kalerkantho

শুক্রবার । ২৪ মে ২০১৯। ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৮ রমজান ১৪৪০

ময়নাতদন্ত রিপোর্ট যাবে আদালতের মাধ্যমে

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুমিল্লা   

২০ মে, ২০১৬ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ময়নাতদন্ত রিপোর্ট যাবে আদালতের মাধ্যমে

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্রী সোহাগী জাহান তনুর জামা-কাপড়ে পাওয়া নমুনা থেকে ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন আদালতের মাধ্যমে নেওয়ার জন্য ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসককে চিঠি দিয়ে জানিয়ে দিয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক গাজী মো. ইব্রাহিম। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে এ চিঠি পাওয়া গেছে বলে  জানিয়েছেন ময়নাতদন্ত দলের প্রধান ডা. কামদা প্রসাদ সাহা। তবে তিনি প্রশ্ন করেন, ‘সিআইডির ডিএনএ রিপোর্ট দিতে আপত্তি কোথায়? ডিএনএ রিপোর্টে যদি আলামত মেলে তাহলে সে রিপোর্ট আমাদের দিলে তনু ধর্ষিত হয়েছে কি না এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে আমাদের সুবিধা হবে।’

কামদা প্রসাদ সাহা বলেন, ‘ডিএনএ রিপোর্ট ময়নাতদন্তের একটি অংশ। তনুর ব্যবহৃত কাপড়-চোপড় ময়নাতদন্তের অংশ। দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের সময় তনুর দাঁত, নখ, চুল, সোয়াব ইত্যাদি আমরা সরবরাহ করেছি। কিন্তু কোনো রিপোর্টই আমাদের দেওয়া হয়নি। ডিএনএ রিপোর্ট আদালতের মাধ্যমে নিতে হবে এমন বক্তব্য সংবলিত চিঠি আমরা বৃহস্পতিবার শেষ সময়ে পেয়েছি। এখন পরবর্তী কার্যদিবসে এ বিষয়ে তিন সদস্যের কমিটি সিদ্ধান্ত নেবে।’ এ কমিটিতে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজের গাইনি বিভাগের প্রধান ডা. করুণা রানী কর্মকার ও ফরেনসিক বিভাগের প্রভাষক ডা. ওমর ফারুক রয়েছেন।

দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত রিপোর্ট দিতে দেরি হচ্ছে কেন—এমন প্রশ্নের জবাবে কামদা প্রসাদ সাহা বলেন, ‘আমরা কি ঘুষ খেয়েছি? না কারো কথায় রিপোর্ট দিচ্ছি না? আমরা ডিএনএ রিপোর্ট চেয়েছি, সেটি মিডিয়াকে দেওয়া হচ্ছে, সবাইকে জানানো হচ্ছে, আমাদের দিতে সমস্যা কোথায়?’

এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য তনু হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির ইন্সপেক্টর গাজী মো. ইব্রাহিমের সঙ্গে দেখা করলে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো কথা বলতে রাজি হননি। তিনি বলেন, ‘আমি যে কথা বলি না এটা পত্রিকায় লিখে দেন, আমার উপকার হবে। আমার পদোন্নতি হবে! তনুর মামলা পাওয়ার পর থেকে আমি পত্রিকাও পড়ি না।’

সিআইডির মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ময়নাতদন্ত দল ডিএনএ প্রতিবেদন সরবরাহ করার জন্য যে চিঠি দিয়েছে সে চিঠির বিষয়ে আদালত থেকে কোনো নির্দেশনা না আসায় ডিএনএ প্রতিবেদন সরবরাহ করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে ময়নাতদন্ত দলকে ফিরতি চিঠি দিয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গাজী মোহাম্মদ ইব্রাহিম। এ বিষয়ে তিনি ডা. কামদা প্রসাদ সাহার সঙ্গে কথা বলেন। পরামর্শও দেন। অন্যদিকে তনুর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গাজী মোহাম্মদ ইব্রাহিম একই বিষয়ে আরেকটি চিঠি দিয়ে আদালতকে অবহিত করেন ময়নাতদন্ত কর্মকর্তার চিঠির বিষয়ে।

কুমিল্লার অতিরিক্ত সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের জিআরও বাদল বিশ্বাস সিআইডির চিঠি পাওয়ার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘চিঠিতে কী আছে বলতে পারব না। পরবর্তী কার্যদিবসে বিজ্ঞ বিচারক দেখলে তা বলা যাবে।’

প্রথম ময়নাতদন্তকারীকে আইনের আওতায় আনার দাবি পরিবারের : কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ছাত্রী সোহাগী জাহান তনুর মরদেহের প্রথম ময়নাতদন্তকারী কর্মকর্তাকে আইনের আওতায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করার দাবি জানিয়ে তনুর বাবা এয়ার হোসেন বলেছেন, ডা. শারমিন সুলতানাকে আইনের আওতায় আনা উচিত। তিনি বলেন, ‘কী কারণে তিনি আমার মেয়ে ধর্ষিত হয়নি উল্লেখ করে প্রতিবেদন দিলেন তা খতিয়ে দেখা উচিত। সেই সঙ্গে দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত কর্মকর্তারা কেন প্রতিবেদন দিতে দেরি করছেন, তা খতিয়ে দেখতে তাঁদেরও আইনের আওতায় আনা উচিত।’ বুধবার রাতে তিনি এ প্রতিবেদককে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় এ কথা বলেন।

এয়ার হোসেন ও তাঁর স্ত্রী আনোয়ারা বেগম বলেন, ‘তনুর মরদেহ ২১ মার্চ সকাল ১১টায় কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে নেওয়া হয়। ফেরত দেওয়া হয় বিকেল সাড়ে ৪টায়। এত সময় নিয়ে তারা কী করছিল? ময়নাতদন্তের সময় চিকিৎসকের মোবাইলে কাদের ফোন এসেছে, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানাচ্ছি।’

তনু হত্যার ১৫ দিনের মাথায় প্রথম ময়নাতদন্ত কর্মকর্তা কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রভাষক ডা. শারমিন সুলতানা তাঁর প্রতিবেদনে ধর্ষণের কোনো আলামত না পাওয়া ও হত্যার কারণ নির্ণয় করতে না পারার কথা উল্লেখ করে প্রতিবেদন দিয়েছিলেন। কিন্তু সিআইডির ল্যাবে পরীক্ষার পর জানা গেছে, তনুর কাপড়ে তিনজন পুরুষের বীর্য রয়েছে। ওই তিনজন পুরুষের পূর্ণাঙ্গ ডিএনএ প্রোফাইল এখন সিআইডির হাতে। আদালতের নির্দেশে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. কামদা প্রসাদ সাহার নেতৃত্বে তিন সদস্যের দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। আদালতের নির্দেশেই ৩০ মার্চ কবর থেকে তনুর মরদেহ উত্তোলন করে দ্বিতীয় দফা ময়নাতদন্ত করা হয়। দেড় মাস পার হয়ে গেলেও দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়নি।

মন্তব্য