kalerkantho

সোমবার। ১৭ জুন ২০১৯। ৩ আষাঢ় ১৪২৬। ১৩ শাওয়াল ১৪৪০

দলগুলোর কর্মকাণ্ডে নিবিড় দৃষ্টি কূটনীতিকদের

নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত না নেওয়ার পরামর্শ

মেহেদী হাসান   

১০ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত না নেওয়ার পরামর্শ

নির্বাচন কমিশন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর সার্বিক পরিস্থিতির ওপর নিবিড় দৃষ্টি রাখছেন বিদেশি কূটনীতিকরা। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগও রাখছেন। একই সঙ্গে তাঁরা দলগুলোর মনোভাব ও সম্ভাব্য উদ্যোগগুলো জানার চেষ্টা করছেন। তবে তাঁরা বেশ আগে থেকেই রাজনৈতিক দলগুলোকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে আসছেন।

দক্ষিণ এশিয়ার প্রভাবশালী একটি দেশের একজন কূটনীতিক গতকাল শুক্রবার কালের কণ্ঠকে বলেন, বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটকে তাঁরা গত নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। এবারও তাঁরা সেই পরামর্শই দিচ্ছেন।

ঢাকার পশ্চিমা একটি দূতাবাসের একজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক গতকাল সন্ধ্যায় কালের কণ্ঠকে বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোকে পরামর্শ তো আর প্রকাশ্যে দেওয়া হয় না। দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে একান্ত বা ব্যক্তিগত আলাপচারিতার সময়ই মনোভাব জানিয়ে দেওয়া হয়। তাঁরা মনে করেন, ২০১৪ সালের মতো এবার নির্বাচন বর্জন করলে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলো অপূরণীয় ক্ষতির শিকার হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের সদ্য বিদায়ী রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট ঢাকায় শেষ সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, নির্বাচনে অংশ না নেওয়াটা রাজনৈতিক দলগুলোর ভুল হবে। এটিই পশ্চিমা তথা সব দেশের অবস্থান বলে তিনি মনে করেন। ওই বিশ্লেষক বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোকে নির্বাচন বর্জন নয়, বরং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতেই তাঁরা উৎসাহিত করছেন।

ঢাকায় বিভিন্ন দেশের দূতাবাসের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, তাঁরা যথাসময়ে নির্বাচন  অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারের কাছে নির্ঝঞ্ঝাটভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর দেখতে চান। নির্বাচনকে ঘিরে কোনো ধরনের অস্থিরতা, অশান্তি, নাশকতা তাঁরা দেখতে চান না।

সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন চান কি না এমন প্রশ্নের উত্তরে বিদেশি দূতাবাসগুলোর প্রতিনিধিরা বলেছেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নির্বাচনকালীন সরকারব্যবস্থা নিয়ে দাবির বিষয়ে তাঁরা অবগত। কিন্তু বিদেশি রাষ্ট্রের প্রতিনিধি হিসেবে তাঁরা কোনো সরকারকে সংবিধানের বাইরে যাওয়ার পরামর্শ দিতে পারেন না। এখানে কী ব্যবস্থায় নির্বাচন হবে তা এ দেশের নিজস্ব বিষয়।

যুক্তরাষ্ট্র এ দেশের জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটে এমন ‘ফ্রি’ (অবাধ), ‘ফেয়ার’ (সুষ্ঠু), ‘ক্রেডিবল’ (বিশ্বাসযোগ্য) ও ‘ইনক্লুসিভ’ (অংশগ্রহণমূলক) নির্বাচন চাইলেও ওই শব্দগুলোর ব্যবহার নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যেও কিছু মতপার্থক্য আঁচ করা যায়। গত ২৫ জুলাই ঢাকায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত রেঞ্চা টিয়েরিংক কালের কণ্ঠকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, “আমাদের অংশীদার দেশগুলোর ক্ষেত্রে যা বলি তা হলো—আমরা আশা করি, নির্বাচন ‘ক্রেডিবল’ (বিশ্বাসযোগ্য), ‘ইনক্লুসিভ’ (অংশগ্রহণমূলক) ও ‘ট্রান্সপারেন্ট’ (স্বচ্ছ) হবে। সাধারণত আমরা ‘ফ্রি’ (অবাধ) ও ‘ফেয়ার’ (সুষ্ঠু) শব্দগুলো ব্যবহার করি না। কারণ অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন শব্দগুলো নিজস্ব ভাবনা অনুযায়ী ব্যাখ্যা করার সুযোগ থাকে। তবে আমরা বিশ্বাসযোগ্যতা, অংশগ্রহণমূলক ও স্বচ্ছতা দেখতে চাই।”

জানা গেছে, সব দেশই চায় এ দেশে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সবাই অংশগ্রহণ করুক। কিন্তু পশ্চিমা কিছু দেশ এ দেশে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য যেভাবে চাপ সৃষ্টি করে তা সমর্থন করে না এশীয় অনেক দেশ। সংশ্লিষ্ট এক কূটনীতিক জানান, “আমরা চাই নির্বাচনে সবাই অংশ নিক। কিন্তু এর পরও নির্বাচনে অংশ নেওয়া না নেওয়া রাজনৈতিক দলগুলোর নিজস্ব সিদ্ধান্ত। পশ্চিমা অনেক দেশেও সব রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ নেয় না। ‘আমরা নির্বাচনে যাব না, তাই নির্বাচন হতে দেব না’—কোনো দল এভাবে দেশকে জিম্মি করতে পারে না।”

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বাংলাদেশ সফরে আসা বিদেশি রাষ্ট্রগুলোর প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের ব্যাপারে সরকার ও বিরোধী—দুই পক্ষের কাছেই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন। ব্রিটিশ পররাষ্ট্র ও কমনওলেয়লথ এবং ডিএফআইডি প্রতিমন্ত্রী অ্যালিস্টার বার্ট গত ৩০ আগস্ট ঢাকায় সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘নির্বাচন বিষয়ে যুক্তরাজ্য আগের অবস্থানেই আছে। আগামী ২০২২ সালে তাঁকে এ প্রশ্ন করা হলেও তিনি একই কথা বলবেন। যুক্তরাজ্যের অবস্থান স্পষ্ট। যখন সবাই নির্বাচনে অংশ নেয় তখন এর গুরুত্ব সবচেয়ে বাড়ে। যখন সবাই নির্বাচনে অংশ নেয় তখন সরকারের বৈধতা বাড়ে। সবার অংশগ্রহণে নির্বাচন না হলে এর বৈধতা যাচাই করা আমাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে।’

গত মাসে বাংলাদেশ সফরকালে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক প্রিন্সিপাল ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অ্যালিস জি ওয়েলসও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের প্রত্যাশা তুলে ধরেছেন।

এদিকে বাংলাদেশের নির্বাচন ও মানবাধিকার ইস্যুতে আগামী বৃহস্পতিবার রাতে ওয়াশিংটনে ব্রিফিংয়ের আয়োজন করেছে কংগ্রেসের মানবাধিকারবিষয়ক দ্বিদলীয় ককাস ‘টম ল্যানটোস মানবাধিকার কমিশন।’ এতে কমিশনের সহসভাপতি র‌্যান্ডি হুলটগ্রেন ও জেমস পি ম্যাকগভার্ন সূচনা বক্তব্য দেবেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা