kalerkantho

আসুন, খাবারেও সংযত হই

হাফেজ মাওলানা আবুল খায়ের মোহাম্মদ যাকারিয়া   

১৫ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



আসুন, খাবারেও সংযত হই

সংযম ও সাধনার মাস রমজান। রমজান মানুষকে সংযম শেখায়। মহানবী (সা.)-এর রোজা, ইফতার, সাহির ইত্যাদিতে সংযমের ছাপ ছিল স্পষ্ট। হাদিসে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) শুধু খেজুর বা শুধু পানি দিয়ে ইফতার করতেন। এটা যে তিনি শুধু খাদ্যাভাবের কারণে করতেন তা বলার সুযোগ নেই। তিনি এটা করতেন উম্মতকে সংযম ও সাধনা শেখানোর জন্য, তাদের ধৈর্য, কষ্ট ও সহিষ্ণুতা শেখানোর জন্য। কিন্তু আমাদের জীবনে কি এই সংযম দেখা যায়?

আমাদের দৈনন্দিন রোজা, ইফতার ও সাহিরতে কত সংযম ও আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের সাধনা রয়েছে তা ভেবে দেখা দরকার। রমজানে প্রতিটি পরিবারের ব্যয় প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যায়। এর কারণ দুটি—এক. রমজানে বাজারদর বৃদ্ধি পাওয়া; দুই. প্রতিটি পরিবারের আয়োজন বেড়ে যাওয়া। ইফতারে বাহারি আয়োজন ও সাহিরতে বিশেষ বিশেষ খাবার আমাদের ঐতিহ্যে পরিণত হচ্ছে। এটা অবশ্যই ঠিক, রমজানে পুষ্টিকর খাবারের বিশেষ প্রয়োজন রয়েছে, কিন্তু আমাদের খাবারের তালিকা দেখলে সহজেই বোঝা যায়, এখানে স্বাস্থ্যসচেতনতা ও আল্লাহর জন্য সংযম—দুটিরই অভাব রয়েছে; বরং সেখানে স্থান করে নিয়েছে বিলাসিতা, প্রদর্শন, অপচয় ও অপব্যয়।

আমি মনে করি, খাবারের এই বিপুল আয়োজন, অর্থহীন ব্যয় রমজানের উদ্দেশ্য ব্যাহত করে। অতিরিক্ত খাবার গ্রহণ মানুষের আত্মাকে দুর্বল করে ফেলে। অথচ রমজান আত্মশুদ্ধির মাস, আত্মাকে শক্তিশালী করার মাস। রাসুল (সা.) খাবারের চাহিদার এক ভাগ পরিমাণ খাদ্য, এক ভাগ পরিমাণ পানি এবং এক ভাগ পরিমাণ খালি রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। রমজানে অতিরিক্ত খাবার গ্রহণ ইবাদত ও আল্লাহর জিকিরে বাধা সৃষ্টি করে। সুতরাং আমাদের উচিত পরিমিত খাবার গ্রহণ করা; পাশাপাশি খাওয়ার জন্য বরাদ্দ খাবারের অতিরিক্ত অংশ অসহায় মানুষকে দান করা, যেন তারাও স্বস্তির সঙ্গে রমজানের ইবাদত-বন্দেগি করতে পারে। আল্লাহ আমাদের তাওফিক দিন। আমিন।

লেখক : অধ্যক্ষ, খুলনা আলিয়া কামিল মাদরাসা, খুলনা

মন্তব্য