kalerkantho

বুধবার । ২৬ জুন ২০১৯। ১২ আষাঢ় ১৪২৬। ২৩ শাওয়াল ১৪৪০

দেশে দেশে শবেবরাত

আতাউর রহমান খসরু   

২১ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দেশে দেশে শবেবরাত

হিজরি বর্ষের শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতকে বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ বলেই বিশ্বাস করে মুসলিমরা। এই রাতে বিশ্বের প্রায় সব দেশের মুসলিমরা ইবাদত-জিকির-তিলাওয়াতে সময় অতিবাহিত করে। তারা রাত জেগে নামাজ পড়ে, আল্লাহর কাছে নিজের অতীত ভুলত্রুটি ও পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে। ক্ষমা চায় কবরবাসী আত্মীয়-স্বজনের জন্য। নিচে মুসলিম বিশ্বের কয়েকটি দেশের শবেবরাত উদ্‌যাপনের চিত্র তুলে ধরা হলো—

ইরান : শবেবরাতের আনুষ্ঠানিকতা প্রতিষ্ঠা ও প্রচারে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানই সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয়ভাবে পৃষ্ঠাপোষকতা করে থাকে। শবেবরাত উপলক্ষে ইরানের আয়োজনের মধ্যে রয়েছে—রাস্তা ও সড়কগুলোতে আলোকসজ্জা, রাস্তায় রাস্তায় মিষ্টান্ন ও শরবত বিতরণ, আত্মীয়-স্বজনদের আপ্যায়ন করা ইত্যাদি। ইরানিদের গুরুত্বের সঙ্গে শবেবরাত উদ্‌যাপনের কারণ হলো, তারা দিনটিকে তাদের দ্বাদশ ইমাম মাহদির জন্মদিন বলে বিশ্বাস করে। তারা শবেবরাতকে আন্তর্জাতিক দিবস হিসেবেও দাবি করে থাকে।

ইরাক : ইরাকের শিয়া মুসলিমরা শবেবরাতে হজরত হুসাইন বিন আলী (রা.)-এর কবর জিয়ারতকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করে। কেননা হজরত হুসাইন (রা.) শাবানের ১৫ তারিখ কারবালায় হাজির হয়েছিলেন। তবে ইরাকের সাধারণ মুসলিমরা বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো রাত জেগে ইবাদত করে। তারা নামাজ আদায় ও জিকিরে সময় অতিবাহিত করে। শেষরাতে দোয়া ও মোনাজাত করে।

মিসর :  মিসরের ওয়াকফ মন্ত্রণালয় মধ্য শাবানের রাতে বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। প্রথমেই আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান শায়খ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বক্তব্য দেন। এরপর আরো কয়েকজন আলোচনা করেন। আলোচনায় তাঁরা শবেবরাতের গুরুত্ব, মুসলিম উম্মাহর অবদান ও সম্ভাবনা, আগামী দিনের করণীয় ইত্যাদি বিষয়ে কথা বলেন।

বাহরাইন : নানা অনুষ্ঠান আয়োজনের মধ্য দিয়ে শবেবরাত উদ্‌যাপন করে বাহরাইনের মুসলিমরা। শবেবরাত উপলক্ষে বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন করে থাকে তারা। রাতে দল বেঁধে এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় যাওয়া বাহরাইনি মুসলিমদের একটি ঐতিহ্য। এ সময় তারা পরস্পরকে উপহার উপঢৌকন দেয়।

সৌদি আরব : ব্যক্তিগত ইবাদত-বন্দেগির পাশাপাশি সৌদি আরবের নাগরিকরা শিশুদের জন্য প্রতিযোগিতা ও আনন্দ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে মধ্য শাবানের রাতে। শিশুরা ঐতিহ্যবাহী সংগীত গেয়ে এই পবিত্র রজনীকে স্বাগত জানায়।

ভারত-পাকিস্তান : ভারতীয় মুসলিমরা এই রাতকে শবেবরাত নামে অভিহিত করে। এই রাতে এ অঞ্চলের মুসলিমরা রাত জেগে নামাজ ও কোরআন তিলাওয়াত করে। তারা দোয়া ও জিকিরে সময় অতিবাহিত করে। বিগত দিনের পাপের ক্ষমা প্রার্থনা করে। ১৫ শাবান সবাই মৃত আত্মীয়-স্বজনের কবর জিয়ারত করে ভারতীয় মুসলিমরা। (সূত্র : বিভিন্ন ওয়েবসাইট)

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা