kalerkantho

বুধবার । ২৬ জুন ২০১৯। ১২ আষাঢ় ১৪২৬। ২৩ শাওয়াল ১৪৪০

মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলা

ভাণ্ডারিয়ায় অভিযুক্ত পাঁচ আসামি গ্রেপ্তার

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, পিরোজপুর   

২২ মে, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় ১৯৭১ সালে গণহত্যা ও লুটপাটের ঘটনায় (মানবতাবিরোধী অপরাধ) করা মামলায় অভিযুক্ত পাঁচ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি পুলিশ। গতকাল সোমবার সকালে উপজেলার ধাওয়া ইউনিয়নের হেতালিয়া ও নদমূলা ইউনিয়নের চরখালী গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। পিরোজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জি এম আবুল কালাম আজাদ জানান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে করা মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন আসামিরা।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন হেতালিয়া গ্রামের খবির উদ্দিন হাওলাদারের ছেলে ফজলুল হক হাওলাদার (৭৫), আবুল হাসেম হাওলাদারের ছেলে আব্দুল মান্নান হাওলাদার (৭৪), মৃত আফসার আলী হাওলাদারের ছেলে আজহার আলী হাওলাদার ওরফে আজু মুন্সি (৮৮), মৃত নজর আলী হাওলাদারের ছেলে আশরাফ আলী হাওলাদার (৬৭) ও চরখালী গ্রামের মৃত মহব্বত হাওলাদারের ছেলে মো. মহারাজ হাওলাদার ওরফে হাত কাটা মহারাজ ( ৬৮)।

২০১৫ সালের ১০ অক্টোবর পিরোজপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ভাণ্ডারিয়ার ইকড়ি ইউনিয়নের যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা বিজয় কৃষ্ণ বালা মামলাটি করেন। মামলাটি জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের এখতিয়ার না হওয়ায় বিচারক ঢাকায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করেন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ৯ কার্তিক হেতালিয়া গ্রামের রাজাকার আমীর হোসেন হাওলাদারের নেতৃত্বে রাজাকার বাহিনী ভাণ্ডারিয়ার পশারীবুনিয়া গ্রামের হিন্দু অধ্যুষিত গ্রামে নির্যাতন, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করে। রাজাকাররা সাতজন মুক্তিযোদ্ধাকে আটকের পর গ্রামের বনমালি গাছারুবাড়ি নামক স্থানে পুকুরপারে দাঁড় করিয়ে গুলি করে। তাঁদের মধ্যে ছয়জন শহীদ হন। গুলিবিদ্ধ হলেও বেঁচে যান পশারীবুনিয়ার নিরোদ চন্দ্র বালার ছেলে বিজয় কৃষ্ণ বালা। শহীদরা হলেন মামলার বাদীর বাবা নিরোদ চন্দ্র বালা, ভাই রণজিৎ কুমার, ভগ্নিপতি সুখময়, কাকা গঙ্গা চরণ মিস্ত্রি, কাকাতো ভাই অমূল্য মিস্ত্রি ও সমূল্য মিস্ত্রি।

সেই দিনের হত্যাযজ্ঞের প্রত্যক্ষদর্শী ও মামলার সাক্ষী পশারীবুনিয়া গ্রামের কৃষক চিত্তরঞ্জন গাছারু বলেন, চার রাজাকার মিলে এলাকায় গণহত্যা, লুটপাট ও নারী নির্যাতন চালায়। তারা মানুষকে এক লাইনে দাঁড় করিয়ে গুলি করে হত্যা করে।

প্রসঙ্গত, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্তদলের সমন্ব্বয়কারী মুহাম্মদ আবদুল হান্নান খানের (পিপিএম) নেতৃত্বে ২০১৬ ও ২০১৭ সালে পশারীবুনিয়ার ছয় মুক্তিযোদ্ধা হত্যা মামলাটি চার দফায় তদন্ত করে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়। তদন্তে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গণহত্যার সত্যতা মেলে।

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা