kalerkantho

রবিবার। ১৬ জুন ২০১৯। ২ আষাঢ় ১৪২৬। ১২ শাওয়াল ১৪৪০

৬৬ আরোহী নিয়ে মিসরীয় বিমান বিধ্বস্ত

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২০ মে, ২০১৬ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



৬৬ আরোহী নিয়ে মিসরীয় বিমান বিধ্বস্ত

মিসরের একটি বিমান ৬৬ জন আরোহী নিয়ে ভূমধ্যসাগরে বিধ্বস্ত হয়েছে। ফ্রান্সের প্যারিস থেকে মিসরের কায়রো যাওয়ার পথে স্থানীয় সময় বুধবার রাতে ইজিপ্ট এয়ারের বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। ব্যাপক তল্লাশি অভিযানের পর বিমানটির ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে গ্রিসের কারপাথস দ্বীপের দক্ষিণে। বিমানটির সব যাত্রীর সলিলসমাধির আশঙ্কা করা হচ্ছে। দুর্ঘটনার কারণ জানা যায়নি। তবে সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ।

‘এয়ারবাস এ৩২০’ বিমানটিতে ৫৬ জন যাত্রী, সাতজন ক্রু ও তিনজন নিরাপত্তাকর্মী ছিল। যাত্রীদের মধ্যে ৩০ জন মিসরীয়, ১৫ জন ফরাসি, একজন ব্রিটিশ, দুজন ইরাকি ছাড়াও কানাডা, কুয়েত, বেলজিয়াম, সৌদি আরব, আলজেরিয়া, সুদান, চাদ ও পর্তুগালের নাগরিক ছিল।

গতকাল স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় গ্রিসের কারপাথস দ্বীপের কাছে বিমানটির ধ্বংসাবশেষ পাওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন ইজিপ্ট এয়ারের কর্মকর্তারা। ধ্বংসাবশেষ পাওয়ার পর মিসরের ভাইস প্রেসিডেন্ট আহমেদ আবদেল সিএনএনকে জানান, তাঁদের তল্লাশি অভিযান এখন উদ্ধার অভিযানে পরিণত করা হবে।

মিসরীয় বিমান সংস্থা ইজিপ্ট এয়ার জানায়, প্যারিসের ‘শার্ল দ্য গল’ বিমানবন্দর থেকে বুধবার স্থানীয় সময় রাত ১১টা ৯ মিনিটে কায়রোর উদ্দেশে যাত্রা করে বিমানটি। এরপর কায়রোর স্থানীয় সময় রাত ২টা ৪৫ মিনিটে রাডারের সঙ্গে বিমানটির যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ওই সময় সেটি গ্রিক দ্বীপপুঞ্জ ও মিসরীয় উপকূলের মধ্যবর্তী পূর্ব ভূমধ্যসাগর এলাকায় ৩৭ হাজার ফুট উচ্চতায় অবস্থান করছিল। বিমানটি কায়রোর স্থানীয় সময় রাত সোয়া ৩টার দিকে অবতরণের কথা ছিল।

গ্রিসের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পানোস কামমেনোস জানান, রাডার থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার আগে বিমানটি একবার ৯০ ডিগ্রি বাঁয়ে এবং আরেকবার ৩৬০ ডিগ্রি ডানে বাঁক খায়। আর ওই সময় সেটি ২২ হাজার ফুট নিচে নেমে গিয়েছিল।

দুর্ঘটনার পর ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ নিশ্চিত করেছেন, বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে। পরে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে ফ্রান্সের দুর্ঘটনা বিভাগ। গতকাল টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে ওলাঁদ বলেন, এটি দুর্ঘটনা নাকি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড তা তদন্তের আগে বলা যাবে না।

মিসরের বিমানপরিবহন মন্ত্রী শেরিফ ফাথি বলেছেন, ‘দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে যান্ত্রিক ত্রুটি কিংবা সন্ত্রাসী হামলা, কোনো আশঙ্কাই আমি উড়িয়ে দিতে চাই না। তবে এ বিষয়ে এখনই কোনো মন্তব্য করা যাবে না।’ এখন পর্যন্ত কোনো ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পাওয়া যায়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে বিমানের ধ্বংসাবশেষ খুঁজতে গ্রিসের কারপাথস দ্বীপের দক্ষিণাঞ্চলে ব্যাপক তল্লাশি শুরু হয়। সেখানে কাজ করছে গ্রিস ও মিসরের সেনারা। ফ্রান্স তল্লাশি কার্যক্রমে সহায়তার জন্য নৌকা ও বিমান পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছে। ইজিপ্ট এয়ারের কর্মকর্তা বলছেন, যান্ত্রিক ত্রুটির চেয়ে সন্ত্রাসীদের দ্বারা বিমানটিকে গুলি করে নামানোর আশঙ্কাই প্রবল।

প্রসঙ্গত, মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস) মিসরীয় সেনাদের ওপর প্রায়ই হামলা চালায়। এ ছাড়া গত অক্টোবরে রাশিয়ার একটি যাত্রীবাহী বিমানও ভূপাতিত করার দাবি জানায় তারা। ওই বিমানে ২২৪ জন আরোহী ছিল। সূত্র : বিবিসি, এএফপি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা