kalerkantho

মঙ্গলবার। ১৮ জুন ২০১৯। ৪ আষাঢ় ১৪২৬। ১৪ শাওয়াল ১৪৪০

সাগরে ঘূর্ণিঝড় রোয়ানু, ৪ নম্বর হুঁশিয়ারি

মংলা বন্দরে পণ্য ওঠানো-নামানো বন্ধ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২০ মে, ২০১৬ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



সাগরে ঘূর্ণিঝড় রোয়ানু, ৪ নম্বর হুঁশিয়ারি

ভারতের অন্ধ্র প্রদেশের কাছে বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া গভীর নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়ে উত্তর ও উত্তর-পূর্ব দিকে অবস্থান করছে। ঘূর্ণিঝড়টির নাম দেওয়া হয়েছে ‘রোয়ানু’। এর প্রভাবে সাগর উত্তাল হওয়ায় সমুদ্রবন্দরগুলোকে ৪ নম্বর হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। দিক পরিবর্তন না করলে রোয়ানু আগামী ২১ মে উপকূলে আঘাত হানতে পারে বলে আশঙ্কা ব্যক্ত করা হয়েছে। সাগর উত্তাল হওয়ায় ইতিমধ্যে মংলা বন্দরে পণ্য ওঠানো-নামানো বন্ধ হয়ে গেছে। এর প্রভাবে দেশের উপকূলীয় এলাকায় গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। এ ছাড়া ভারি বর্ষণ হতে পারে এবং বর্ষণে সিলেট ও চট্টগ্রামে ভূমিধসের আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের খবর—

ঢাকা : আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তত্সংলগ্ন দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় নিম্নচাপটি সৃষ্টি হওয়ার পর গত বুধবার দুপুরে তা ঘূর্ণিঝড়ে রূপান্তরিত হয়, যার নাম দেওয়া হয়েছে রোয়ানু। গতকাল বিকেলে এটি আরো উত্তর দিকে অগ্রসর ও ঘনীভূত হয়ে একই এলাকায় অবস্থান করে। এটি আরো ঘনীভূত হয়ে উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হবে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, এভাবে অব্যাহত থাকলে ঘূর্ণিঝড় রোয়ানু আগামী ২১ মে শনিবার উপকূলে আঘাত আনতে পারে। তবে তাঁরা এখনই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য দেবেন না। কারণ এটি দিক পরিবর্তন করতে পারে।

এদিকে গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে সাগর উত্তাল রয়েছে। উপকূলীয় এলাকা চট্টগ্রাম, মংলা, পায়রা বন্দর ও কক্সবাজারকে ৪ নম্বর সতর্কসংকেত দেওয়া হয়েছে। সতর্কবার্তা দেওয়া স্থানগুলোতে প্রশাসন থেকে মাইকিং করে জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

আবহাওয়া কর্মকর্তা আবদুল মান্নান কালের কণ্ঠকে বলেন, নিম্নচাপটি এখন চট্টগ্রাম বন্দর থেকে এক হাজার ৩৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিম, কক্সবাজার থেকে এক হাজার ৩৩৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মংলা থেকে এক হাজার ১৮৫ কিলোমিটার এবং পায়রা বন্দর থেকে এক হাজার ২১৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছে। তিনি বলেন, নিম্নচাপের প্রভাবে বৃষ্টি, ঝোড়ো বৃষ্টিসহ দমকা হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

এদিকে গভীর নিম্নচাপের কারণে বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব ধরনের মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে উপকূলের কাছাকাছি নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত জেলেদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে।

নামকরণ : আবহাওয়াবিদরা বলছেন, এবারের ঘূর্ণিঝড়ের নাম দেওয়া হয়েছে মালদ্বীপের প্রস্তাবের আলোকে। সত্তরের দশকের মাঝামাঝি সময়ে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, মালদ্বীপ ও ওমান এই আটটি দেশ মিলে ঘূর্ণিঝড়ের আটটি করে নাম দেয়। সে হিসেবে আটটি দেশের নাম মিলে হয়েছে ৬৪টি নাম। এ অঞ্চলে যখনই কোনো ঘূর্ণিঝড় হয়, তখন সেখান থেকে একটি একটি নাম দেওয়া হয়। এবার রোয়ানু নাম এসেছে মালদ্বীপের দেওয়া প্রস্তাব থেকে। তবে এই আটটি দেশের সঙ্গে এবার নতুন একটি দেশ যোগ হয়েছে ইয়ামেন।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, খুলনা ও সিলেট বিভাগসহ অনেক জায়গায় অস্থায়ী দমকা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, সিলেট বিভাগে কোথাও কোথাও ভারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে।

বাগেরহাট : রোয়ানুর প্রভাবে গতকাল সকাল থেকে বাগেরহাটে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। মাঝেমধ্যে দমকা হাওয়া বয়ে যাচ্ছে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে মংলা বন্দরে সব ধরনের জাহাজে মালামাল উঠানামা বন্ধ রাখা হয়েছে। বাগেরহাট জেলা প্রশাসন এবং মংলা বন্দরের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। গতকাল জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জানো হয়, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১৬টি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে এবং জেলায় ২৩৫টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জেলার সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কর্মস্থল ত্যাগ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম : গতকাল আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, রোয়ানুর প্রভাবে ভারি বর্ষণ হতে পারে এবং বর্ষণে সিলেট ও চট্টগ্রামে পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধস হতে পারে। অধিদপ্তর জানায়, রোয়ানুর প্রভাবে বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় দেশে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়েছে সিলেটে ১১৯ মিলিমিটার। আর চট্টগ্রামে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ২৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রামের পতেঙ্গা আবহাওয়া অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা।

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) : রোয়ানুর প্রভাবে কুয়াকাটাসংলগ্ন বঙ্গোপসাগর উত্তাল হয়ে উঠেছে। উপকূলীয় এলাকাজুড়ে থেমে থেমে গুঁড়ি গুঁড়ি ও মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত হচ্ছে। নাহর উত্তাল থাকায় মৎস্যবন্দর আলীপুর-মহিপুরের শিববাড়িয়া নদে তিন শতাধিক মাছ ধরার ট্রলার নিরাপদ আশ্রয়ে রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন কুয়াকাটা আলীপুর মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. আনসার মোল্লা। তিনি জানান, বৈরী আবহাওয়া এবং বৃষ্টিপাত হলে সাগরে ইলিশ মাছ ধরা পরে। সে ক্ষেত্রে সাগর একটু শান্ত হলেই ইলিশ শিকারের জন্য সমুদ্রে যাবে জেলেরা। আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ঘূর্ণিঝড় রোয়ানু পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে অবস্থান করছে।

বরগুনা : ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর প্রভাবে বরগুনায় গতকাল দুপুর থেকে ভারি বৃষ্টি শুরু হয়। থেমে থেমে বৃষ্টি অব্যাহত থাকে। ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় গতকাল সন্ধ্যায় বরগুনা জেলা পরিষদ জরুরি সভা করেছে। সভায় মাছ ধরা ট্রলারসহ বরগুনা জেলার বিভিন্ন রুটে চলাচলরত যাত্রীবাহী নৌযান সতর্কতার সঙ্গে পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে অনুরোধ করা হয়।

জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী জানিয়েছেন, এখনো যেসব ট্রলার সাগরে রয়েছে তাদের নিরাপদ আশ্রয়ে আনতে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা