kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৩ মে ২০১৯। ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৭ রমজান ১৪৪০

রামপাল ইস্যুতে বিএনপির সমর্থনে মানুষ বিভ্রান্ত হবে না

আরিফুজ্জামান তুহিন   

২৬ আগস্ট, ২০১৬ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



রামপাল ইস্যুতে বিএনপির সমর্থনে মানুষ বিভ্রান্ত হবে না

 জনগণের আন্দোলনে বড় দলগুলোর সমর্থনের বিষয়ে জাতীয় কমিটি খুবই সজাগ। যারা ফুলবাড়ীতে গুলি করে মানুষ হত্যা করে; যারা সাগরের তেল-গ্যাস কনোকো-ফিলিপসের কাছে ইজারা দেয় আর এর বিরোধিতাকারীদের মিছিলে লাঠিপেটা করে তাদের সমর্থনে বিভ্রান্ত হওয়ার সুযোগ নেই। জনগণ এতে বিভ্রান্ত হবে না।

গত বুধবার খালেদা জিয়া সংবাদ সম্মেলন করে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পকে রাষ্ট্রবিরোধী আখ্যা দেন। তিনি এটি বন্ধের দাবি জানান। এই পরিপ্রেক্ষিতে এবং ফুলবাড়ী দিবস উপলক্ষে তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্যসচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে ফোনে কালের কণ্ঠ’র কাছে এ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।

সেদিন খালেদা জিয়া বলেন, বাগেরহাটের রামপালে কয়লাচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক, হঠকারী। সুন্দরবনকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেবে এ কেন্দ্র। তাই এ-সংক্রান্ত প্রকল্প বাতিল করতে হবে।

রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রবিরোধী আন্দোলনে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সমর্থন প্রসঙ্গে আনু মুহাম্মদ বলেন, এর আগে দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার মানুষ ও ভূমিবিনাশের প্রকল্প নিয়েছিল এশিয়া এনার্জির স্বার্থে। আন্দোলনের একপর্যায়ে (২০০৬ সালের ২৬ আগস্ট) গুলি চালিয়ে তিনজনকে হত্যা ও দুই শতাধিক লোককে আহত করেছিল তারা। আহতদের অনেকে পঙ্গু হয়ে গেছে। তিনি বলেন, সে সময় বিরোধী দল আওয়ামী লীগ ফুলবাড়ী আন্দোলনে সমর্থন দিয়েছিল। এখন বিরোধী দল বিএনপি রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রবিরোধী আন্দোলনে সমর্থন জানাচ্ছে।

আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘দেশে গণ-আন্দোলনে বিভিন্ন সময় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মতো বড় দলগুলোর সমর্থনের অভিজ্ঞতা আমাদের আছে। এই সমর্থন দুইভাবে হয়। এক, যখন বড় দলটি বিরোধী দলে থাকে; আর দুই, যখন কোনো আন্দোলনে আমরা জাতীয় জাগরণ করতে পারি।’

রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রবিরোধী আন্দোলনে বিএনপির সমর্থনের কারণ হিসেবে আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘বিএনপি সুন্দরবন রক্ষার আন্দোলনকে ইস্যু হিসেবে নিয়েছে তার রাজনীতির জন্যই। যদি বিএনপি তার দলীয় ব্যানার থেকে সুন্দরবন রক্ষায় কর্মসূচি দেয়—সেটা তারা দিতেই পারে। সেটা তাদের রাজনীতি। জনগণ এতে বিভ্রান্ত হবে না বলেই আমি মনে করি।’

আনু মুহাম্মদ বলেন, সুন্দরবন রক্ষার আন্দোলন এতটাই যৌক্তিক পর্যায়ে পৌঁছেছে যে এটি জাতীয় জাগরণ তৈরিতে সক্ষম হয়েছে। এ কারণে বিএনপি এত দিন নিশ্চুপ থাকলেও এখন সমর্থন দেওয়ার কথা বলছে। এমনকি মহাজোটের কয়েকটি শরিক দলও রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।

রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিরুদ্ধে জাতীয় কমিটি ২০১১ সাল থেকে ধারাবাহিক আন্দোলন করছে জানিয়ে আনু মুহাম্মদ বলেন, বিএনপিকে রাজনীতি করার সুযোগ সরকারই করে দিচ্ছে। কেন্দ্র বন্ধ করার গণদাবি মেনে নিলে এটি নিয়ে রাজনীতি করার সুযোগ থাকবে না।

আজ ফুলবাড়ী দিবস দশ বছর পরও ফুলবাড়ী হত্যাকাণ্ডের অন্যতম উসকানিদাতা এশিয়া এনার্জিকে বহিষ্কার করেনি সরকার। উল্টো তারা বাংলাদেশের সম্পদ ব্রিটেনের শেয়ার মার্কেটে দেখিয়ে শত শত কোটি টাকার ব্যবসা করে নিচ্ছে। তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সঙ্গে সম্পাদিত ফুলবাড়ী চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন এখনো হয়নি।

আজ ফুলবাড়ী দিবস। ২০০৬ সালের ২৬ আগস্ট দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে আন্দোলনকারীদের ওপর সরকারি বাহিনীর গুলিতে আমিন, তরিকুল ও সালেকিন নামের তিনজন নিহত হন। আহত হয় দুই শতাধিক ব্যক্তি।

ফুলবাড়ী ও রাজধানীসহ সারা দেশে দিনটি পালন করবে বিভিন্ন বামপন্থী ও প্রগতিশীল সংগঠন। তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি কেন্দ্রীয় কর্মসূচি পালন করবে ফুলবাড়ীতে। এর মধ্যে রয়েছে সকাল ৭টায় ফুলবাড়ীর নিমতলী মোড়ে জমায়েত, সকাল ৯টায় শোভাযাত্রা করে ফুলবাড়ী শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা নিবেদন এবং বিকেল ৫টায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও তথ্যচিত্র প্রদর্শন।

এ ছাড়া রাজধানী ঢাকায় সকাল ১০টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধাঞ্জলি প্রদানসহ সারা দেশে শহীদ মিনারে একই কর্মসূচি পালিত হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে ফুলবাড়ীতে এক জনসভায় অঙ্গীকার করেছিলেন, তাঁর দল ক্ষমতায় গেলে ফুলবাড়ী চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন করা হবে।

২০০৬ সালের ৩০ আগস্ট ফুলবাড়ী চুক্তি সম্পন্ন হয়। এর দফাগুলোর মধ্যে রয়েছে—এশিয়া এনার্জিকে দেশ থেকে বহিষ্কার করতে হবে এবং উন্মুক্ত খনন পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলন আইন করে নিষিদ্ধ করতে হবে। এই দুই দফার একটিও বাস্তবায়ন করা হয়নি।

 

মন্তব্য