kalerkantho

সোমবার। ১৭ জুন ২০১৯। ৩ আষাঢ় ১৪২৬। ১৩ শাওয়াল ১৪৪০

কার বাক্সে কার ভোট

১৩ জানুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দ্বিতীয় হচ্ছেন কে? ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো এতটাই এগিয়ে ছিলেন যে ফিফার ‘দ্য বেস্ট’ হওয়াটা নিশ্চিত ছিল এক প্রকার। তাই সবার আগ্রহ দ্বিতীয় হওয়া ফুটবলারটিকে ঘিরে! সেই লড়াইয়ে আগ্রহ থাকলেও ফলটা হয়েছে একপেশে। আন্তোয়ান গ্রিয়েজমান পাত্তাই পাননি লিওনেস মেসির কাছে। মেসির ভোট ২৬.৪২ শতাংশ, গ্রিয়েজমানের ৭.৫৩ শতাংশ। ৩৫.৫৪ শতাংশ ভোটে চতুর্থবারের মতো ফিফা বর্ষসেরার পুরস্কারটা উঠেছে সিআর সেভেনের হাতে। রোনালদো কোচদের ভোট পেয়েছেন ৮.৫ শতাংশ, অধিনায়কদের ৯.৬৬ শতাংশ, সাংবাদিকদের ১০.৫ শতাংশ আর সমর্থকদের ভোট ৫.৮৮ শতাংশ। সেখানে মেসির কোচদের ভোট ৭.০৮ শতাংশ, অধিনায়কদের ৭.৫২ শতাংশ, গণমাধ্যমের ৫.৫ শতাংশ আর সমর্থকদের ভোট ৬.৩২ শতাংশ। তৃতীয় হওয়া গ্রিয়েজমান পেয়েছেন কোচদের ২.২৭ শতাংশ, অধিনায়কদের ১.৩৫ শতাংশ, সাংবাদিকদের ২.৮ শতাংশ আর সমর্থকদের ভোট ১.১১ শতাংশ।

একনম্বর ভোটের জন্য ৫ পয়েন্ট, দুই নম্বরের জন্য তিন আর তৃতীয় ভোটের পয়েন্ট ছিল ১। ফিফার সদস্য দেশগুলোর কোচ, অধিনায়কদের পাশাপাশি গণমাধ্যকর্মী আর পাঠকরা বাক্স ভরিয়েছেন রোনালদো, মেসিদের। কিন্তু এই দুজনের ভোট পড়েছে কাদের বাক্সে? সেখানে সেই পুরনো রাজনীতি। মুখে যতই একে অন্যের প্রতি শ্রদ্ধা থাক ভোটের সময় ঠিকই দুজন এড়িয়ে গেছেন একে অন্যকে। রোনালদো যেমন ভোট দেননি মেসিকে তেমনি আর্জেন্টাইন অধিনায়কের ভোটও পাননি পর্তুগিজ যুবরাজ। মেসি ভোট দিয়েছেন তিন বার্সা সতীর্থ লুই সুয়ারেস, নেইমার ও আন্দ্রেস ইনিয়েস্তাকে। প্রতিদ্বন্দ্বী রোনালদো তো বটেই আর্জেন্টিনার কোনো সতীর্থকেও ভোট দেননি তিনি। একই ব্যাপার রোনালদোর বেলায়ও। তিনিও ভোট দেননি ইউরোজয়ী কোনো সতীর্থকে। রোনালদোর তিনটি ভোটই পেয়েছেন রিয়াল সতীর্থ গ্যারেথ বেল, লুকা মডরিচ ও সের্হিয়ো রামোস।

মেসি, রোনালদোর পথে পুরোপুরি হাঁটেননি আর্জেন্টাইন কোচ এদোয়ার্দো বাউসা ও পর্তুগিজ কোচ ফের্নান্দো সান্তোস। বাউসা সেরা তিনে রোনালদোকে না রেখে একনম্বর ভোটটি দিয়েছেন মেসিকে। নিজের দলের সের্হিয়ো আগুয়েরোকে দুই ও তিনে রেখেছেন আন্তোয়ান গ্রিয়েজমানকে। একইভাবে সান্তোসের একনম্বর ভোটটা পেয়েছেন রোনালদো। তবে ইউরোজয়ী দলের কাউকে সেরা তিনে রাখেননি পর্তুগিজ কোচ। দুইয়ে গ্যারেথ বেল আর তিনে তিনি রেখেছেন আন্তোয়ান গ্রিয়েজমানকে।

ব্রাজিল অধিনায়ক দানি আলভেস কিছুদিন আগেও খেলেছেন বার্সায়। তাঁর ভোটে ফুটে উঠেছে বার্সাপ্রীতি। একে মেসি, দুইয়ে নেইমার আর তিনে রেখেছেন সুয়ারেসকে। ব্রাজিলিয়ান কোচ তিতে অবশ্য রোনালদোকেই দিয়েছেন একনম্বর ভোটটা। দুইয়ে নেইমার আর তিন নম্বর ভোটটি গ্রিয়েজমানের জন্য। ইংলিশ অধিনায়ক ওয়েইন রুনির পছন্দ একে রোনালদো, দুইয়ে সুয়ারেস আর তিনে লিস্টার তারকা জেমি ভার্ডি। তবে কোচ সাউথগেট নিজ দলের রাখেননি কাউকে। রোনালদো, গ্রিয়েজমানের পর তিন নম্বর ভোটটা এই ইংলিশ কোচ দিয়েছেন চেলসির এন’গোলো কন্তেকে।

জার্মান কোচ ইওয়াখিম ল্যোভ আর অধিনায়ক মানুয়েল নয়ার জার্মানি আর বায়ার্ন মিউনিখের বাইরে ভোট দেননি কাউকে। ল্যোভের তিনটি ভোট পেয়েছেন ক্রোস, ওয়েজিল আর নয়ার। তেমনি নয়ার ভোট দিয়েছেন ক্রোস, ওয়েজিল আর বায়ার্নের লেভানদোস্কিকে। ভোটের সময় সরেস ছিলেন চিলির কোচ হুয়ান আন্তোনিও পিজ্জি। চিলির অধিনায়ক অ্যালেক্সিস সানচেসকে এক নম্বরে রেখেছেন তিনি। তবে দুই আর তিন নম্বর ভোটটি দেননি কাউকেই! ফিফার সদস্য হিসেবে বাংলাদেশের কোচ,অধিনায়ক আর গণমাধ্যমকর্মীর ভোটও আছে। নির্ধারিত সময়ে কোচ টম সেইন্টফিট আর অধিনায়ক মামুনুল ইসলামের ভোট দেয়ার দাবী করেছে বাফুফে। কিন্তু ফিফার তালিকায় নেই কোচ আর অধিনায়কের ভোট!

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা