kalerkantho

বুধবার। ১৯ জুন ২০১৯। ৫ আষাঢ় ১৪২৬। ১৫ শাওয়াল ১৪৪০

সিআর ৭ এর ৪

রাহেনুর ইসলাম

১৩ জানুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ | পড়া যাবে ৭ মিনিটে



সিআর ৭ এর ৪

বছরের সেরা ফুটবলারের পুরস্কার ফিফা দিচ্ছে ১৯৯১ সাল থেকে।

♦   ১৯৯১ থেকে ২০০৯ পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে ‘ফিফা ওয়ার্ল্ড প্লেয়ার অব দ্য ইয়ার’ নামে।

♦    ২০১০ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত ‘ফ্রান্স ফুটবল’ ম্যাগাজিনের সঙ্গে মিলে এর নাম ছিল ‘ ফিফা ব্যালন ডি অর’।

♦    ফ্রান্স ফুটবল ম্যাগাজিনের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর এ বছর থেকে নতুন নাম ‘দ্য বেস্ট’।

♦    সব মিলিয়ে লিওনেল মেসি ৫ এবং ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো জিতেছেন ৪ বার।

 

পাশাপাশি বসে তিনজন। উত্তেজনায় কাঁপছেন রীতিমতো। তারায় ঠাসা জুরিখের হলে পিনপতন নীরবতা। ঘোষক বর্ষসেরার নামটা বলতেই সবাই উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে। ফিফা বর্ষসেরা ফুটবলারের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের নিয়মিত ছবি, যা কিছুটা বদলাল এবার। এলেন না সেরা তিনে থাকা লিওনেল মেসি। তাই বলে তিন প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যের চেয়ারটা ফাঁকা থাকল না। ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো, আন্তোয়ান গ্রিয়েজমানের মধ্যের চেয়ারটায় বসে পড়লেন রোনালদোর বান্ধবী! তিনি নিশ্চিতই ছিলেন পুরস্কারটা পাচ্ছেন কে?

শুধু রোনালদোর বান্ধবী নন, পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে আসা ডিয়েগো ম্যারাডোনা, জিনেদিন জিদান, লুইস ফিগো, রবার্তো কার্লোস, কাফু, সের্হিহো রামোসদের সবাই নিশ্চিতই ছিলেন ‘দ্য বেস্ট’ হচ্ছেন রোনালদো। অনুষ্ঠানটা জাঁকজমক হলেও তাই উত্তেজনা ছিল না। ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো বছরটা শেষ করেছিলেন ব্যালন ডি অর জিতে। আর ২০১৭ সালের শুরুটা হলো ‘দ্য বেস্ট’ হয়ে। ৩৪.৫৪ শতাংশ ভোট পেয়ে ফিফার শুরু করা বর্ষসেরার নতুন পুরস্কার ‘দ্য বেস্ট’-এর প্রথম বিজয়ী রোনালদো। অনুষ্ঠানে না আসা মেসি পেয়েছেন ২৬.৪২ শতাংশ ভোট; আর গ্রিয়েজমান পেয়েছেন ৭.৫৩ শতাংশ। তাতে চতুর্থবারের মতো ফিফা বর্ষসেরা হলেন সিআর সেভেন।

মাঠের পারফরম্যান্স, গণমাধ্যমে গুজব—সব কিছু মিলিয়ে পুরস্কার প্রাপ্তিতে চোখ কপালে ওঠার মতো অবাক হননি রোনালদো। মেসিও হয়তো বুঝতে পেরেছিলেন, এবার তাঁকে দর্শকের ভূমিকায়ই থাকতে হবে! অনুষ্ঠানে শুধু মেসি নন, হাজির ছিলেন না বার্সেলোনার কেউই। ব্যাপারটা নিয়ে কথা শোনাতে ছাড়েননি রোনালদো থেকে শুরু করে অতিথি হয়ে আসা ডিয়েগো ম্যারাডোনাও। রোনালদো তো পুরস্কার বিতরণী মঞ্চেই বলে ফেলেন, ‘মেসি এখানে থাকলে ভালো হতো, সঙ্গে বার্সেলোনার অন্য খেলোয়াড়রাও। তবে সামনে ওদের কাপের ম্যাচ আছে, তাই কারণটা বোঝা যাচ্ছে।’ আর পুরস্কারটা উৎসর্গ করলেন সতীর্থদের, ‘আমি ক্যারিয়ারের সেরা সময়ে আছি। এ পুরস্কার আমি উৎসর্গ করছি আমার রিয়াল মাদ্রিদ ও পর্তুগাল দলের সদস্য ও কোচদের।’

সেপ ব্ল্যাটার দায়িত্বে থাকতে ফিফার এই অনুষ্ঠানে আসতেন না ডিয়েগো ম্যারাডোনা। ব্ল্যাটার যুগের অবসানের পর এবার সরব উপস্থিতি ছিল তাঁর। তিনিও একহাত নিয়েছেন মেসিকে, ‘মেসিকে নিয়ে আমি হতাশ। বাড়িতে টিভির সামনে থাকলেই লড়াই করা যায় না। লড়াই করতে হলে মুখোমুখি হতে হয়।’ বার্সার খেলোয়াড়দের অনুষ্ঠানে না আসায় অবশ্য ক্ষমা চেয়ে নিয়েছেন আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা, ‘এই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানিয়ে সম্মানিত করায় বার্সেলোনা অধিনায়ক হিসেবে ফিফাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। তবে ক্ষমা চাইছি আমাদের অনুপস্থিতির জন্য। কোপা দেল রের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের জন্য আমাদের প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে।’

ফিফা বর্ষসেরার এই ‘দ্য বেস্ট’ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে ভোটের ফলে। ফিফার সদস্য দেশগুলোর কোচ ও অধিনায়ক জানিয়েছেন নিজেদের মত। শ্রেষ্ঠত্বের ৫০ শতাংশ বিবেচিত হয়েছে এই ভোটের ফলে। বাকি ৫০ শতাংশে প্রতিফলিত গণমাধ্যম ও জনতার ভোট। বিশ্বজোড়া নির্বাচিত ২০০-র ওপর সাংবাদিক ও আপামর জনতার অনলাইন ভোটের ফলে। এসবের সমন্বিত ফলেই ‘দ্য বেস্ট’ রোনালদো। গতবছর সবাইকে চমকে ইউরোতে তাঁর দল পর্তুগাল জেতে শিরোপা। মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের সেই ফাইনালে ইনজুরির কারণে ২৬তম মিনিটে মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে যেতে হয়েছিল পর্তুগিজ সম্রাটকে। তবু ফাইনালে ঠিকই ফ্রান্সকে হারিয়ে দেয় রোনালদোর দল। মাঠে থাকতে না পারলেও ডাগআউটে কোচের ভূমিকায়ই ছিলেন শিরোপা জিততে উদগ্রিব রোনালদো। যা নিশ্চিতভাবে ফিফা বর্ষসেরার লড়াইয়ে এগিয়ে রেখেছিল তাঁকে। এগিয়ে রেখেছিল ক্লাব ফুটবলের মহাদেশীয় ও বৈশ্বিক শ্রেষ্ঠত্বও। রিয়াল মাদ্রিদকে চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপা জেতান রোনালদো। ১২ ম্যাচে ১৬ গোল করে যেখানে ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা তাঁর। তাই ফিফার সদস্য দেশগুলোর কোচ, অধিনায়ক কিংবা গণমাধ্যম ও জনতার ভোট গেছে রোনালদোর বাক্সেই।

ফিফা বছরের সেরা ফুটবলারের পুরস্কার দিচ্ছে ১৯৯১ সাল থেকে। ১৯৯১ থেকে ২০০৯ পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে ‘ফিফা ওয়ার্ল্ড প্লেয়ার অব দ্য ইয়ার’ নামে। ২০১০ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত ‘ফ্রান্স ফুটবল’ ম্যাগাজিনের সঙ্গে মিলে এর নাম ছিল ‘ ফিফা ব্যালন ডি অর’। ফ্রান্স ফুটবল ম্যাগাজিনের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর এ বছর থেকে নতুন নাম ‘দ্য বেস্ট’। রোনালদোর জয় দিয়ে শুরু হলো ‘দ্য বেস্ট’ যুগ। এর আগে ‘ফিফা ব্যালন ডি অর’ পুরস্কারটা দেওয়া হয়েছে ছয়বার। এটা চারবার লিওনেল মেসি (২০১০, ২০১১, ২০১২ ও ২০১৫) আর দুবার জিতেছেন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো (২০১৩, ২০১৪)। সবমিলিয়ে লিওনেল মেসি ৫ ও ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো জিতেছেন ৪ বার। বয়স ৩১ বছর হলেও যে ছন্দে খেলছেন তাতে আরো একবার পুরষ্কারটা পেতেই পারেন রোনালদো।

 

সুন্দরতম গোল

সুন্দরতম গোলের জন্য পুসকাস অ্যাওয়ার্ডটি ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোনালদোর হাত থেকে নিয়েছেন ফাইজ সাবরি। মালয়েশিয়ান লিগে পেনাং এফসির হয়ে অবিশ্বাস্য বাঁক খাওয়ানো ফ্রি কিক গোলটির সুবাদে পুরস্কারটি পেয়েছেন তিনি। ইংরেজিতে সাবলীল নন বলে পুরস্কার জিতলে কী বলতে হবে, এর একটা নোট লিখে এনেছিলেন মোবাইলে। মঞ্চে উঠে সেটা খুঁজে পেতে গলদঘর্মই হয়েছিলেন তিনি!

 

 

 

 

 

বর্ষসেরা ফুটবলার

ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো

বর্ষসেরা নারী ফুটবলার

কার্লি লয়েড

বছরের সেরা কোচ

ক্লাউদিও রানিয়েরি

নারী ফুটবল কোচ

সিলভিয়া নেইড

বছরের সেরা গোল

ফাইজ সাবরি

সেরা সমর্থক

লিভারপুল ও বরুশিয়া ডর্টমুন্ড

ফেয়ার প্লে ট্রফি

অ্যাতলেতিকো ন্যাসিওনাল

আজীবন সম্মাননা

ব্রাজিলিয়ান ফুটসাল তারকা ফালকাও

বর্ষসেরা দল

গোলরক্ষক : মানুয়েল নয়ার; 

ডিফেন্ডার : দানি আলভেস, জেরার্দ পিকে, সের্হিয়ো রামোস, মার্সেলো;

মিডফিল্ডার : লুকা মডরিচ, টোনি ক্রোস, আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা;

ফরোয়ার্ড : লিওনেল মেসি, লুই সুয়ারেস, ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো

 

 

সেরা কোচ

২০১৬ সালে লিস্টার সিটি নামের একটি ক্লাব ঘটায় বিশাল অঘটন। বাজির দরে যাদের শিরোপা জেতার সম্ভাবনা এলভিস প্রিসলির বেঁচে ফেরার চেয়েও কম ছিল, সেই লিস্টার ইংল্যান্ডের বাঘা বাঘা ক্লাবকে হারিয়ে প্রিমিয়ার লিগের চ্যাম্পিয়ন! অনুমিতভাবেই দলটির কোচ ক্লাউদিও রানিয়েরির হাতে উঠেছে সেরা কোচের পুরস্কার। আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি ডিয়েগো ম্যারাডোনা তুলে দিয়েছেন অ্যাওয়ার্ডটি।

 

 

 

 

 

 

মেয়েদের সেরা

গতবার ফিফা ব্যালন ডি অর পাওয়া কার্লি লয়েডের বাজিমাত এবারও। অলিম্পিকের বাছাই পর্ব ও মূল পর্বে একাধিক গোল করেন কার্লি। তাই অলিম্পিকে সুইডেনের কাছে হেরে কোয়ার্টার ফাইনালে যুক্তরাষ্ট্র বাদ পড়লেও ভোটে জিতেছেন তিনিই। পেছনে ফেলেছেন ব্রাজিলিয়ান মার্তা ও জার্মানির মেলানি বেহরিঙ্গারকে। গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতার হাত থেকে পুরস্কার নিয়ে অবাক কার্লিও, ‘আমি ভেবেছিলাম অলিম্পিক সোনা জেতায় ফেভারিট জার্মানির মেলানি। তাই পুরস্কারটা পেয়ে অবাকই হয়েছি। ভোটারদের কাছে কৃতজ্ঞ আমি।’

 

 

 

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা