি অধ্যক্ষ মামসুল হক জয়পুরহাট-১ আসন থেকে, দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সেক্রেটারি মনজুরুল ইসলাম দিনাজপুর-২ আসন থেকে, পিরোজপুর জেলা বিএনপির সেক্রেটারি ও শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের নেতা আলমগীর হোসেন পিরোজপুর-১ আসন থেকে বিএনপির হয়ে মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন।

 

মন্তব্য