kalerkantho

শনিবার । ২৫ মে ২০১৯। ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৯ রমজান ১৪৪০

পুলিশের অভিযোগ বাক্স

দরখাস্ত ১৫৫ সমাধান ৪০

কে এম সবুজ, ঝালকাঠি   

২ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



দরখাস্ত ১৫৫ সমাধান ৪০

সাধারণ মানুষকে আইনি সেবা দেওয়ার লক্ষ্যে ঝালকাঠির চার উপজেলার জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানে একটি করে তথ্য ও অভিযোগ বাক্স স্থাপন করেছে পুলিশ। গত তিন (অক্টোবর, নভেম্বর ও ডিসেম্বর) মাসে বাক্সগুলোতে ১৫৫টি দরখাস্ত জমা পড়ে। এরই মধ্যে পুলিশ এর ৪০টির সমাধান করে দিয়েছে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্র জানায়, ২০ বছর ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল সদর উপজেলার ইছানীর জলিল মিয়া ও অ্যাডভোকেট নূর হোসেনের মধ্যে। জলিল সাত লাখ টাকায় ১৪ শতাংশ জমি বিক্রি করেন নূর হোসেনের কাছে। জমি কেনার পরে নূর হোসেন জানতে পারেন এই জমির মালিক তিনি নন, ইছানীর মাধ্যমিক বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। জলিলকে বিষয়টি জানিয়ে টাকা ফেরত চান নূর। কিন্তু টাকা দিচ্ছিলেন না জলিল। এ অবস্থায় বিপাকে পড়েন নূর। উপায় না পেয়ে নূর অভিযোগ দেন ঝালকাঠির পুলিশ সুপার বরাবর। পুলিশ সুপার অভিযোগটি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এম এম মাহামুদ হাসানকে দায়িত্ব দেন। মাহামুদ উভয় পক্ষকে ডেকে কয়েক দফায় বৈঠক করেন। অবশেষে তাদের বিরোধ নিষ্পত্তি করে দেন পুলিশ সুপার। জমির মূল্য সাত লাখ টাকা নূরকে ফেরত দেন জলিল।

নূর হোসেন বলেন, ‘পুলিশ কোনো টাকা-পয়সা ছাড়াই আমাদের দুই পক্ষের বিরোধ মীমাংসা করে দিয়েছে। পুলিশ আমাদের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক করেছে। আন্তরিকতার সঙ্গে পুলিশ চেকের মাধ্যমে আমার টাকা ফেরত এনে দিয়েছে।’

পুলিশ আরো জানায়, নলছিটি উপজেলার ডহরা গ্রামে তিন যুবক স্থানীয় স্কুল-কলেজগামী ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করত। এ ঘটনায় গত বছরের ১ অক্টোবর নলছিটির একটি পুলিশ বক্সে অভিযোগ দেন অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি। পুলিশ অভিযোগটি পেয়ে তদন্ত শুরু করে। ডহরা গ্রামে গিয়ে পুলিশ জানতে পারে, স্থানীয় যুবক সোহেল, রাজিব সরদার ও রাব্বি দেওয়ান মেয়েদের উত্ত্যক্ত করে। তারা স্কুল-কলেজগামী ছাত্রীদের কটূক্তি করে। পুলিশ তাদের আটক করে থানায় নিয়ে আসে। পরে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এসে তারা এ ধরনের কাজ না করার অঙ্গীকার করে। মুচলেকা দিয়ে তারা মুক্তি পায়। পরে পুলিশ তাদের নজরদারিতে রেখেছে। ওই তিন বখাটে ভালো হয়ে গেছে বলে জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এম এম মাহামুদ হাসান।

পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, প্রভাবশালীদের ভয়ে অনেকে থানায় অভিযোগ দিতে ভয় পেত। পুলিশের কাছে এসে ঘটনা বলতেও সংকোচ রয়েছে গ্রামের মানুষের। অনেকে নিরাপত্তার অভাবে অভিযোগ দিতে পারে না। এমন অসহায় ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের জন্য এই বাক্স।

পুলিশ সূত্র জানায়, বরিশাল রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক মো. শফিকুল ইসলামের নির্দেশে ঝালকাঠির চার উপজেলার দুটি পৌরসভা ও ৩২টি ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে একটি করে অভিযোগ বাক্স স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর আগে ঝালকাঠির পুলিশ সুপার মো. জোবায়েদুর রহমান গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে চারটি বাক্স স্থাপন করেন। অভিযোগ বাক্সগুলো প্রতিদিন সকাল ৯টায় খোলা হচ্ছে। এ জন্য একজন উপপরিদর্শক ও সহকারী উপপরিদর্শককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অভিযোগগুলো পুলিশ সুপার দেখছেন। বাক্সের ভেতরে পাওয়া অভিযোগগুলোকে একটি রেজিস্টার খাতায় ওঠানো হয়। প্রতিটি অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযোগকারীর সর্বাত্মক নিরাপত্তা দিয়ে তদন্তকাজ চলছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছে পুলিশ।

ঝালকাঠির পুলিশ সুপার মো. জোবায়েদুর রহমান বলেন, ‘জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নতি, জনসাধারণের সেবা সহজতর করতে জেলার জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে অভিযোগ বাক্স স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিদিন বাক্স খুলে অভিযোগগুলো সংগ্রহ করার জন্য প্রতিটি ওয়ার্ডে দুজন করে কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ জন্য একটি করে মোবাইল নম্বর দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ পেয়ে অনেক মাদকসেবী ও মাদক বিক্রেতাকে আটক করা হয়েছে। অভিযোগ বাক্স স্থাপন করার পর থেকে সাধারণ মানুষের সঙ্গে পুলিশের যোগাযোগ স্থাপনের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এতে অপরাধ কমতে শুরু

করেছে।’

ঝালকাঠির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এম এম মাহামুদ হাসান বলেন, ‘পুলিশ সুপারের নির্দেশে এর আগে শহরের বিভিন্ন স্থানে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করে সফলতা পেয়েছি। শহরের মধ্যে এখন অপরাধ অনেকটা কমে এসেছে। কোথাও কোনো ঘটনা ঘটলেই আমরা সিসি ক্যামেরায় অফিসে বসেই দেখতে পাচ্ছি। পরে অভিযোগ বাক্স স্থাপন করেও সফলতা পেয়েছি। আমরা জেলার গুরুত্বপূর্ণ বাজারগুলোতেও সিসি ক্যামেরা এবং অভিযোগ বাক্স স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এতে অপরাধের মাত্রা কমে আসবে বলে আশা করছি।’

মন্তব্য