kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২০ জুন ২০১৯। ৬ আষাঢ় ১৪২৬। ১৬ শাওয়াল ১৪৪০

সাক্ষাৎকার

সাহসী জীবনের গল্প শোনালেন মনীষা কৈরালা

নওশাদ জামিল   

১০ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সাহসী জীবনের গল্প শোনালেন মনীষা কৈরালা

বাংলা একাডেমিতে গতকাল ঢাকা লিট ফেস্টের ‘ব্রেকিং ব্যাড’ শিরোনামের অধিবেশনে অতিথি ছিলেন বলিউডের দুই অভিনেত্রী মনীষা কৈরালা (মাঝে) ও নন্দিতা দাস (ডানে)। ছবি : তারেক আজিজ নিশক

‘৩০ বছর ধরে আমি বলিউড ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করছি। নানা পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়েছে। একজন যোদ্ধার মতো সব কিছু সামলেছি। সাহসের সঙ্গে এগিয়েছি, কাজ করেছি। এমনকি ক্যান্সার রোগী হিসেবেও ফাইট করেছি।’ দৃঢ়কণ্ঠে কথাগুলো বলেন মনীষা কৈরালা। বলিউডের জনপ্রিয় এই অভিনেত্রী অতিথি হয়ে এসেছেন ঢাকা লিট ফেস্টে। গতকাল শুক্রবার বাংলা একাডেমিতে এই অনুষ্ঠানেই কথা হয় তাঁর সঙ্গে। নিজের জীবনসংগ্রাম, প্রতিবন্ধকতা মোকাবেলা করে নারীর এগিয়ে চলাসহ নানা বিষয়ে কথা বলেছেন তিনি।

চলচ্চিত্রের নানা ধারায় সাবলীল ও প্রাঞ্জল অভিনয়ের জন্য যেমন প্রশংসনীয়, তেমনি রুপালি পর্দায় লাস্যময়ী উপস্থিতির জন্য দর্শক-শ্রোতার কাছে বরণীয় মনীষা কৈরালা। নেপালি এ অভিনেত্রী ভারতীয় চলচ্চিত্র দিয়েই মূলত খ্যাতি অর্জন করেন। চলচ্চিত্রে তাঁর আত্মপ্রকাশ নব্বইয়ের দশকের শুরুতে সুভাষ ঘাইয়ের ‘সওদাগর’ দিয়ে। ২০১২ সালে তাঁর দেহে ক্যান্সার ধরা পড়ে। এরপর নানা চিকিৎসার পর তিনি যেন নতুন জীবন পান। সে সময়ের কথা উল্লেখ করে মনীষা বলেন, ‘সেই সময়ের কথা আসলে বলে ব্যাখ্যা করা কঠিন। আমি মনে করি, জীবন সৃষ্টিকর্তার অপূর্ব উপহার। আমরা সেই উপহারকে যেন কখনো অবহেলা না করি।’

ঢাকা লিট ফেস্টে গতকাল অনুষ্ঠিত ‘ব্রেকিং ব্যাড’ নামের ঘণ্টাব্যাপী অধিবেশনে অংশ নেন মনীষা। এই অধিবেশন শেষ করেই কথা বলেন সাংবাদিকদের সঙ্গে। তাঁর কথায় উঠে আসে ক্যান্সারের সঙ্গে জীবনযুদ্ধের কথা। খোলামেলা আলোচনায় তিনি বলেছেন নারীর পথচলায় প্রতিবন্ধকতার বিষয়ে। বলেছেন চলমান #মিটু আন্দোলন নিয়ে। এ ছাড়া বলেছেন, আগামী বছরের জানুয়ারিতে প্রকাশিতব্য ‘হিল্ড’ শীর্ষক আত্মজীবনী বিষয়ে।

বাংলাদেশ ও ঢাকা লিট ফেস্টে এসে আনন্দিত মনীষা কৈরালা। আলোচনার শুরুতেই স্পষ্ট বাংলায় তিনি বলেন, ‘আমি তোমাকে ভালোবাসি’। পরে নিজের মুগ্ধতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘দ্বিতীয়বারের মতো ঢাকায় এলাম। এবার এসেছি ঢাকা লিট ফেস্টের আমন্ত্রণে। লিট ফেস্ট আমাকে দারুণ মুগ্ধ করেছে। এখানে অজস্র মানুষ এসেছেন সাহিত্যবিষয়ক আলোচনা শুনতে। এটা খুবই আনন্দের বিষয় যে এত বড় বড় সাহিত্যিকদের সঙ্গে একটি সম্মেলনে আমিও অংশ নিচ্ছি। আমার জীবনে ঢাকা লিট ফেস্ট হচ্ছে প্রথম কোনো সাহিত্য সম্মেলন, যাতে আমি অতিথি হিসেবে যোগ দিয়েছি। আমি আবারও এ দেশে আসতে চাই সময় নিয়ে। তখন সবার সঙ্গে আরো বেশি কথা হবে, গল্প হবে।’

নারীর পথচলার প্রতিবন্ধকতা প্রসঙ্গে মনীষা কৈরালা বলেন, ‘আমি জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই লড়াই করেছি। নারী হিসেবে রাস্তায় চললেও নানা ধরনের আঘাত আসে। তাই নারীকে আত্মবিশ্বাসী হতে হবে। নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। আর যেকোনো ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত হতে হলে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। বিনা শ্রমে কিছু অর্জিত হয় না।’

ভালো অভিনেত্রীর গুণাবলি প্রসঙ্গে মনীষা বলেন, ‘একজন ভালো অভিনেত্রীকে অবশ্যই অভিনয় ও চলচ্চিত্রের মনস্তত্ত্ব বুঝতে হবে। তাহলেই পৌঁছানোর যাবে দর্শক হৃদয়ে। এ ছাড়া অভিনয়শিল্পী হিসেবে আমি সৌভাগ্যবান। অভিনয় করতে গিয়ে ভালো নির্মাতার সঙ্গে পেয়েছি উপযুক্ত বিষয়ের চলচ্চিত্র।’   

সফলতার গল্প বলতে গিয়ে ‘এক ছোটি ছে লাভ স্টোরি’ খ্যাত এই নায়িকা বলেন, কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমেই মানুষ সফলতা অর্জন করে। সুতরাং লক্ষ্যে অটুট থেকে স্বপ্ন বাস্তবায়নে সবাইকে কাজ করে যেতে হবে। লক্ষ্য অটুট রেখে পরিশ্রমের সঙ্গে এগিয়ে গেলে সফলতা আসবেই।

হিল্ড শিরোনামে আত্মজীবনী লিখেছেন মনীষা কৈরালা। বইটি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসে প্রকাশিত হবে বইটি। এ গ্রন্থে উঠে আসবে আমার নিজের জীবনের বোঝাপড়ার বিষয়। আমার জীবনের একটি বড় অধ্যায় ছিল ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়া এবং তা থেকে মুক্ত হওয়া। সেটিও আলোচিত হয়েছে এ বইয়ের বিষয়বস্তু হিসেবে। কিভাবে ব্যথা-বেদনাকে পরাজিত করে ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করেছি, থাকবে সে বিষয়ের আলোচনা। কথা বলেছি সামাজিক বাস্তবতায় নারীর অস্তিত্ব নিয়ে।’

চলমান #মিটু আন্দোলন প্রসঙ্গে মনীষা কৈরালা বলেন, এ আন্দোলনটা খুবই ইতিবাচক ঘটনা। মেয়েরা ঘর থেকে বেরিয়ে এসে মন খুলে কথা বলছেন, নিজেদের অধিকারের কথা বলছেন—এগুলো দারুণ ইতিবাচক। তবে এ আন্দোলনের মাধ্যমে কেউ যেন বিনা কারণে হয়রানির শিকার না হয়, সেদিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে। এ জন্য শুধু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ওপর ভরসা রাখলে হবে না। বা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমেই যেন কারও বিচার কিংবা মিডিয়ার ট্রায়াল না হয়—সে বিষয়েও লক্ষ্য রাখতে হবে। পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া শেষ না করে কাউকে যেন অপরাধী না বলা হয়।

মন্তব্য