kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৩ মে ২০১৯। ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৭ রমজান ১৪৪০

হালদা নদী

ডিম ছেড়েছে মা মাছ

জাহেদুল আলম, রাউজান (চট্টগ্রাম)   

২০ মে, ২০১৬ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ডিম ছেড়েছে মা মাছ

মা মাছ ডিম ছাড়ার পর গতকাল বৃষ্টির মধ্যে হালদা নদীতে ডিম সংগ্রহে ব্যস্ত হয়ে পড়ে মৎস্যজীবীরা। ছবি : কালের কণ্ঠ

দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র চট্টগ্রামের হালদা নদীতে ডিম ছেড়েছে মা মাছ। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৭টার দিকে নমুনা আকারে ডিম ছাড়ার পর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঝড়-বৃষ্টির সময় জোয়ারের উজানে নদীর রুই, কাতলা, মৃগেল, কালবাউশ প্রজাতির মা মাছ ডিম ছাড়ে। নদীর রাউজান ও হাটহাজারী অংশের দুই পারের প্রায় ১২ কিলোমিটার জুড়ে প্রায় ৪০০ মৎস্যজীবী এই ডিম সংগ্রহ করে। এর আগে গত এপ্রিলে হালদার মা মাছ দুই দফা ডিম ছেড়েছিল।

ডিম সংগ্রহকারীরা বলছেন, গতকাল মা মাছ যে পরিমাণ ডিম ছেড়েছে তা আশানুরূপ নয়। তবে এপ্রিলে দেওয়া নমুনা ডিমের চেয়ে এবার সংগ্রহের পরিমাণ অনেক বেশি। গতকাল শেষ বিকেলে এই প্রতিবেদন লেখার সময়ও আরো ডিম পাওয়ার আশায় শত শত মৎস্যজীবী নৌকা নিয়ে নদীতে অবস্থান করছিল।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা, নদীর দুই পারের বাসিন্দা ও ডিম সংগ্রহকারীদের কাছ থেকে জানা যায়, গতকাল সকালে হালদাসহ পুরো এলাকায় ঝুম বৃষ্টি হচ্ছিল। সকাল ৭টার দিকে নদীর আমতুয়াতল ও নাপিতের ঘাট এলাকায় মা মাছ নমুনা আকারে ডিম ছাড়ে। এরপর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নদীর রাউজান ও হাটহাজারী অংশের বিভিন্ন পয়েন্টে ডিম ছাড়তে শুরু করে। সরঞ্জামসহ প্রস্তুতি নিয়ে অপেক্ষায় ছিল মৎস্যজীবীরাও। তৎক্ষণাৎ তারা ডিম সংগ্রহে নেমে পড়ে। নদীর দুই পারের দুই উপজেলার আজিমের ঘাট, গড়দুয়ারা, কাগতিয়া, খলিফাঘোনা, অংকুরীঘোনা, মাদার্শা, মগদাই, ডোমখালী, সওদাগরপাড়া, মইশকরম, সিপাহীর ঘাট, মদুনাঘাট, নাপিতের ঘাট, মাছুয়াঘোনা, উরকিরচর, পশ্চিম গুজরা, বিনাজুরীসহ বিভিন্ন অংশ থেকে প্রায় ৪০০ মৎস্যজীবী নৌকা নিয়ে ডিম সংগ্রহ করে। তারা একেকজন চার থেকে ১৫ কেজি পর্যন্ত ডিম পেয়েছে বলে জানিয়েছে।

রাউজান পৌরসভার অংকুরীঘোনা এলাকার মৎস্যজীবী বিতান বড়ুয়া বলেন, ‘১৫ কেজি ডিম সংগ্রহ করেছি। গত মাসে দুবার যে পরিমাণ ডিম দিয়েছিল, তার চেয়ে এবার বেশি ডিম পেয়েছি। আরো ডিম সংগ্রহের আশায় নদীতে নৌকা নিয়ে অবস্থান করছি।’ আজিমের ঘাট এলাকার মৎস্যজীবী রাখাল দাশ বলেন, ‘আমি চার কেজি ডিম সংগ্রহ করেছি।’

উপজেলা মৎস্য অফিসের কর্মকর্তা দীপন কান্তি দাশ জানান, মৎস্যজীবীদের কেউ দুই, কেউ তিন বা চার বালতি পর্যন্ত ডিম সংগ্রহ করেছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও হালদা রক্ষা জাতীয় কমিটির সভাপতি মঞ্জুরুল কিবরিয়া বলেন, হালদায় মা মাছ ডিম ছাড়লেও অত বেশি ডিম পায়নি সংগ্রহকারীরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে শত শত মৎস্যজীবী গতকাল বিকেলেও নৌকাসহ ডিম ধরার বিভিন্ন সরঞ্জাম নিয়ে অবস্থান করছে। তাদের আশা, বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় আরেক দফা উজানের সময় আবারও ডিম দিতে পারে মা মাছ।

প্রসঙ্গত, চিরাচরিত নিয়ম ধরেই প্রতি মৌসুমে বাংলা চৈত্র মাসের শেষের দিক থেকে জ্যৈষ্ঠ মাসের মধ্যে যেকোনো সময় প্রতিকূল পরিবেশে অর্থাৎ বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের সময় হালদা নদীতে মা মাছ ডিম ছাড়ে।

মন্তব্য