kalerkantho

অনিবার্য কারণে আজ শেয়ারবাজার প্রকাশিত হলো না। - সম্পাদক

এনবিআরের সনদ না থাকলে নির্বাচনে অযোগ্যের প্রস্তাব

ফারজানা লাবনী    

১২ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



এনবিআরের সনদ না থাকলে নির্বাচনে অযোগ্যের প্রস্তাব

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যোগ্য হতে কর পরিশোধে সক্ষম প্রার্থীকে মনোনয়নপত্র জমার আগে রিটার্নিং অফিসারের কাছে আয়কর পরিশোধসংক্রান্ত সনদপত্র এবং আয়কর বিবরণীর সনদপত্র জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করতে প্রস্তাব করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। আয়কর বিবরণীর সনদপত্রে সংক্ষিপ্তভাবে প্রার্থীর আয়-ব্যয় ও সম্পদের বিবরণী থাকবে। প্রার্থী করযোগ্য না হলেও তাঁকে আয়কর বিবরণীর সনদপত্র জমা দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রার্থীর আয়কর বিবরণীতে তাঁর আয়-ব্যয়ের হিসাব এবং ন্যূনতম সম্পদ থাকলে বা না থাকলেও তার তথ্য উল্লেখ করতে হবে।

প্রার্থী যে কর অঞ্চলের আওতাভুক্ত সেখানকার কর কমিশনারের কাছ থেকে এসব সনদ নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রার্থী এনবিআরের পাওনা রাজস্বের ২৫ শতাংশ পরিশোধ করলে এবং বাকিটা পরিশোধে সময় জানিয়ে এনবিআরের কাছে অঙ্গীকার করলে সনদ দেওয়া হবে। তবে ১৩ নভেম্বর শুরু হওয়া আয়কর মেলায় এসে কর পরিশোধ করলে পাওনা রাজস্বের ২০ শতাংশ পরিশোধ করলেই হবে।

গতকাল রবিবার এনবিআর থেকে এসব প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠিয়ে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তির ঋণ এবং বিল বকেয়া থাকলে নির্বাচনে অংশগ্রহণে অযোগ্য বিবেচিত হলেও কর পরিশোধে কঠোরতা নেই। এমনকি প্রার্থীর ইটিআইএন থাকাও বাধ্যতামূলক নয়। অনেকে সরকারের কোটি কোটি টাকার রাজস্ব বকেয়া রেখে নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন। করযোগ্য নয় বলে অনেকে মিথ্যা তথ্য দিচ্ছেন। রাজস্ব পরিশোধে বাধ্য করতে এবং স্বচ্ছতা আনতে জরুরি ভিত্তিতে এ পদক্ষেপ বাস্তবায়নে এনবিআর প্রস্তাব করছে। 

নির্বাচন কমিশনের যুগ্ম সচিব ফরহাদ আহাম্মদ খান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নির্বাচনে যোগ্য প্রার্থী হতে কর পরিশোধসংক্রান্ত প্রমাণ জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। এমনকি ইটিআইএন না থাকলেও নির্বাচন কমিশন কোনো প্রশ্ন তুলবে না।’

এনবিআর চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কোটি কোটি টাকার রাজস্ব পরিশোধ না করেই অনেকে নির্বাচনে প্রার্থী হন। তাঁদের অনেকে জয়ী হয়ে জাতীয় সংসদে জনগণের প্রতিনিধিত্ব করেন। অথচ রাজস্ব খাতে সরকারের বড় অঙ্কের অর্থ তাঁরা পরিশোধ করেন না। এ সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। এ বিষয়ে আইনি কঠোরতা থাকলে এনবিআর শক্ত পদক্ষেপ নিতে পারে। সৎ প্রার্থীরা এনবিআরের এসব উদ্যোগকে স্বাগত জানাবেন বলে আমার বিশ্বাস।’

আয়কর পরিশোধ করে রিটার্ন জমা দিলে এনবিআর থেকে আয়কর পরিশোধসংক্রান্ত সনদপত্র দেওয়া হয়। আয়কর রিটার্নে আয়-ব্যয় ও সম্পদের বিবরণী থাকলেও আয়কর পরিশোধের সনদপত্রে এ বিষয়ে কোনো তথ্য থাকে না। আয়কর পরিশোধসংক্রান্ত সনদপত্রে করদাতার নাম, তাঁর বাবা, মা, ঠিকানা, ইটিআইএন, কর সার্কেল উল্লেখ থাকে।

নির্বাচন কমিশন বলছে, আয়কর পরিশোধসংক্রান্ত সনদ এবং আয়কর বিবরণীর সনদপত্র প্রার্থী যে কর অঞ্চলের আওতাভুক্ত সে কর অঞ্চলের কর কমিশনারের কাছ থেকে নিতে হবে। প্রার্থী ওই কর অঞ্চলের আওতাভুক্ত হওয়ায় তাঁর আয়কর নথি সেখানে গচ্ছিত আছে। এতে কর কমিশনার সহজে তাঁর  আয়-ব্যয় ও সম্পদের হিসাবসংক্রান্ত তথ্য যাচাই করে দেখতে পারবেন। করযোগ্য আয় না থাকলে প্রার্থী আয়কর বিবরণীর সনদপত্র নিতে গেলে কর কমিশনার প্রয়োজনে প্রার্থীর দেওয়া তথ্য যাচাই করে নেবেন। এসব সনদের তথ্য যাচাইয়ে কর কমিশনারের নির্দেশে সংশ্লিষ্ট কর অঞ্চলের কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত টাস্কফোর্স কমিটি তদন্ত পরিচালনা করবে। টাস্কফোর্স কমিটির সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে। টাস্কফোর্স কমিটির তদন্তে বড় ধরনের গরমিল পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর আয়করসংক্রান্ত সব তথ্য-প্রমাণ  এনবিআরের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা শাখা সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেলে (সিআইসি)  পাঠানো  হবে। সিআইসির কর্মকর্তারা আয়-ব্যয় ও সম্পদের তথ্যে গরমিল পেলে আরো বিস্তারিতভাবে তদন্ত করে দেখবেন। আয়-ব্যয়ের তথ্য গোপনের অভিযোগ প্রমাণ হলে রাজস্ব আইনানুসারে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আইনি কঠোরতা না থাকায় অতীতে বিভিন্ন নির্বাচনে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে প্রচার-প্রচারণা চালালেও করযোগ্য আয় নেই বলে নির্বাচন কমিশনে মিথ্যা তথ্য দিয়ে অনেকে পার পেয়ে যায়।’

এনবিআর সূত্র জানায়, আসন্ন নির্বাচন সামনে রেখে রাজস্ব আদায়ে এনবিআর আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়েছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম এরই মধ্যে পত্রিকা, টেলিভিশনে এসেছে। এর বাইরেও অনেকে প্রার্থী হবেন। গত ৩ অক্টোবর এনবিআর করনীতি শাখা থেকে নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের আয়করসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করে হালনাগাদ রাখতে বিভিন্ন কর অঞ্চলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এতে প্রার্থীদের রাজস্ব পরিশোধসংক্রান্ত তথ্য এনবিআর সংশ্লিষ্টরা সহজে খতিয়ে দেখতে পারবেন।

এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নির্বাচন বড় একটি ইস্যু। এনবিআর কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে এ কাজ করছে না। রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ অন্যতম উদ্দেশ্য।’ চেয়ারম্যান আরো বলেন, ‘চলতি অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যমাত্রা পূরণে নতুন নতুন কৌশল গ্রহণে এনবিআর চেষ্টা করছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘এনবিআরের বিভিন্ন কর অঞ্চলের অধীনে কয়েকটি করে জাতীয় সংসদের আসন আছে। এসব আসনের সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা এরই মধ্যে বিভিন্ন কর অঞ্চল থেকে সংগ্রহ করে তথ্য হালনাগাদ করে রাখা হচ্ছে। তাই করসংক্রান্ত সনদ নিতে এসে কোনো অসাধু ব্যক্তি মিথ্যা তথ্য দিলে তা সহজে যাচাই করা যাবে।’

মন্তব্য