kalerkantho

বুধবার । ২৬ জুন ২০১৯। ১২ আষাঢ় ১৪২৬। ২৩ শাওয়াল ১৪৪০

শবেবরাতে দেশীয় সংস্কৃতির উপাদান

রিদওয়ান আক্রাম   

২১ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শবেবরাতে দেশীয় সংস্কৃতির উপাদান

শবেবরাত একটি ধর্মীয় উৎসব। বাংলাদেশের মুসলমান সমাজের একটি বড় উৎসব হচ্ছে শবেবরাত। রাত আসার আগে দিনের বেলা থেকেই উৎসব শুরু হয়ে যায়। সকাল থেকেই ঘরে ঘরে রুটি ও হালুয়া তৈরির কাজ চলতে থাকে। এই দিনটির একটি মনোজ্ঞ বর্ণনা পাওয়া যায় সুসাহিত্যিক রাবেয়া খাতুনের বর্ণনায়, ‘একটা দিন বটে। গৃহিণীদের ভেতর চলত গুপ্ত প্রতিযোগিতা, কার রুটি কত বেশি গোল হয়। স্বাদ হয় হালুয়া, সেমাই, ফিরনি। মার সঙ্গে হাত লাগাতাম। দরজায় ফকির-মিসকিন এলে ছুটে রুটি বিলি করতাম।’

যদিও শবেবরাত প্রার্থনা করার রাত, তার পরও সব কিছু ছাপিয়ে ওঠে উৎসবের আমেজ। এই উৎসবে অনেকটা জায়গা দখল করে আছে খাদ্যসামগ্রী। এই দিনটিতে নানা খাদ্যের সমাহার দেখা যেত এবং এখনো যায়। গৃহিণীরা যেন এক কঠিন পরীক্ষায় অবতীর্ণ হন। এসব কিছুর ওপরই যেন নির্ভর করে সামাজিক মানমর্যাদা। ওই খাদ্যসামগ্রীর মাত্রা নির্ভর করে অনেকটা আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্যের ওপর। আর্থিক সংগতির সঙ্গে সঙ্গে সেসব খাবারের আধিক্য যেমন বাড়ে, তেমনি বাড়ে এর বৈচিত্র্য। গত শতাব্দীর প্রথম দিকে সিলেটে চাকরিজীবী অভিজাত কিন্তু স্বল্পবিত্তের একটি পরিবারের শবেবরাত পালনের একটি বর্ণনা পাওয়া যায় সাহিত্যিক সৈয়দ মুর্তুজা আলীর লেখায়, ‘ঈদ-শবেবরাতে গভীর রাত পর্যন্ত জেগে মা সেমাই (সমুসাপন ময়দার আবরণে নারকেল মোরা ও চিনি দিয়ে তৈরি মিষ্টি দ্রব্য), রুটি তৈরি করা হতো ময়দা ও হলুদ গুলে। এগুলো দিয়েই সমুসাপন তৈরি হতো। কখনো কখনো রুটি তেরি করা হতো চাপের গুঁড়া দিয়ে সমুসাতে; এভাবেই যুগে যুগে দেওয়া হতো ভাজা মাছ বা মাংস।’

কোনো কোনো স্থানে শবেবরাত উপলক্ষে মেলা বসে যায়। সাধারণত গ্রামাঞ্চলে এগুলো দেখা যায়। গায়ের মাঝখানে অথবা নদীর ধারে কিংবা বটগাছের নিচে এই মেলা হয়ে থাকে। যদিও শবেবরাত একটি ধর্মীয় উৎসব, নামাজ, রোজা এ উৎসবের মূল বিষয়; তবু পাড়াগাঁয়ের কিছু আচার-অনুষ্ঠানও এতে পালিত হয়। এসব ধর্মীয় অনুষ্ঠানের সঙ্গে মিশেছে দেশীয় সংস্কৃতির উপাদান। এ জন্য বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলে সেদিন বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠান হয়ে থাকে। সাঁঝের বেলায় মাটির প্রদীপ জ্বালানো, বিকেলে ঘোড়দৌড়, লাঠিখেলা প্রভৃতি। সন্ধ্যার পর থেকে শুরু হয় নামাজ পড়া। মসজিদে মসজিদে শবেবরাতের ওপর বিভিন্ন ওয়াজ মাহফিল হয়ে থাকে। বস্তুত এই রাতে নামাজই উৎসবের মূল বিষয়। মেয়েরাও ঘরে বসে নামাজ আদায় করে থাকে। তবে সারা দিন ধরে খাদ্যবস্তু তৈরির কাজে ব্যস্ত থাকার কারণে অনেকের পক্ষে সারা রাত ধরে ইবাদত-বন্দেগি করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। শবেবরাতে আরেকটি জিনিস লক্ষ করা যায়, ছোট ছোট বাচ্চারা পটকা, আতশবাজি পুড়িয়ে থাকে। যারা ইবাদতে মশগুল থাকে তাদের জন্য এটা একটা পীড়াদায়ক ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। এই রাতের মর্যাদা যাতে ক্ষুণ্ন না হয় আমাদের সবাইকে সে ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা